দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট পৌর আমের বাজারে প্রতিদিন প্রায় অর্ধকোটি টাকার আম বিক্রি হচ্ছে। রুপালি, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, হিমসাগর, বারী-৪, বারী-১, মিশ্রি ও লাখনার মতো জনপ্রিয় সব আম বিক্রি হচ্ছে এই মৌসুমি হাটে, যা ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাকে মুখরিত হয়ে উঠেছে। ফজরের নামাজের পর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত এই হাটের মূল বেচাকেনা চলে। মাত্র তিন সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া এই হাটে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ আম আমদানি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হাটের ইজারাদার মশিয়ার রহমান। ঘোড়াঘাটের ঐতিহ্যবাহী মিশ্রি আমের বিশেষ কদর থাকায়, আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা থেকে পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা এখানে ভিড় জমাচ্ছেন।
আমের পাশাপাশি লিচু, কাঁঠাল ও লটকনও বিক্রি হচ্ছে। এ বছর আমের বাম্পার ফলন হলেও বাজার দর নিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বাগান মালিক ও আড়তদারদের অভিযোগ, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং দেশের দূরদূরান্ত থেকে পর্যাপ্ত পাইকার না আসায় তারা আশানুরূপ দাম পাচ্ছেন না। দিন ও আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে আমের দাম ঘন ঘন ওঠানামা করছে। তবে, খুচরা ক্রেতা ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা ন্যায্যদামে সুস্বাদু আম কিনতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। চাহিদার কারণে আড়তদার ও বেপারিরা এখান থেকে আম প্যাকেটজাত করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এই মৌসুমি ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে; অনেক বেকার যুবক ও মৌসুমি ব্যবসায়ী আম বাণিজ্যে যুক্ত হয়েছেন। বাজারের পাশাপাশি সড়কের পাশেও গড়ে উঠেছে অসংখ্য অস্থায়ী দোকান, যেখানে বাগান মালিকরা গাছ থেকে আম পেড়ে সরাসরি ক্যারেটে করে সাজিয়ে রাখছেন, যা দূরপাল্লার যাত্রী ও পর্যটকদের আকর্ষণ করছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এই অঞ্চলের আম দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যাচ্ছে। এবার সরকারি ব্যবস্থাপনায় ডাক বিভাগের গাড়ি এবং ট্রেনের মাধ্যমে কম খরচে বিভিন্ন জেলায় আম পরিবহনের সুবিধা পাওয়ায় চাষিরা উপকৃত হচ্ছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আশা, মৌসুমের শেষ নাগাদ কৃষকরা আমের সঠিক মূল্য পাবেন।
রিপোর্টারের নাম 























