যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এক কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন। তার মন্ত্রিসভার অনুগামীরা চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ তাকে একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণার জন্য চাপ দিচ্ছেন, যার মাধ্যমে তিনি পদত্যাগ করতে পারেন। এই সময়ের মধ্যে কোনো সিদ্ধান্ত না নিলে, দল তাকে জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়ার পথেও যেতে পারে বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি মেকার্সফিল্ড উপনির্বাচনে লেবার পার্টির প্রার্থী অ্যান্ডি বার্নহামের বড় জয় এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই বিজয়ের পর বার্নহাম আগামী সোমবার লন্ডনে সংসদ সদস্যদের (এমপি) সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। লেবার পার্টির অনেক সদস্যই আশা করছেন, বার্নহাম শীঘ্রই দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেন। প্রায় ২০০ এমপি বার্নহামের পক্ষে মনোনয়নপত্রে সই করতে প্রস্তুত বলে খবর পাওয়া গেছে, যদিও তার সমর্থকেরা কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই তার বিজয় নিশ্চিত করতে চান।
অন্যদিকে, গত শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী স্টারমার তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন এবং লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘যদি নেতৃত্বের লড়াই হয়, তবে আমি অবশ্যই তাতে অংশ নেব।’ তবে তিনি সতর্ক করেছেন যে, এই মুহূর্তে এমন কোনো লড়াই দলকে চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে ফেলতে পারে।
দলের উচ্চমহলে স্টারমারের বিদায় এখন প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে। পরিবহন মন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডার সহ একাধিক মন্ত্রী এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এছাড়াও, এড মিলিব্যান্ড ও শাবানা মাহমুদ আগেই স্টারমারকে পদত্যাগের সময়সূচি ঠিক করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। লেবার পার্টির প্রবীণ দুই নেতা ডেভিড ব্লানকেট ও হ্যারিয়েট হারম্যানও নতুন নেতৃত্বের জন্য নির্দিষ্ট সময় ঘোষণার দাবি তুলেছেন।
লেবার পার্টির জ্যেষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, স্টারমার যদি এই সপ্তাহের মধ্যে পদত্যাগ বা ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত না দেন, তবে আগামী মঙ্গলবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে বড় ধরনের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা রয়েছে। একজন জ্যেষ্ঠ নেতা মন্তব্য করেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সামনে এখন দুটি পথ খোলা আছে: হয় তিনি প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রতি মন্ত্রিসভার মন্ত্রীদের খোলামেলা সমর্থন দেওয়ার সুযোগ দেবেন, অথবা বরিস জনসনের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন, যেখানে অল্প সময়ের মধ্যে তিনবার শিক্ষামন্ত্রী বদলাতে হয়েছিল।’ এই পরিস্থিতিতে, স্টারমারের অনুগামীরা অ্যান্ডি বার্নহামের জয়রথ থামাতে বিকল্প হিসেবে চিফ সেক্রেটারি ড্যারেন জোন্সের পক্ষে সমর্থন বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। তবে ড্যারেন জোন্স এখনো এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
রিপোর্টারের নাম 




















