ঢাকা ০৩:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

ইরানের কাছে হার মানলেন ট্রাম্প: দাবি ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের’, ফল ভিন্ন

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন শুরু করেছিলেন, তখন তার বাগাড়ম্বর ছিল, ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে না।’ কিন্তু ১৫ সপ্তাহ পর যখন দুই পক্ষের সম্পাদিত চুক্তি প্রকাশিত হলো, তখন এটি যেন যুক্তরাষ্ট্রেরই আত্মসমর্পণের দলিল বলে মনে হলো। অপরদিকে বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক শক্তির আগ্রাসন থেকে এই চুক্তির মাধ্যমে ইরানিরা শুধু বেঁচেই ফেরেননি, বরং অনেকাংশেই তা তাদের উদযাপনের উপলক্ষ এনে দিয়েছে।

চুক্তির শুরুতেই বলা হয়েছে, তেহরান তার জ্বালানি তেল বিক্রির মাধ্যমে আয় করা কোটি কোটি ডলার তুলতে পারবে। এর মাধ্যমে ট্রাম্পের ভাষায় ‘ইরানের পরমাণু কর্মসূচি আটকে রাখার হাতিয়ারকে’ এই চুক্তির মধ্য দিয়ে নিষ্ক্রিয় করা হচ্ছে।

একজন প্রেসিডেন্ট যিনি সবসময় চাপ প্রয়োগকে সবকিছুর ওপর গুরুত্ব দেন, তার পক্ষ থেকে চুক্তিতে এমন শর্ত যোগ হওয়া আসলেই রহস্যপূর্ণ। আবার স্বাক্ষরিত চুক্তিটিকে ‘সমঝোতা স্মারক’ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সময়ের ব্যবধানে হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা হিসেবে চালানোর সম্ভাবনা ফুটে উঠেছে। এটি আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর কয়েক সপ্তাহ আগের বক্তব্যের সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক, যিনি বলেছিলেন, প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা গ্রহণযোগ্য হবে না।

বুধবার স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমে বছরের পর বছর জব্দ থাকা ইরানের বিপুল ডলার দেশটি তার হাতে পেতে যাচ্ছে। ট্রাম্প বলছেন, ‘উত্তম আচরণের’ বদলাতেই এই সম্পদ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এমন ছাড়ই ১১ বছর আগে আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা দিয়েছিলেন, যার তীব্র সমালোচনা ট্রাম্প সবসময় করে আসছিলেন।

সাংবাদিকদের কাছে ট্রাম্প বারবারই বড় গলায় বলে এসেছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে আমেরিকা বিপুল সফলতা অর্জন করেছে। এটি ইরানের নৌবহর সম্পূর্ণ ডুবিয়ে দিয়েছে, ক্ষুদ্র বিমান বাহিনীকে নিশ্চিহ্ন করেছে, ইরানের বিপুল প্রতিরক্ষা শিল্পকেন্দ্র ও মিসাইল নিক্ষেপক যন্ত্র ধ্বংস করেছে। কিন্তু যুদ্ধের শুরুতে এটিই ট্রাম্পের লক্ষ্য ছিল না। ইরানে আগ্রাসনের শুরুতে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, তিনি ইরানের পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করতে চান, ক্ষমতাসীনদের পতন চান এবং দেশটির তেল সম্পদের ওপর আমেরিকার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চান।

পুরো চুক্তি প্রকাশ্যে আসার পর ট্রাম্পের দলীয় কট্টরপন্থিরা তাদের আপত্তি জানাচ্ছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরাকে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য ইরানের নতুন গোপন সেল গঠন

ইরানের কাছে হার মানলেন ট্রাম্প: দাবি ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের’, ফল ভিন্ন

আপডেট সময় : ১২:৫৬:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন শুরু করেছিলেন, তখন তার বাগাড়ম্বর ছিল, ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে না।’ কিন্তু ১৫ সপ্তাহ পর যখন দুই পক্ষের সম্পাদিত চুক্তি প্রকাশিত হলো, তখন এটি যেন যুক্তরাষ্ট্রেরই আত্মসমর্পণের দলিল বলে মনে হলো। অপরদিকে বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক শক্তির আগ্রাসন থেকে এই চুক্তির মাধ্যমে ইরানিরা শুধু বেঁচেই ফেরেননি, বরং অনেকাংশেই তা তাদের উদযাপনের উপলক্ষ এনে দিয়েছে।

চুক্তির শুরুতেই বলা হয়েছে, তেহরান তার জ্বালানি তেল বিক্রির মাধ্যমে আয় করা কোটি কোটি ডলার তুলতে পারবে। এর মাধ্যমে ট্রাম্পের ভাষায় ‘ইরানের পরমাণু কর্মসূচি আটকে রাখার হাতিয়ারকে’ এই চুক্তির মধ্য দিয়ে নিষ্ক্রিয় করা হচ্ছে।

একজন প্রেসিডেন্ট যিনি সবসময় চাপ প্রয়োগকে সবকিছুর ওপর গুরুত্ব দেন, তার পক্ষ থেকে চুক্তিতে এমন শর্ত যোগ হওয়া আসলেই রহস্যপূর্ণ। আবার স্বাক্ষরিত চুক্তিটিকে ‘সমঝোতা স্মারক’ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সময়ের ব্যবধানে হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা হিসেবে চালানোর সম্ভাবনা ফুটে উঠেছে। এটি আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর কয়েক সপ্তাহ আগের বক্তব্যের সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক, যিনি বলেছিলেন, প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা গ্রহণযোগ্য হবে না।

বুধবার স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমে বছরের পর বছর জব্দ থাকা ইরানের বিপুল ডলার দেশটি তার হাতে পেতে যাচ্ছে। ট্রাম্প বলছেন, ‘উত্তম আচরণের’ বদলাতেই এই সম্পদ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এমন ছাড়ই ১১ বছর আগে আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা দিয়েছিলেন, যার তীব্র সমালোচনা ট্রাম্প সবসময় করে আসছিলেন।

সাংবাদিকদের কাছে ট্রাম্প বারবারই বড় গলায় বলে এসেছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে আমেরিকা বিপুল সফলতা অর্জন করেছে। এটি ইরানের নৌবহর সম্পূর্ণ ডুবিয়ে দিয়েছে, ক্ষুদ্র বিমান বাহিনীকে নিশ্চিহ্ন করেছে, ইরানের বিপুল প্রতিরক্ষা শিল্পকেন্দ্র ও মিসাইল নিক্ষেপক যন্ত্র ধ্বংস করেছে। কিন্তু যুদ্ধের শুরুতে এটিই ট্রাম্পের লক্ষ্য ছিল না। ইরানে আগ্রাসনের শুরুতে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, তিনি ইরানের পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করতে চান, ক্ষমতাসীনদের পতন চান এবং দেশটির তেল সম্পদের ওপর আমেরিকার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চান।

পুরো চুক্তি প্রকাশ্যে আসার পর ট্রাম্পের দলীয় কট্টরপন্থিরা তাদের আপত্তি জানাচ্ছেন।