ঢাকা ০৩:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সাইবার সুরক্ষা আইন: নাগরিক অধিকার ও ডিজিটাল নিরাপত্তা রক্ষার নতুন দিগন্ত

তথ্যপ্রযুক্তির অভাবনীয় বিকাশ আমাদের জীবনকে যেমন সহজ ও গতিশীল করেছে, তেমনই এর অন্ধকার দিকটিও প্রতিদিন নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, ডিপফেক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি বিভ্রান্তিকর অডিও-ভিডিও এবং সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত অপপ্রচার আজ শুধু ব্যক্তিগত বা সামাজিক স্তরেই নয়, বরং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বাস্তবতায় বর্তমান সরকার আগের আইনটি সংশোধন করে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ নামে একটি যুগোপযোগী আইন প্রণয়নের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত সময়োচিত। তবে যেকোনো সাইবার আইনের সাফল্য নির্ভর করে এর প্রযুক্তিগত কার্যকারিতা এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষার ভারসাম্যের ওপর।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খানের এক নোটিসের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের যে রূপরেখা দিয়েছেন, তাতে কয়েকটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্ব পেয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে যে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো’ রক্ষার কথা বলা হয়েছে, তার বড় শত্রু হলো বটনেট। হ্যাকার যখন তার এই লাখ লাখ ‘জম্বি’ ডিভাইসকে একসঙ্গে নির্দেশ দেয় কোনো সরকারি বা ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার জন্য, তখন অতিরিক্ত ট্রাফিকের চাপে ওই ওয়েবসাইটটি ক্র্যাশ করে বা বন্ধ হয়ে যায়। একে (DDoS) আক্রমণ বলা হয়। সাধারণ মানুষ যখন দেখে কোনো একটি পোস্টে ১০ হাজার লাইক এবং পাঁচ হাজার শেয়ার হয়েছে, তখন তারা অবচেতনভাবেই ধরে নেয় তথ্যটি সত্য। বটবাহিনী এই মনস্তাত্ত্বিক সুযোগটিই নেয়। কোনো একজন মানুষের পক্ষে একা বসে হাজার হাজার মানুষের চরিত্রহনন করা সম্ভব নয়। কিন্তু এই বট নেটওয়ার্কের কারণে একজন মাত্র দুষ্কৃতকারী ঘরে বসেই পুরো একটি সমাজ বা রাষ্ট্রের ভেতর বিশৃঙ্খলা বা দাঙ্গা লাগিয়ে দিতে পারে। এই বট অ্যাকাউন্টগুলো ভিপিএন এবং ভুয়া আইপি ব্যবহার করে চালানো হয় বলে এদের মূল হোতাকে খুঁজে বের করা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জন্য বেশ জটিল হয়ে দাঁড়ায়।

নতুন আইনের আওতায় মেটা (ফেসবুক), এক্স (টুইটার) বা ইউটিউবের মতো আন্তর্জাতিক টেক জায়ান্টগুলোকে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ক্ষতিকর বা আপত্তিকর কনটেন্ট অপসারণে বাধ্য করার আইনি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, ‘সাইবার স্পেস’-এর পরিধি বাড়িয়ে বর্তমানের ভার্চুয়াল ও অনলাইনভিত্তিক সব প্ল্যাটফর্মকে এর অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরাকে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য ইরানের নতুন গোপন সেল গঠন

সাইবার সুরক্ষা আইন: নাগরিক অধিকার ও ডিজিটাল নিরাপত্তা রক্ষার নতুন দিগন্ত

আপডেট সময় : ১০:৩৩:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

তথ্যপ্রযুক্তির অভাবনীয় বিকাশ আমাদের জীবনকে যেমন সহজ ও গতিশীল করেছে, তেমনই এর অন্ধকার দিকটিও প্রতিদিন নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, ডিপফেক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি বিভ্রান্তিকর অডিও-ভিডিও এবং সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত অপপ্রচার আজ শুধু ব্যক্তিগত বা সামাজিক স্তরেই নয়, বরং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বাস্তবতায় বর্তমান সরকার আগের আইনটি সংশোধন করে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ নামে একটি যুগোপযোগী আইন প্রণয়নের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত সময়োচিত। তবে যেকোনো সাইবার আইনের সাফল্য নির্ভর করে এর প্রযুক্তিগত কার্যকারিতা এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষার ভারসাম্যের ওপর।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খানের এক নোটিসের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের যে রূপরেখা দিয়েছেন, তাতে কয়েকটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্ব পেয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে যে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো’ রক্ষার কথা বলা হয়েছে, তার বড় শত্রু হলো বটনেট। হ্যাকার যখন তার এই লাখ লাখ ‘জম্বি’ ডিভাইসকে একসঙ্গে নির্দেশ দেয় কোনো সরকারি বা ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার জন্য, তখন অতিরিক্ত ট্রাফিকের চাপে ওই ওয়েবসাইটটি ক্র্যাশ করে বা বন্ধ হয়ে যায়। একে (DDoS) আক্রমণ বলা হয়। সাধারণ মানুষ যখন দেখে কোনো একটি পোস্টে ১০ হাজার লাইক এবং পাঁচ হাজার শেয়ার হয়েছে, তখন তারা অবচেতনভাবেই ধরে নেয় তথ্যটি সত্য। বটবাহিনী এই মনস্তাত্ত্বিক সুযোগটিই নেয়। কোনো একজন মানুষের পক্ষে একা বসে হাজার হাজার মানুষের চরিত্রহনন করা সম্ভব নয়। কিন্তু এই বট নেটওয়ার্কের কারণে একজন মাত্র দুষ্কৃতকারী ঘরে বসেই পুরো একটি সমাজ বা রাষ্ট্রের ভেতর বিশৃঙ্খলা বা দাঙ্গা লাগিয়ে দিতে পারে। এই বট অ্যাকাউন্টগুলো ভিপিএন এবং ভুয়া আইপি ব্যবহার করে চালানো হয় বলে এদের মূল হোতাকে খুঁজে বের করা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জন্য বেশ জটিল হয়ে দাঁড়ায়।

নতুন আইনের আওতায় মেটা (ফেসবুক), এক্স (টুইটার) বা ইউটিউবের মতো আন্তর্জাতিক টেক জায়ান্টগুলোকে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ক্ষতিকর বা আপত্তিকর কনটেন্ট অপসারণে বাধ্য করার আইনি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, ‘সাইবার স্পেস’-এর পরিধি বাড়িয়ে বর্তমানের ভার্চুয়াল ও অনলাইনভিত্তিক সব প্ল্যাটফর্মকে এর অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।