ঢাকা ০৮:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান প্রাথমিক সমঝোতা: চূড়ান্ত রূপদানে যেসব বাধা

কয়েক সপ্তাহের নিবিড় আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছালেও, এই চুক্তিকে চূড়ান্ত রূপ দেওয়া কতটা জটিল হতে পারে, তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। উভয় পক্ষ একটি ১৪ অনুচ্ছেদের সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছে, যা শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা থাকলেও, জি-৭ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আগেই এতে সই করেন।

এই সমঝোতার ফলে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি ‘চূড়ান্ত চুক্তি’ নিয়ে আলোচনার পথ প্রশস্ত হয়েছে, যার সময়সীমা পারস্পরিক সম্মতিতে বাড়ানো যেতে পারে। প্রাথমিক চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হবে এবং ইরানের ওপর আরোপিত ‘সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা’ প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনা শুরু হবে।

এছাড়াও, সমঝোতা স্মারকে ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের (৩০ হাজার কোটি) তহবিল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর বিনিময়ে তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার পূর্ব অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

তবে, এই প্রাথমিক চুক্তি চূড়ান্ত নয় বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যদি এটি ব্যর্থ হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। অন্যদিকে, ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ, যিনি ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে এই চুক্তিতে সম্মত হয়েছেন, তিনি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তার অবিশ্বাস এখনো রয়ে গেছে এবং ইরান সতর্ক অবস্থানে আছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আলোচনাকে বিপন্ন করতে পারে এমন তিনটি প্রধান হুমকির মধ্যে অন্যতম হলো ইসরাইলের লেবানন অভিযান। প্রাথমিক চুক্তি ঘোষণার সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানান, উভয় পক্ষ লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। চুক্তিতে লেবাননের ‘ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব’ নিশ্চিত করার বিষয়টিও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ট্রাম্প জি-সেভেন সম্মেলনে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনা করেছেন, যা এই সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদ ও মঙ্গলে দ্রুত অভিযানের জন্য নতুন রোভার পরীক্ষা করছে নাসা

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান প্রাথমিক সমঝোতা: চূড়ান্ত রূপদানে যেসব বাধা

আপডেট সময় : ০২:৩৫:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

কয়েক সপ্তাহের নিবিড় আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছালেও, এই চুক্তিকে চূড়ান্ত রূপ দেওয়া কতটা জটিল হতে পারে, তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। উভয় পক্ষ একটি ১৪ অনুচ্ছেদের সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছে, যা শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা থাকলেও, জি-৭ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আগেই এতে সই করেন।

এই সমঝোতার ফলে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি ‘চূড়ান্ত চুক্তি’ নিয়ে আলোচনার পথ প্রশস্ত হয়েছে, যার সময়সীমা পারস্পরিক সম্মতিতে বাড়ানো যেতে পারে। প্রাথমিক চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হবে এবং ইরানের ওপর আরোপিত ‘সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা’ প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনা শুরু হবে।

এছাড়াও, সমঝোতা স্মারকে ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের (৩০ হাজার কোটি) তহবিল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর বিনিময়ে তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার পূর্ব অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

তবে, এই প্রাথমিক চুক্তি চূড়ান্ত নয় বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যদি এটি ব্যর্থ হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। অন্যদিকে, ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ, যিনি ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে এই চুক্তিতে সম্মত হয়েছেন, তিনি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তার অবিশ্বাস এখনো রয়ে গেছে এবং ইরান সতর্ক অবস্থানে আছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আলোচনাকে বিপন্ন করতে পারে এমন তিনটি প্রধান হুমকির মধ্যে অন্যতম হলো ইসরাইলের লেবানন অভিযান। প্রাথমিক চুক্তি ঘোষণার সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানান, উভয় পক্ষ লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। চুক্তিতে লেবাননের ‘ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব’ নিশ্চিত করার বিষয়টিও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ট্রাম্প জি-সেভেন সম্মেলনে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনা করেছেন, যা এই সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।