বিশ্বের সর্বাধিক দর্শনার্থীপ্রাপ্ত জাদুঘর ‘লুভর মিউজিয়াম’ বর্তমানে অর্থ সংকটে ভুগছে। জরাজীর্ণ অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল জোগাতে হিমশিম খাচ্ছে এই প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি এক শুনানিতে জাদুঘরটির নতুন পরিচালক স্বয়ং এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতির কথা স্বীকার করেছেন। এর মধ্যেই প্রায় ১০ কোটি ডলার মূল্যের রাজকীয় অলংকার চুরির একটি ঘটনা জাদুঘরের অভ্যন্তরীণ সংকটকে আরও সামনে এনেছে।
লুভরের নতুন পরিচালক ক্রিস্তফ লেরিবো সিনেট কমিটির সামনে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এর রাজকীয় মহিমান্বিত রূপ এবং কর্মীদের প্রতিদিনের অক্লান্ত পরিশ্রম সত্ত্বেও, লুভর মিউজিয়াম আসলে এখন ধুঁকছে। এর ভেতরের বিভিন্ন সরঞ্জাম ও অবকাঠামোর কার্যকারিতা একদম শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে।’ শিল্প ইতিহাসবিদ লেরিবো, যিনি অষ্টাদশ শতাব্দীর শিল্পকলা বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত, গত ফেব্রুয়ারিতে লুভরের হাল ধরেন। এর কিছুদিন আগে, দিনের আলোয় জাদুঘর থেকে রাজকীয় অলংকার চুরির এক ঘটনা জাদুঘরের দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে উন্মোচিত করেছিল, যার জেরে তৎকালীন প্রধান পদত্যাগ করেন।
সেন্ট্রাল প্যারিসে সেন নদীর তীরে অবস্থিত এই বিশাল প্রাসাদটি, যা একসময় ফরাসি রাজপরিবারের বাসস্থান ছিল, বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং দর্শনার্থী-মুখর জাদুঘর। লিওনার্দো দা ভিঞ্চির বিখ্যাত চিত্রকর্ম ‘মোনা লিসা’র মতো অমূল্য শিল্পকর্মের এই সংগ্রহশালা প্রতি বছর প্রায় ৯০ লাখ মানুষ পরিদর্শনে আসেন। লেরিবো আরও জানান, ‘ভবন সংক্রান্ত জরুরি সমস্যাগুলো ক্রমাগত জমা হচ্ছে এবং আমরা বড় ধরনের বিনিয়োগ সংকটের মুখোমুখি হয়েছি।’ সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক ধর্মঘটের কারণে বিপুল রাজস্ব ক্ষতি, প্রায় ১ কোটি ইউরোর (১ কোটি ১৭ লাখ ডলার) টিকিট জালিয়াতি, ভবনে পানি চুইয়ে পড়া এবং রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত নানা জটিলতায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে এই বিশ্বখ্যাত শিল্পতীর্থ।
রিপোর্টারের নাম 
























