ঢাকা ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

জাতিসংঘের কালো তালিকাভুক্ত ইসরাইলি সেনাবাহিনী: শিশুদের বিরুদ্ধে গুরুতর লঙ্ঘনের অভিযোগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪৮:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

টানা তৃতীয় বছরের মতো ইসরাইলি সশস্ত্র ও নিরাপত্তা বাহিনীকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে জাতিসংঘ। সশস্ত্র সংঘাতে শিশুদের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত গুরুতর লঙ্ঘনের ঘটনা রেকর্ড পরিমাণে পৌঁছেছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে ইসরাইল ও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘২০২৫ সালে, সশস্ত্র সংঘাতে শিশুদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। ওই বছর ৩৮ হাজার ৫৫৮টি গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা যাচাই করেছে জাতিসংঘ। এর মধ্যে ১৫ হাজার ৪৯৩ জন ছেলে, ৭ হাজার ৯৯০ জন মেয়ে এবং ৬৯১ জনের লিঙ্গ শনাক্ত করা যায়নি। শিশু ও সশস্ত্র সংঘাত সংক্রান্ত এই ম্যান্ডেট চালুর পর এত বেশি সংখ্যক শিশু কখনো এমন লঙ্ঘনের শিকার হয়নি।’

জাতিসংঘের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শিশু ও সশস্ত্র সংঘাত বিষয়ক ম্যান্ডেটের ৩০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবার সরকারি বাহিনী ‘শিশুদের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রধান অভিযুক্ত’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, শিশুদের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী দেশগুলোর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ইসরাইল সরকার, এরপরই রয়েছে রাশিয়া।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আগের বছরের তুলনায় শিশু নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনা যথাক্রমে ৩৪ ও ১০ শতাংশ বেড়েছে। ‘সবচেয়ে বেশি গুরুতর লঙ্ঘনের ঘটনা যাচাই করা হয়েছে ইসরাইল ও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে। সেখানে এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে ১২ হাজার ৪৪৫টি। এছাড়া ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে ৪ হাজার ১১৪টি, নাইজেরিয়ায় ২ হাজার ৫৬০টি, মিয়ানমারে ২ হাজার ২০৩টি এবং সোমালিয়ায় ২ হাজার ১৯৫টি ঘটনা ঘটেছে।’

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ৬ হাজার ২৬৬ শিশু নিহত হয়েছে, ৭ হাজার ৯৫৮ জন আহত হয়েছে, ৬ হাজার ৬০৭ জনকে সশস্ত্র গোষ্ঠীতে নিয়োগ দেয়া হয়েছে, ৮ হাজার ৩২২ জন মানবিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং ৪ হাজার ৫৭৩ জন শিশুকে অপহরণ করা হয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই ব্যাপকতায় ‘মর্মাহত’ হয়েছেন এবং গাজা উপত্যকায় চলমান গুরুতর লঙ্ঘনের ঘটনায় স্তম্ভিত বলে জানিয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেমের সম্পর্কে ইতি টেনেছেন শর্বরী ও সানি!

জাতিসংঘের কালো তালিকাভুক্ত ইসরাইলি সেনাবাহিনী: শিশুদের বিরুদ্ধে গুরুতর লঙ্ঘনের অভিযোগ

আপডেট সময় : ১০:৪৮:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

টানা তৃতীয় বছরের মতো ইসরাইলি সশস্ত্র ও নিরাপত্তা বাহিনীকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে জাতিসংঘ। সশস্ত্র সংঘাতে শিশুদের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত গুরুতর লঙ্ঘনের ঘটনা রেকর্ড পরিমাণে পৌঁছেছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে ইসরাইল ও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘২০২৫ সালে, সশস্ত্র সংঘাতে শিশুদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। ওই বছর ৩৮ হাজার ৫৫৮টি গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা যাচাই করেছে জাতিসংঘ। এর মধ্যে ১৫ হাজার ৪৯৩ জন ছেলে, ৭ হাজার ৯৯০ জন মেয়ে এবং ৬৯১ জনের লিঙ্গ শনাক্ত করা যায়নি। শিশু ও সশস্ত্র সংঘাত সংক্রান্ত এই ম্যান্ডেট চালুর পর এত বেশি সংখ্যক শিশু কখনো এমন লঙ্ঘনের শিকার হয়নি।’

জাতিসংঘের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শিশু ও সশস্ত্র সংঘাত বিষয়ক ম্যান্ডেটের ৩০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবার সরকারি বাহিনী ‘শিশুদের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রধান অভিযুক্ত’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, শিশুদের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী দেশগুলোর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ইসরাইল সরকার, এরপরই রয়েছে রাশিয়া।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আগের বছরের তুলনায় শিশু নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনা যথাক্রমে ৩৪ ও ১০ শতাংশ বেড়েছে। ‘সবচেয়ে বেশি গুরুতর লঙ্ঘনের ঘটনা যাচাই করা হয়েছে ইসরাইল ও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে। সেখানে এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে ১২ হাজার ৪৪৫টি। এছাড়া ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে ৪ হাজার ১১৪টি, নাইজেরিয়ায় ২ হাজার ৫৬০টি, মিয়ানমারে ২ হাজার ২০৩টি এবং সোমালিয়ায় ২ হাজার ১৯৫টি ঘটনা ঘটেছে।’

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ৬ হাজার ২৬৬ শিশু নিহত হয়েছে, ৭ হাজার ৯৫৮ জন আহত হয়েছে, ৬ হাজার ৬০৭ জনকে সশস্ত্র গোষ্ঠীতে নিয়োগ দেয়া হয়েছে, ৮ হাজার ৩২২ জন মানবিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং ৪ হাজার ৫৭৩ জন শিশুকে অপহরণ করা হয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই ব্যাপকতায় ‘মর্মাহত’ হয়েছেন এবং গাজা উপত্যকায় চলমান গুরুতর লঙ্ঘনের ঘটনায় স্তম্ভিত বলে জানিয়েছেন।