ঢাকা ০৭:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

মৃত্তিকা ও শেকড়ের সন্ধানে কবি আল মুজাহিদী: একটি জীবনদর্শন

বিশ শতকের ষাটের দশকের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব কবি আল মুজাহিদী। ১৯৪৩ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করা এই কবির কাব্যভাবনায় সমাজ, সংস্কৃতি, রাজনীতি ও নৃতত্ত্বের এক অনন্য মেলবন্ধন লক্ষ্য করা যায়। তাঁর কবিতার পরতে পরতে মিশে আছে মাটি, মানুষ আর দেশপ্রেমের গভীরতম নির্যাস। নিসর্গ ও নারীর প্রতি তাঁর সংবেদনশীলতা এবং ঐতিহ্য-কেন্দ্রিকতা তাঁর সৃষ্টিকে দিয়েছে এক স্বতন্ত্র পরিচয়।

কবি আল মুজাহিদীর দর্শনের মূলে রয়েছে মৃত্তিকা। তিনি বিশ্বাস করেন, জগতের সকল প্রাণ—মানুষ, উদ্ভিদ কিংবা প্রাণিকুল—সবই মাটি থেকে উদ্ভূত এবং শেষ পর্যন্ত মাটিতেই বিলীন হবে। এই বৈজ্ঞানিক ও আধ্যাত্মিক চেতনার কারণেই তাঁকে ‘মৃত্তিকার কবি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। তাঁর মতে, একজন সৃষ্টিশীল লেখকের জন্য কায়িক ও আত্মিক শক্তির সমন্বয় অপরিহার্য, অন্যথায় সৃজনশীলতার পথে অকাল পতন অনিবার্য।

পারিবারিক ঐতিহ্যের মধ্যেই আল মুজাহিদীর সাহিত্যপ্রতিভার বীজ নিহিত ছিল। তাঁর পিতা আবদুল হালিম জামালী ছিলেন একাধারে নাট্যকার ও ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সক্রিয় যোদ্ধা। অন্যদিকে, মা সাখিনা খান ছিলেন গীত-রচয়িতা ও আধ্যাত্মিক চেতনার অধিকারী। পিতা-মাতার এই সাংস্কৃতিক ও সংগ্রামী চেতনা তাঁকে শৈশব থেকেই দেশপ্রেম ও সাহিত্যচর্চায় উদ্বুদ্ধ করেছে। ষাটের দশকে আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার জন্য তিনি ছয়বার কারাবরণ করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও তাত্ত্বিক হিসেবেও তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: বিশ্বকাপে জয়ে ফিরতে মরিয়া হাইতি ও স্কটল্যান্ড

মৃত্তিকা ও শেকড়ের সন্ধানে কবি আল মুজাহিদী: একটি জীবনদর্শন

আপডেট সময় : ০১:৫২:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

বিশ শতকের ষাটের দশকের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব কবি আল মুজাহিদী। ১৯৪৩ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করা এই কবির কাব্যভাবনায় সমাজ, সংস্কৃতি, রাজনীতি ও নৃতত্ত্বের এক অনন্য মেলবন্ধন লক্ষ্য করা যায়। তাঁর কবিতার পরতে পরতে মিশে আছে মাটি, মানুষ আর দেশপ্রেমের গভীরতম নির্যাস। নিসর্গ ও নারীর প্রতি তাঁর সংবেদনশীলতা এবং ঐতিহ্য-কেন্দ্রিকতা তাঁর সৃষ্টিকে দিয়েছে এক স্বতন্ত্র পরিচয়।

কবি আল মুজাহিদীর দর্শনের মূলে রয়েছে মৃত্তিকা। তিনি বিশ্বাস করেন, জগতের সকল প্রাণ—মানুষ, উদ্ভিদ কিংবা প্রাণিকুল—সবই মাটি থেকে উদ্ভূত এবং শেষ পর্যন্ত মাটিতেই বিলীন হবে। এই বৈজ্ঞানিক ও আধ্যাত্মিক চেতনার কারণেই তাঁকে ‘মৃত্তিকার কবি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। তাঁর মতে, একজন সৃষ্টিশীল লেখকের জন্য কায়িক ও আত্মিক শক্তির সমন্বয় অপরিহার্য, অন্যথায় সৃজনশীলতার পথে অকাল পতন অনিবার্য।

পারিবারিক ঐতিহ্যের মধ্যেই আল মুজাহিদীর সাহিত্যপ্রতিভার বীজ নিহিত ছিল। তাঁর পিতা আবদুল হালিম জামালী ছিলেন একাধারে নাট্যকার ও ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সক্রিয় যোদ্ধা। অন্যদিকে, মা সাখিনা খান ছিলেন গীত-রচয়িতা ও আধ্যাত্মিক চেতনার অধিকারী। পিতা-মাতার এই সাংস্কৃতিক ও সংগ্রামী চেতনা তাঁকে শৈশব থেকেই দেশপ্রেম ও সাহিত্যচর্চায় উদ্বুদ্ধ করেছে। ষাটের দশকে আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার জন্য তিনি ছয়বার কারাবরণ করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও তাত্ত্বিক হিসেবেও তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।