ঢাকা ১১:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

চোটে স্বপ্নভঙ্গ, আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন জাপানের অধিনায়ক ওয়াতারু এন্দো

বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক চোটের কারণে সেই স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জাপানের অধিনায়ক ওয়াতারু এন্দো। বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র কয়েকদিন আগে অবসরের ঘোষণা দিয়ে জাপানি ফুটবলে এক আবেগঘন অধ্যায়ের সমাপ্তি টানলেন এই অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার।

উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ বিশ্বকাপে আগামী রোববার নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে জাপান তাদের অভিযান শুরু করবে। তবে দলের অন্যতম অভিজ্ঞ খেলোয়াড় এন্দোকে ছাড়াই মাঠে নামতে হবে ‘সামুরাই ব্লু’দের। পায়ের চোট থেকে প্রত্যাশিত সময়ে পুরোপুরি সেরে উঠতে না পারায় ৩৩ বছর বয়সী এই ফুটবলার বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে ছিটকে পড়েন। এরপরই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

গত ফেব্রুয়ারিতে ক্লাব ফুটবলে লিভারপুলের হয়ে সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে গিয়ে ইনজুরিতে পড়েন এন্দো। সেই চোটে মৌসুমের বাকি অংশ মাঠের বাইরে কাটাতে হয় তাঁকে। দীর্ঘ পুনর্বাসন শেষে গত ৩১ মে টোকিওতে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে মাঠে ফিরলেও দ্বিতীয়ার্ধে অস্বস্তি অনুভব করায় আর খেলা চালিয়ে যেতে পারেননি। তবুও বিশ্বকাপে খেলার আশা ছাড়েননি জাপানের অধিনায়ক। গত সোমবার ন্যাশভিলে দলের বেস ক্যাম্পেও যোগ দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মেডিকেল পরীক্ষায় পুরোপুরি ফিট বিবেচিত না হওয়ায় বিশ্বকাপ দলে জায়গা হয়নি তাঁর।

অবসরের ঘোষণা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় এন্দো লিখেছেন, ‘ভবিষ্যতে এমন একটি দিন অবশ্যই আসবে, যখন জাপান বিশ্বকাপ জিতবে। সেই বিশ্বাস নিয়েই সবাইকে দলকে সমর্থন দিতে হবে। আমি জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন থেকে একজন সমর্থক হিসেবেই জাপানের পাশে থাকব।’ বিশ্বকাপে খেলতে না পারার হতাশাও লুকাননি তিনি। এন্দো বলেন, ‘ইনজুরির পর সুস্থ হওয়ার জন্য আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়েছি। তাই কোনো আফসোস নেই। কিন্তু বিশ্বকাপে খেলতে না পারাটা অবশ্যই কষ্টের। তার চেয়েও বড় বিষয়, কাতার বিশ্বকাপে এই দলকে নেতৃত্ব দিতে পেরে আমি গর্বিত। আমরা এমন একটি মানসিকতা তৈরি করতে পেরেছিলাম, যেখানে বিশ্বকাপ জেতাকেই লক্ষ্য হিসেবে দেখা হয়।’

২০০৮ সালে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেকের পর জাপানের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মিডফিল্ডারে পরিণত হন এন্দো। দেশের হয়ে ৭৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন তিনি এবং করেছেন ৪ গোল। ২০১৮ ও ২০২২—টানা দুটি বিশ্বকাপে তিনি জাপানের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনৈতিক ও মানবাধিকার বিতর্ক ছাপিয়ে শুরু হলো বিশ্বকাপ, নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি আয়োজকরা

চোটে স্বপ্নভঙ্গ, আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন জাপানের অধিনায়ক ওয়াতারু এন্দো

আপডেট সময় : ০৮:৫২:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক চোটের কারণে সেই স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জাপানের অধিনায়ক ওয়াতারু এন্দো। বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র কয়েকদিন আগে অবসরের ঘোষণা দিয়ে জাপানি ফুটবলে এক আবেগঘন অধ্যায়ের সমাপ্তি টানলেন এই অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার।

উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ বিশ্বকাপে আগামী রোববার নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে জাপান তাদের অভিযান শুরু করবে। তবে দলের অন্যতম অভিজ্ঞ খেলোয়াড় এন্দোকে ছাড়াই মাঠে নামতে হবে ‘সামুরাই ব্লু’দের। পায়ের চোট থেকে প্রত্যাশিত সময়ে পুরোপুরি সেরে উঠতে না পারায় ৩৩ বছর বয়সী এই ফুটবলার বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে ছিটকে পড়েন। এরপরই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

গত ফেব্রুয়ারিতে ক্লাব ফুটবলে লিভারপুলের হয়ে সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে গিয়ে ইনজুরিতে পড়েন এন্দো। সেই চোটে মৌসুমের বাকি অংশ মাঠের বাইরে কাটাতে হয় তাঁকে। দীর্ঘ পুনর্বাসন শেষে গত ৩১ মে টোকিওতে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে মাঠে ফিরলেও দ্বিতীয়ার্ধে অস্বস্তি অনুভব করায় আর খেলা চালিয়ে যেতে পারেননি। তবুও বিশ্বকাপে খেলার আশা ছাড়েননি জাপানের অধিনায়ক। গত সোমবার ন্যাশভিলে দলের বেস ক্যাম্পেও যোগ দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মেডিকেল পরীক্ষায় পুরোপুরি ফিট বিবেচিত না হওয়ায় বিশ্বকাপ দলে জায়গা হয়নি তাঁর।

অবসরের ঘোষণা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় এন্দো লিখেছেন, ‘ভবিষ্যতে এমন একটি দিন অবশ্যই আসবে, যখন জাপান বিশ্বকাপ জিতবে। সেই বিশ্বাস নিয়েই সবাইকে দলকে সমর্থন দিতে হবে। আমি জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন থেকে একজন সমর্থক হিসেবেই জাপানের পাশে থাকব।’ বিশ্বকাপে খেলতে না পারার হতাশাও লুকাননি তিনি। এন্দো বলেন, ‘ইনজুরির পর সুস্থ হওয়ার জন্য আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়েছি। তাই কোনো আফসোস নেই। কিন্তু বিশ্বকাপে খেলতে না পারাটা অবশ্যই কষ্টের। তার চেয়েও বড় বিষয়, কাতার বিশ্বকাপে এই দলকে নেতৃত্ব দিতে পেরে আমি গর্বিত। আমরা এমন একটি মানসিকতা তৈরি করতে পেরেছিলাম, যেখানে বিশ্বকাপ জেতাকেই লক্ষ্য হিসেবে দেখা হয়।’

২০০৮ সালে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেকের পর জাপানের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মিডফিল্ডারে পরিণত হন এন্দো। দেশের হয়ে ৭৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন তিনি এবং করেছেন ৪ গোল। ২০১৮ ও ২০২২—টানা দুটি বিশ্বকাপে তিনি জাপানের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।