পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) জনপ্রিয় করতে ২০৩০ সাল পর্যন্ত এই খাতে বড় ধরনের শুল্ক ছাড়ের সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। ২৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত দামের বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানি করার ক্ষেত্রে বিদ্যমান মোট কর ৯৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬৪ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত গাড়ির ক্ষেত্রে এটি ৮০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়াও ইভি চার্জার ও চার্জিং স্টেশনের আমদানি শুল্ক ৩৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য করা হবে। অন্যদিকে, পেট্রল ও ডিজেলচালিত গাড়ির কর ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী কর্তৃক উপস্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এই পদক্ষেপের কথা জানানো হয়। এই অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের ৫ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
নতুন প্লাগ-ইন হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিক্যালের (পিএইচইভি) ক্ষেত্রে ২ হাজার সিসি পর্যন্ত ইঞ্জিন ক্ষমতা সম্পন্ন গাড়ি আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক গাড়ির ধরণভেদে কমানো এবং ১ হাজার ৮০০ সিসি পর্যন্ত নতুন গাড়ি আমদানিতে রেগুলেটরি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে ১ হাজার ৮০০ সিসি পর্যন্ত ব্র্যান্ড নিউ প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ি আমদানিতে মোট কর ৯৩ দশমিক ১৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭৩ দশমিক ৪৩৭ শতাংশ এবং ২ হাজার সিসি পর্যন্ত ব্র্যান্ড নিউ প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ি আমদানিতে মোট কর ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৯৬ দশমিক ১০ শতাংশ হবে।
ইলেকট্রিক গাড়ির (ইভি) নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে চার্জার এবং চার্জিং স্টেশনের জন্য আমদানি পর্যায়ে মোট কর ৩৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূণ্য শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ডিজেল, অকটেন বা পেট্রোল চালিত গাড়ি ব্যবহারের প্রবণতা কমিয়ে আনতে এবং পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক যান (ইভি) ব্যবহারে জনগণকে উৎসাহিত করতে সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে। এ জন্য মধ্যম সারির ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ সিসি ক্ষমতার ইন্টারনাল কম্বাশন (আইসি) ইঞ্জিনবিশিষ্ট আমদানিকৃত গাড়ির ওপর বিদ্যমান সামগ্রিক কর ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে অন্যান্য গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান করভার অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 






















