ঢাকা ০৩:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

জলঢাকায় বিদ্যুৎ দিয়ে মাছ নিধন: হুমকির মুখে নদ-নদীর দেশি প্রজাতি

নীলফামারীর জলঢাকায় নদ-নদীতে অসাধু জেলেদের ‘আইপিএস’ বা বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের মাধ্যমে মাছ শিকারের মহোৎসব চলছে। এতে তিস্তা, বুড়ি তিস্তা ও চাড়ালকাটা নদীর দেশীয় মাছের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গভীর রাতে ছোট নৌকায় আইপিএস ও ব্যাটারি বসিয়ে পানিতে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করা হয়। এতে ৫ থেকে ৭ মিটার এলাকার মধ্যে থাকা মাছসহ সব ধরনের জলজ প্রাণি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যায়।

সাধারণত মানুষ ঘুমিয়ে পড়ার পর এই চক্রটি সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা সারা রাত এভাবে মাছ মেরে ভোরে বাজারে বিক্রি করে। এর ফলে মা মাছ ও পোনা মাছসহ সব ধরনের দেশি প্রজাতির মাছ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বাড়লে এই চক্রটি আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। সংঘবদ্ধ এই চক্রটিকে সাধারণ মানুষের পক্ষে প্রতিহত করা সম্ভব হচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে নদীগুলো মাছশূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জলঢাকা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত আছেন। নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এবং এই অবৈধ মাছ শিকার বন্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দেশি মাছের প্রাচুর্য ধরে রাখতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ

জলঢাকায় বিদ্যুৎ দিয়ে মাছ নিধন: হুমকির মুখে নদ-নদীর দেশি প্রজাতি

আপডেট সময় : ০২:০৯:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

নীলফামারীর জলঢাকায় নদ-নদীতে অসাধু জেলেদের ‘আইপিএস’ বা বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের মাধ্যমে মাছ শিকারের মহোৎসব চলছে। এতে তিস্তা, বুড়ি তিস্তা ও চাড়ালকাটা নদীর দেশীয় মাছের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গভীর রাতে ছোট নৌকায় আইপিএস ও ব্যাটারি বসিয়ে পানিতে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করা হয়। এতে ৫ থেকে ৭ মিটার এলাকার মধ্যে থাকা মাছসহ সব ধরনের জলজ প্রাণি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যায়।

সাধারণত মানুষ ঘুমিয়ে পড়ার পর এই চক্রটি সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা সারা রাত এভাবে মাছ মেরে ভোরে বাজারে বিক্রি করে। এর ফলে মা মাছ ও পোনা মাছসহ সব ধরনের দেশি প্রজাতির মাছ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বাড়লে এই চক্রটি আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। সংঘবদ্ধ এই চক্রটিকে সাধারণ মানুষের পক্ষে প্রতিহত করা সম্ভব হচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে নদীগুলো মাছশূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জলঢাকা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত আছেন। নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এবং এই অবৈধ মাছ শিকার বন্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দেশি মাছের প্রাচুর্য ধরে রাখতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।