ঢাকা ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

নরসিংদী শহরজুড়ে জলাবদ্ধতা ও খানাখন্দে রাস্তা, জনজীবনে চরম দুর্ভোগ

মাত্র অল্প বৃষ্টিতেই নরসিংদী শহরের রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে, যা জনজীবনে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি করছে। শহরের সরকারি-বেসরকারি অফিসগুলোও জলাবদ্ধতার শিকার হচ্ছে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ এবং রাস্তাঘাটের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অল্পতেই ভেঙে খানাখন্দে পরিণত হচ্ছে শহরের সড়কগুলো।

১৯৭২ সালে গঠিত নরসিংদী পৌরসভাটি মাত্র ১০.৩২ কিলোমিটার আয়তনের। ১৯৯৬ সালে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হওয়া এই পৌরসভায় ৩৩টি মহল্লায় ৯টি ওয়ার্ড রয়েছে। ২০২২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, পৌরসভাটির জনসংখ্যা এক লাখ ৮০ হাজার ৭১১ জন, যার মধ্যে ভোটার সংখ্যা প্রায় এক লাখ।

মেঘনা, শীতলক্ষ্যা, হাড়িধোয়া ও ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত নরসিংদী পৌরসভাটি আকারে ছোট হলেও গুরুত্বের দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ। আয়তনে ছোট এবং নদবেষ্টিত হওয়ায় অল্প উন্নয়নমূলক কাজেই পৌরসভাটিকে সুন্দর করে তোলা সম্ভব।

শহরের মাঝখান দিয়ে যাওয়া ঢাকা-চট্টগ্রাম ট্রেন চলাচলের রেললাইন শহরকে উত্তর ও দক্ষিণ দুই ভাগে বিভক্ত করেছে। ভেলানগর জেলখানা মোড় থেকে ডিসি রোড হয়ে নরসিংদী বাজার ও পৌরসভা পর্যন্ত এবং সাহেপ্রতাব মোড় থেকে নরসিংদী পৌরসভা হয়ে পুরাতন থানাঘাট পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ বিস্তৃত। এছাড়া, পৌরসভা থেকে ব্রাহ্মন্দী মোড় হয়ে জবা টেক্সটাইল মিল এবং জেলখানা মোড় থেকে শাপলা চত্বর হয়ে হাজিপুর পাতিল বাড়ি ব্রিজ পর্যন্ত ৭৭.৫৫ কিলোমিটার পাকা রাস্তা এবং ২৭.১৫ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা রয়েছে। ৪২.২৯ কিলোমিটার পাকা ড্রেন, ৯টি ডাস্টবিন ও একটি ডাম্পিং স্টেশনও রয়েছে।

তবে, মোট ১০৪.৭০ কিলোমিটার রাস্তার অনেকাংশেই বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। ফলে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের হেঁটে চলাফেরাও কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে, নরসিংদী জেলখানা মোড় শহীদ তাহমিদ চত্বর থেকে আরশিনগর রাস্তার স্টেডিয়াম থেকে গণপূর্ত অফিসের সামনে পর্যন্ত হাঁটুপানি জমে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি করছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুত

নরসিংদী শহরজুড়ে জলাবদ্ধতা ও খানাখন্দে রাস্তা, জনজীবনে চরম দুর্ভোগ

আপডেট সময় : ১০:২৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

মাত্র অল্প বৃষ্টিতেই নরসিংদী শহরের রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে, যা জনজীবনে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি করছে। শহরের সরকারি-বেসরকারি অফিসগুলোও জলাবদ্ধতার শিকার হচ্ছে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ এবং রাস্তাঘাটের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অল্পতেই ভেঙে খানাখন্দে পরিণত হচ্ছে শহরের সড়কগুলো।

১৯৭২ সালে গঠিত নরসিংদী পৌরসভাটি মাত্র ১০.৩২ কিলোমিটার আয়তনের। ১৯৯৬ সালে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হওয়া এই পৌরসভায় ৩৩টি মহল্লায় ৯টি ওয়ার্ড রয়েছে। ২০২২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, পৌরসভাটির জনসংখ্যা এক লাখ ৮০ হাজার ৭১১ জন, যার মধ্যে ভোটার সংখ্যা প্রায় এক লাখ।

মেঘনা, শীতলক্ষ্যা, হাড়িধোয়া ও ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত নরসিংদী পৌরসভাটি আকারে ছোট হলেও গুরুত্বের দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ। আয়তনে ছোট এবং নদবেষ্টিত হওয়ায় অল্প উন্নয়নমূলক কাজেই পৌরসভাটিকে সুন্দর করে তোলা সম্ভব।

শহরের মাঝখান দিয়ে যাওয়া ঢাকা-চট্টগ্রাম ট্রেন চলাচলের রেললাইন শহরকে উত্তর ও দক্ষিণ দুই ভাগে বিভক্ত করেছে। ভেলানগর জেলখানা মোড় থেকে ডিসি রোড হয়ে নরসিংদী বাজার ও পৌরসভা পর্যন্ত এবং সাহেপ্রতাব মোড় থেকে নরসিংদী পৌরসভা হয়ে পুরাতন থানাঘাট পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ বিস্তৃত। এছাড়া, পৌরসভা থেকে ব্রাহ্মন্দী মোড় হয়ে জবা টেক্সটাইল মিল এবং জেলখানা মোড় থেকে শাপলা চত্বর হয়ে হাজিপুর পাতিল বাড়ি ব্রিজ পর্যন্ত ৭৭.৫৫ কিলোমিটার পাকা রাস্তা এবং ২৭.১৫ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা রয়েছে। ৪২.২৯ কিলোমিটার পাকা ড্রেন, ৯টি ডাস্টবিন ও একটি ডাম্পিং স্টেশনও রয়েছে।

তবে, মোট ১০৪.৭০ কিলোমিটার রাস্তার অনেকাংশেই বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। ফলে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের হেঁটে চলাফেরাও কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে, নরসিংদী জেলখানা মোড় শহীদ তাহমিদ চত্বর থেকে আরশিনগর রাস্তার স্টেডিয়াম থেকে গণপূর্ত অফিসের সামনে পর্যন্ত হাঁটুপানি জমে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি করছে।