ঢাকা ০৭:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

আসাদ-পরবর্তী সিরিয়ায় ম্যাক্রোঁর ঐতিহাসিক সফর: পশ্চিম ইউরোপের প্রথম রাষ্ট্রপ্রধানের আগমন

সিরিয়ার নতুন সরকার ২০২৪ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর এই প্রথম কোনো পশ্চিম ইউরোপীয় রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সোমবার দামেস্কে পৌঁছেছেন। তার এই সফরকে সিরিয়ার আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, ম্যাক্রোঁর মঙ্গলবার শেষ হতে যাওয়া এই সফরের প্রধান উদ্দেশ্য হলো “একটি মুক্ত, বহুমাত্রিক সিরিয়া, যা তার প্রতিটি উপাদানকে শ্রদ্ধা করে” এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে ভূমিকা রাখে—এমন একটি ব্যবস্থার পক্ষে সমর্থন জানানো। দামেস্কে পৌঁছানোর পর সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি তাকে স্বাগত জানান।

দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ক্ষমতাচ্যুত করার পর সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা দেশটির আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার এবং ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই প্রেক্ষাপটে ম্যাক্রোঁর সফর সিরিয়ার জন্য নতুন কূটনৈতিক দুয়ার খুলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে সর্বশেষ ফরাসি প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিকোলাস সারকোজি সিরিয়া সফর করেছিলেন। ২০১১ সালে বাশার আল-আসাদ গণতন্ত্রপন্থি বিক্ষোভ নির্মমভাবে দমন করার পর দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ওই সংঘাতের ফলে পাঁচ লক্ষাধিক মানুষের মৃত্যু হয় এবং সিরিয়ার অবকাঠামো ও শিল্প খাত সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।

গত সপ্তাহে দামেস্কের একটি ক্যাফেতে ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনা ঘটে, যা ১৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধের পর দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টায় থাকা নতুন ইসলামপন্থী প্রশাসনের জন্য একটি বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা এই সফরকে “সিরিয়ার আন্তর্জাতিক উপস্থিতি পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়ায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ” এবং “সিরিয়া-ফ্রান্স সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং একটি ভারসাম্যপূর্ণ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে একটি নতুন যুগে প্রবেশ করছে” বলে উল্লেখ করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আসাদ-পরবর্তী সিরিয়ায় ম্যাক্রোঁর ঐতিহাসিক সফর: পশ্চিম ইউরোপের প্রথম রাষ্ট্রপ্রধানের আগমন

আসাদ-পরবর্তী সিরিয়ায় ম্যাক্রোঁর ঐতিহাসিক সফর: পশ্চিম ইউরোপের প্রথম রাষ্ট্রপ্রধানের আগমন

আপডেট সময় : ০৫:৪১:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

সিরিয়ার নতুন সরকার ২০২৪ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর এই প্রথম কোনো পশ্চিম ইউরোপীয় রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সোমবার দামেস্কে পৌঁছেছেন। তার এই সফরকে সিরিয়ার আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, ম্যাক্রোঁর মঙ্গলবার শেষ হতে যাওয়া এই সফরের প্রধান উদ্দেশ্য হলো “একটি মুক্ত, বহুমাত্রিক সিরিয়া, যা তার প্রতিটি উপাদানকে শ্রদ্ধা করে” এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে ভূমিকা রাখে—এমন একটি ব্যবস্থার পক্ষে সমর্থন জানানো। দামেস্কে পৌঁছানোর পর সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি তাকে স্বাগত জানান।

দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ক্ষমতাচ্যুত করার পর সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা দেশটির আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার এবং ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই প্রেক্ষাপটে ম্যাক্রোঁর সফর সিরিয়ার জন্য নতুন কূটনৈতিক দুয়ার খুলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে সর্বশেষ ফরাসি প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিকোলাস সারকোজি সিরিয়া সফর করেছিলেন। ২০১১ সালে বাশার আল-আসাদ গণতন্ত্রপন্থি বিক্ষোভ নির্মমভাবে দমন করার পর দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ওই সংঘাতের ফলে পাঁচ লক্ষাধিক মানুষের মৃত্যু হয় এবং সিরিয়ার অবকাঠামো ও শিল্প খাত সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।

গত সপ্তাহে দামেস্কের একটি ক্যাফেতে ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনা ঘটে, যা ১৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধের পর দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টায় থাকা নতুন ইসলামপন্থী প্রশাসনের জন্য একটি বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা এই সফরকে “সিরিয়ার আন্তর্জাতিক উপস্থিতি পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়ায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ” এবং “সিরিয়া-ফ্রান্স সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং একটি ভারসাম্যপূর্ণ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে একটি নতুন যুগে প্রবেশ করছে” বলে উল্লেখ করেছে।