ঢাকা ০৭:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

ঢোল-বাঁশি ও নৃত্যের তালে বাবাকে শেষ বিদায়: কিশোরগঞ্জে সমালোচনার মুখে ক্ষমা প্রার্থনা

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌর এলাকায় শতবর্ষী শামসুদ্দিনের মৃত্যুর পর তাঁর শেষকৃত্যে ঢোল-বাঁশি ও নৃত্যের আয়োজনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সমালোচনা ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের আপত্তির মুখে জানাজার নামাজের আগে মরহুমের ছোট ছেলে খাইরুল ইসলাম প্রকাশ্যে সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। পরে ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। এই ঘটনাটি ঘটেছে রোববার দুপুরে কটিয়াদী পৌরসভার পূর্ব কাহেতেরটেকী মহল্লায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শামসুদ্দিনের মৃত্যুর পর বাড়িতে শোকের পরিবেশের পরিবর্তে ঢাকঢোল বাজিয়ে নৃত্যের আয়োজন করা হয়। একই সময়ে লাশ গোসলের কার্যক্রমও চলছিল। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। জানা যায়, মরহুম শামসুদ্দিন এবং তাঁর পরিবার নেত্রকোনার প্রয়াত পীর গাজী আকবর আলায়ী রিজভীর অনুসারী ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, জীবদ্দশায় শামসুদ্দিন মৃত্যুর পর ঢাকঢোল বাজিয়ে বিদায় নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। সেই ইচ্ছা পূরণের উদ্দেশ্যেই তারা এমন আয়োজন করেছিলেন।

তবে, লাশ দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন ব্যক্তি ঢোল-বাঁশি বাজিয়ে ও নৃত্য পরিবেশন করে এক ধরনের শোভাযাত্রার আয়োজন করেন। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকে এটিকে ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন। পরিস্থিতি একপর্যায়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠলে জানাজার নামাজে অংশগ্রহণ নিয়েও অনেকে অনীহা প্রকাশ করেন। খবর পেয়ে স্থানীয় আলেম-ওলামা, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তাঁদের হস্তক্ষেপে খাইরুল ইসলাম নিজের ভুল স্বীকার করে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন। পরে আলেমদের উপস্থিতিতে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয় এবং মরদেহ দাফন করা হয়।

স্থানীয় ইমাম মাওলানা তোফাজ্জল হক রাশেদীন বলেন, মৃত্যু জীবনের চূড়ান্ত সত্য। ইসলাম মৃত্যুর সময় ধৈর্য ধারণ, দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনার শিক্ষা দেয়। এই ঘটনায় মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছিল। পরে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের প্রতি সকলের সচেতন থাকা প্রয়োজন। মরহুমের ছেলে খাইরুল ইসলাম জানিয়েছেন, তাঁর এই কর্মকাণ্ডের পেছনে কোনো খারাপ উদ্দেশ্য ছিল না, বরং বাবার জীবদ্দশায় করা একটি ইচ্ছাপূরণের চেষ্টা ছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালপুরে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু, শোকস্তব্ধ এলাকাবাসী

ঢোল-বাঁশি ও নৃত্যের তালে বাবাকে শেষ বিদায়: কিশোরগঞ্জে সমালোচনার মুখে ক্ষমা প্রার্থনা

আপডেট সময় : ০৭:১৮:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌর এলাকায় শতবর্ষী শামসুদ্দিনের মৃত্যুর পর তাঁর শেষকৃত্যে ঢোল-বাঁশি ও নৃত্যের আয়োজনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সমালোচনা ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের আপত্তির মুখে জানাজার নামাজের আগে মরহুমের ছোট ছেলে খাইরুল ইসলাম প্রকাশ্যে সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। পরে ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। এই ঘটনাটি ঘটেছে রোববার দুপুরে কটিয়াদী পৌরসভার পূর্ব কাহেতেরটেকী মহল্লায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শামসুদ্দিনের মৃত্যুর পর বাড়িতে শোকের পরিবেশের পরিবর্তে ঢাকঢোল বাজিয়ে নৃত্যের আয়োজন করা হয়। একই সময়ে লাশ গোসলের কার্যক্রমও চলছিল। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। জানা যায়, মরহুম শামসুদ্দিন এবং তাঁর পরিবার নেত্রকোনার প্রয়াত পীর গাজী আকবর আলায়ী রিজভীর অনুসারী ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, জীবদ্দশায় শামসুদ্দিন মৃত্যুর পর ঢাকঢোল বাজিয়ে বিদায় নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। সেই ইচ্ছা পূরণের উদ্দেশ্যেই তারা এমন আয়োজন করেছিলেন।

তবে, লাশ দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন ব্যক্তি ঢোল-বাঁশি বাজিয়ে ও নৃত্য পরিবেশন করে এক ধরনের শোভাযাত্রার আয়োজন করেন। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকে এটিকে ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন। পরিস্থিতি একপর্যায়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠলে জানাজার নামাজে অংশগ্রহণ নিয়েও অনেকে অনীহা প্রকাশ করেন। খবর পেয়ে স্থানীয় আলেম-ওলামা, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তাঁদের হস্তক্ষেপে খাইরুল ইসলাম নিজের ভুল স্বীকার করে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন। পরে আলেমদের উপস্থিতিতে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয় এবং মরদেহ দাফন করা হয়।

স্থানীয় ইমাম মাওলানা তোফাজ্জল হক রাশেদীন বলেন, মৃত্যু জীবনের চূড়ান্ত সত্য। ইসলাম মৃত্যুর সময় ধৈর্য ধারণ, দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনার শিক্ষা দেয়। এই ঘটনায় মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছিল। পরে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের প্রতি সকলের সচেতন থাকা প্রয়োজন। মরহুমের ছেলে খাইরুল ইসলাম জানিয়েছেন, তাঁর এই কর্মকাণ্ডের পেছনে কোনো খারাপ উদ্দেশ্য ছিল না, বরং বাবার জীবদ্দশায় করা একটি ইচ্ছাপূরণের চেষ্টা ছিল।