ঢাকা ০২:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

কোরবানির চামড়া সংগ্রহে অনিশ্চয়তা, ব্যাংক ঋণের প্রবাহ থমকে যাওয়ায় বিপর্যয়ের শঙ্কা

দেশের সম্ভাবনাময় চামড়া শিল্প বর্তমানে গভীর সংকটের মুখে পড়েছে। আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ ও ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিয়ে আবারও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত কয়েক বছরে ধারাবাহিক সংকট, রপ্তানি হ্রাস, পরিবেশগত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থতা এবং ব্যাংকঋণ খেলাপির কারণে শিল্পটি মুখ থুবড়ে পড়েছে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হলো ঈদের দিন ও পরবর্তী কয়েকদিন। এই সময়ে ব্যবসায়ীদের কার্যকর মূলধনের একটি বড় অংশ আসে ব্যাংকঋণ থেকে। কিন্তু এবার সেই ঋণ প্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। কারণ, গত কয়েক বছরে চামড়া খাতে বিতরণ করা বিপুল পরিমাণ ঋণ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে, ফলে ব্যাংকগুলো নতুন করে ঋণ দিতে অনাগ্রহী।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর কাঁচা চামড়া কেনার জন্য ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৪৪ কোটি টাকা, কিন্তু বিতরণ হয়েছিল মাত্র ৬৫ কোটি টাকা। চলতি বছর দেশে এক কোটির বেশি পশু কোরবানি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও ব্যাংকগুলোর মোট ঋণ বরাদ্দ রাখা হয়েছে মাত্র ২৯৬ কোটি টাকা, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

ব্যাংকারদের মতে, আগের ঋণ নিয়মিত পরিশোধ না করায় বেশিরভাগ ব্যবসায়ী খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও নতুন করে অর্থায়ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকের তথ্যমতে, চামড়া খাতে তাদের মোট ঋণের ৭৬৭ কোটি টাকার মধ্যে ৪৫৩ কোটি টাকাই খেলাপি। এই পরিস্থিতিতে চলতি বছর চামড়া খাতে নতুন ঋণ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ। অগ্রণী ব্যাংক ৯১ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও, শেষ পর্যন্ত কত টাকা বিতরণ করা সম্ভব হবে তা নিয়ে কর্মকর্তারাও নিশ্চিত নন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘মন্ত্রীরাও সংসদে মিথ্যা কথা বলেন’: এটিএম আজহারুল ইসলাম

কোরবানির চামড়া সংগ্রহে অনিশ্চয়তা, ব্যাংক ঋণের প্রবাহ থমকে যাওয়ায় বিপর্যয়ের শঙ্কা

আপডেট সময় : ১০:৫১:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

দেশের সম্ভাবনাময় চামড়া শিল্প বর্তমানে গভীর সংকটের মুখে পড়েছে। আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ ও ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিয়ে আবারও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত কয়েক বছরে ধারাবাহিক সংকট, রপ্তানি হ্রাস, পরিবেশগত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থতা এবং ব্যাংকঋণ খেলাপির কারণে শিল্পটি মুখ থুবড়ে পড়েছে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হলো ঈদের দিন ও পরবর্তী কয়েকদিন। এই সময়ে ব্যবসায়ীদের কার্যকর মূলধনের একটি বড় অংশ আসে ব্যাংকঋণ থেকে। কিন্তু এবার সেই ঋণ প্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। কারণ, গত কয়েক বছরে চামড়া খাতে বিতরণ করা বিপুল পরিমাণ ঋণ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে, ফলে ব্যাংকগুলো নতুন করে ঋণ দিতে অনাগ্রহী।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর কাঁচা চামড়া কেনার জন্য ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৪৪ কোটি টাকা, কিন্তু বিতরণ হয়েছিল মাত্র ৬৫ কোটি টাকা। চলতি বছর দেশে এক কোটির বেশি পশু কোরবানি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও ব্যাংকগুলোর মোট ঋণ বরাদ্দ রাখা হয়েছে মাত্র ২৯৬ কোটি টাকা, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

ব্যাংকারদের মতে, আগের ঋণ নিয়মিত পরিশোধ না করায় বেশিরভাগ ব্যবসায়ী খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও নতুন করে অর্থায়ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকের তথ্যমতে, চামড়া খাতে তাদের মোট ঋণের ৭৬৭ কোটি টাকার মধ্যে ৪৫৩ কোটি টাকাই খেলাপি। এই পরিস্থিতিতে চলতি বছর চামড়া খাতে নতুন ঋণ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ। অগ্রণী ব্যাংক ৯১ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও, শেষ পর্যন্ত কত টাকা বিতরণ করা সম্ভব হবে তা নিয়ে কর্মকর্তারাও নিশ্চিত নন।