ঢাকা ০৪:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কায় পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জনগোষ্ঠী চরম ঝুঁকিতে: গবেষণা

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, নির্বিচারে বন উজাড়, একক শস্য চাষের বাগান সম্প্রসারণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের মতো মানবসৃষ্ট কর্মকাণ্ড পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা ও সংস্কৃতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ইউনেস্কো, মালেয়া ফাউন্ডেশন এবং জাবারাং কল্যাণ সমিতির যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘ইয়ুথ অ্যাজ রিসার্চার্স (ইয়ার): ইনডিজেনাস ইয়ুথ অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ’ শীর্ষক একটি গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা, জীবিকা এবং সাংস্কৃতিক প্রথা প্রকৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তারা তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। পরিবর্তিত পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে তাদের ঐতিহ্যবাহী পরিবেশ-কেন্দ্রিক জ্ঞান এখনও গুরুত্বপূর্ণ হলেও, নানা ধরনের চাপের মুখে তা ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে।

সোমবার (২৫ মে) ইউনেস্কোর ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

গবেষণায় সমাজের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকও উঠে এসেছে। বিশেষ করে, সীমিত সম্পদের উপর অধিকার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তুলনামূলকভাবে কম অংশগ্রহণের কারণে আদিবাসী নারীরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আরও বেশি মাত্রায় বহন করছেন।

‘ইয়ুথ অ্যাজ রিসার্চার্স (ইয়ার): ইনডিজেনাস ইয়ুথ অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ’ উদ্যোগের আওতায় আদিবাসী তরুণ গবেষকরা নিজ নিজ সম্প্রদায়ের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং অভিযোজন কৌশল নিয়ে কাজ করেছেন। তারা স্থানীয় অভিজ্ঞতা ও ঐতিহ্যবাহী পরিবেশ-কেন্দ্রিক জ্ঞানকে বৃহত্তর জলবায়ু আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেন।

গবেষণার ফলাফল ‘আদিবাসী তরুণ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে গবেষণা ফলাফল উপস্থাপন ও মতবিনিময়’ শীর্ষক একটি সভায় উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন, ইউনেস্কোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ও অফিস প্রধান ড. সুসান ভাইজ এবং চাকমা সার্কেলের প্রধান ব্যারিস্টার রাজা দেবাশীষ রায়।

এই উদ্যোগে পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা, মারমা, ম্রো, ত্রিপুরা এবং তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের পাঁচটি তরুণ গবেষক দল অংশ নেয়। প্রতিটি দল মাঠ পর্যায়ের ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে গবেষণা পরিচালনা করে এবং নিজ নিজ সম্প্রদায়ের জলবায়ু-সম্পর্কিত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করে।

চাকমা দল রাঙামাটিতে তরুণদের নেতৃত্বে জলবায়ু অভিযোজন কৌশল নিয়ে কাজ করেছে। মারমা দল নথ…

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানি নেতাদের ‘নিশ্চিহ্ন’ করার হুমকি ইসরায়েলের, পাল্টা হুঁশিয়ারি তেহরানের

জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কায় পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জনগোষ্ঠী চরম ঝুঁকিতে: গবেষণা

আপডেট সময় : ০৭:৪১:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, নির্বিচারে বন উজাড়, একক শস্য চাষের বাগান সম্প্রসারণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের মতো মানবসৃষ্ট কর্মকাণ্ড পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা ও সংস্কৃতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ইউনেস্কো, মালেয়া ফাউন্ডেশন এবং জাবারাং কল্যাণ সমিতির যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘ইয়ুথ অ্যাজ রিসার্চার্স (ইয়ার): ইনডিজেনাস ইয়ুথ অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ’ শীর্ষক একটি গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা, জীবিকা এবং সাংস্কৃতিক প্রথা প্রকৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তারা তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। পরিবর্তিত পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে তাদের ঐতিহ্যবাহী পরিবেশ-কেন্দ্রিক জ্ঞান এখনও গুরুত্বপূর্ণ হলেও, নানা ধরনের চাপের মুখে তা ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে।

সোমবার (২৫ মে) ইউনেস্কোর ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

গবেষণায় সমাজের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকও উঠে এসেছে। বিশেষ করে, সীমিত সম্পদের উপর অধিকার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তুলনামূলকভাবে কম অংশগ্রহণের কারণে আদিবাসী নারীরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আরও বেশি মাত্রায় বহন করছেন।

‘ইয়ুথ অ্যাজ রিসার্চার্স (ইয়ার): ইনডিজেনাস ইয়ুথ অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ’ উদ্যোগের আওতায় আদিবাসী তরুণ গবেষকরা নিজ নিজ সম্প্রদায়ের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং অভিযোজন কৌশল নিয়ে কাজ করেছেন। তারা স্থানীয় অভিজ্ঞতা ও ঐতিহ্যবাহী পরিবেশ-কেন্দ্রিক জ্ঞানকে বৃহত্তর জলবায়ু আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেন।

গবেষণার ফলাফল ‘আদিবাসী তরুণ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে গবেষণা ফলাফল উপস্থাপন ও মতবিনিময়’ শীর্ষক একটি সভায় উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন, ইউনেস্কোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ও অফিস প্রধান ড. সুসান ভাইজ এবং চাকমা সার্কেলের প্রধান ব্যারিস্টার রাজা দেবাশীষ রায়।

এই উদ্যোগে পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা, মারমা, ম্রো, ত্রিপুরা এবং তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের পাঁচটি তরুণ গবেষক দল অংশ নেয়। প্রতিটি দল মাঠ পর্যায়ের ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে গবেষণা পরিচালনা করে এবং নিজ নিজ সম্প্রদায়ের জলবায়ু-সম্পর্কিত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করে।

চাকমা দল রাঙামাটিতে তরুণদের নেতৃত্বে জলবায়ু অভিযোজন কৌশল নিয়ে কাজ করেছে। মারমা দল নথ…