ঢাকা ০৪:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

মুসলিম দেশগুলোকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আহ্বান ট্রাম্পের

ইরান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে কোনো চুক্তি সম্পন্ন হলে আরব ও অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোকে ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার বেশ কয়েকটি আরব ও মুসলিম দেশের নেতাদের সঙ্গে এক যৌথ ফোনালাপে তিনি এই তাগিদ দেন।

ফোনালাপে ইসরায়েল এবং দেশগুলোকে আব্রাহাম চুক্তিতে যুক্ত করার বিষয়ে ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে তিনি পরবর্তী কী বড় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন। ট্রাম্প মূলত একটি ঐতিহাসিক সৌদি-ইসরায়েল শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছেন। তবে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনের কারণে নিকট ভবিষ্যতে এমন কোনও বড় অগ্রগতি অর্জন করা অত্যন্ত কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে।

শনিবার ইরানের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্ভাব্য চুক্তিটি নিয়ে আলোচনা করতে ট্রাম্প সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিসর, জর্ডান এবং বাহরাইনের নেতাদের সঙ্গে ফোনালাপ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানান, আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ ইরান যুদ্ধ নিয়ে তুলনামূলকভাবে কঠোর মনোভাব পোষণ করেন এবং দেশটি ইতোমধ্যে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছে। তিনিসহ অপর নেতারা এই সম্ভাব্য চুক্তিটিকে সমর্থন করার কথা জানিয়েছেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘তারা সবাই বলেছেন, এই চুক্তিতে আমরা আপনার সঙ্গে আছি। আর যদি এটি কাজ না-ও করে, তবুও আমরা আপনার সঙ্গেই থাকব।’

ফোনালাপের বিষয়ে অবগত এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প ওই নেতাদের বলেছেন যে তিনি এরপরই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ফোন করবেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে অদূর ভবিষ্যতে ইসরায়েলের নেতাও তাদের সঙ্গে একই ফোনালাপে যুক্ত হবেন।

দুজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প নেতাদের স্পষ্ট করে বলেছেন যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর তিনি আশা করেন যে, যারা এখনও আব্রাহাম চুক্তির অংশ নন কিংবা ইসরায়েলের সঙ্গে কোনও শান্তি চুক্তি করেননি, তারা সবাই এতে যোগ দেবেন এবং ইহুদি রাষ্ট্রটির সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবেন।

ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা দেশগুলোর মধ্যে বিশেষ করে সৌদি আরব, কাতার এবং পাকিস্তানের নেতারা ট্রাম্পের এই আকস্মিক অনুরোধে হতবাক হয়েছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানি নেতাদের ‘নিশ্চিহ্ন’ করার হুমকি ইসরায়েলের, পাল্টা হুঁশিয়ারি তেহরানের

মুসলিম দেশগুলোকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আহ্বান ট্রাম্পের

আপডেট সময় : ০৭:৪০:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

ইরান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে কোনো চুক্তি সম্পন্ন হলে আরব ও অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোকে ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার বেশ কয়েকটি আরব ও মুসলিম দেশের নেতাদের সঙ্গে এক যৌথ ফোনালাপে তিনি এই তাগিদ দেন।

ফোনালাপে ইসরায়েল এবং দেশগুলোকে আব্রাহাম চুক্তিতে যুক্ত করার বিষয়ে ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে তিনি পরবর্তী কী বড় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন। ট্রাম্প মূলত একটি ঐতিহাসিক সৌদি-ইসরায়েল শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছেন। তবে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনের কারণে নিকট ভবিষ্যতে এমন কোনও বড় অগ্রগতি অর্জন করা অত্যন্ত কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে।

শনিবার ইরানের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্ভাব্য চুক্তিটি নিয়ে আলোচনা করতে ট্রাম্প সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিসর, জর্ডান এবং বাহরাইনের নেতাদের সঙ্গে ফোনালাপ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানান, আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ ইরান যুদ্ধ নিয়ে তুলনামূলকভাবে কঠোর মনোভাব পোষণ করেন এবং দেশটি ইতোমধ্যে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছে। তিনিসহ অপর নেতারা এই সম্ভাব্য চুক্তিটিকে সমর্থন করার কথা জানিয়েছেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘তারা সবাই বলেছেন, এই চুক্তিতে আমরা আপনার সঙ্গে আছি। আর যদি এটি কাজ না-ও করে, তবুও আমরা আপনার সঙ্গেই থাকব।’

ফোনালাপের বিষয়ে অবগত এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প ওই নেতাদের বলেছেন যে তিনি এরপরই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ফোন করবেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে অদূর ভবিষ্যতে ইসরায়েলের নেতাও তাদের সঙ্গে একই ফোনালাপে যুক্ত হবেন।

দুজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প নেতাদের স্পষ্ট করে বলেছেন যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর তিনি আশা করেন যে, যারা এখনও আব্রাহাম চুক্তির অংশ নন কিংবা ইসরায়েলের সঙ্গে কোনও শান্তি চুক্তি করেননি, তারা সবাই এতে যোগ দেবেন এবং ইহুদি রাষ্ট্রটির সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবেন।

ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা দেশগুলোর মধ্যে বিশেষ করে সৌদি আরব, কাতার এবং পাকিস্তানের নেতারা ট্রাম্পের এই আকস্মিক অনুরোধে হতবাক হয়েছিলেন।