ঢাকা ০৯:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনে বাজেট কমা উদ্বেগজনক: ওয়াশ নেটওয়ার্ক

বাংলাদেশে নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন (ওয়াশ) খাতে গত তিন বছরে বাজেট প্রায় ৪০ শতাংশ কমে গেছে। সরকারি অর্থায়নের এই ধারাবাহিক পতন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ‘নেটওয়ার্ক অব ওয়াশ নেটওয়ার্কস’। সংগঠনটির আশঙ্কা, এই ধারা অব্যাহত থাকলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি-৬) অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে।

বুধবার (২০ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট পর্যালোচনা উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান ওয়াশ খাত নিয়ে একটি পলিসি ব্রিফ উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, মাত্র তিন বছরে ওয়াশ খাতে বরাদ্দ প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। জাতীয় উন্নয়ন বাজেট বৃদ্ধির বিপরীতে জনস্বাস্থ্য ও পানি ব্যবস্থাপনার মতো মৌলিক খাতে এই বরাদ্দ হ্রাস একটি বড় বৈপরীত্য সৃষ্টি করেছে।

ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই খাতে সর্বোচ্চ ১৮ হাজার ৭২৮ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। তবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ১৪ হাজার ৯৮১ কোটি টাকায়। এরপর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বরাদ্দ নেমে আসে ১১ হাজার ৬১৭ কোটি টাকায় এবং চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা আরও কমে ১০ হাজার ৯০১ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

নেটওয়ার্ক অব ওয়াশ নেটওয়ার্কসের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান এবং সিনিয়র ফেলো মোহাম্মদ আবদুল ওয়াজেদ এই ব্রিফটি প্রস্তুত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ওয়াটারএইড ও পিপিআরসির যৌথ বাজেট বিশ্লেষণ তুলে ধরে বলা হয়, দেশের ৯৮ শতাংশ মানুষ উন্নত পানির উৎস ব্যবহার করলেও নিরাপদ ও দূষণমুক্ত সুপেয় পানি পাচ্ছে মাত্র ৫৫ শতাংশ মানুষ। ওয়াটারএইড বাংলাদেশের পলিসি অ্যাডভোকেসি প্রধান অ্যাডভোকেট ফাইয়াজউদ্দিন আহমদ জানান, শহর ও গ্রামের মধ্যে নিরাপদ পানির প্রাপ্তিতে বড় বৈষম্য রয়েছে। শহরে এই সুবিধা ৭১ শতাংশ হলেও গ্রামে তা মাত্র ৪৮ শতাংশ।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, মোট ওয়াশ উন্নয়ন বাজেটের একটি বড় অংশ শহরাঞ্চল ও ওয়াসাগুলোর জন্য বরাদ্দ করা হয়। এর মধ্যে শুধু ঢাকা ওয়াসা দেশের মোট ওয়াশ বরাদ্দের প্রায় ২৯ শতাংশ (৩,১৪০ কোটি টাকার বেশি) পেয়েছে। এছাড়াও, সিটি করপোরেশনগুলোর ভেতরের বাজেট বণ্টনও অত্যন্ত বৈষম্যমূলক, যেখানে সিটি করপোরেশন তহবিলের ৬২ শতাংশের বেশি টাকা পেয়েছে মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান—ঢাকা উত্তর (৩৫ শতাংশ) এবং ঢাকা দক্ষিণ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদাবাজি বন্ধে মানুষের এক-তৃতীয়াংশ শান্তি ফিরবে: জামায়াত আমির

নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনে বাজেট কমা উদ্বেগজনক: ওয়াশ নেটওয়ার্ক

আপডেট সময় : ০৫:৩৯:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

বাংলাদেশে নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন (ওয়াশ) খাতে গত তিন বছরে বাজেট প্রায় ৪০ শতাংশ কমে গেছে। সরকারি অর্থায়নের এই ধারাবাহিক পতন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ‘নেটওয়ার্ক অব ওয়াশ নেটওয়ার্কস’। সংগঠনটির আশঙ্কা, এই ধারা অব্যাহত থাকলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি-৬) অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে।

বুধবার (২০ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট পর্যালোচনা উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান ওয়াশ খাত নিয়ে একটি পলিসি ব্রিফ উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, মাত্র তিন বছরে ওয়াশ খাতে বরাদ্দ প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। জাতীয় উন্নয়ন বাজেট বৃদ্ধির বিপরীতে জনস্বাস্থ্য ও পানি ব্যবস্থাপনার মতো মৌলিক খাতে এই বরাদ্দ হ্রাস একটি বড় বৈপরীত্য সৃষ্টি করেছে।

ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই খাতে সর্বোচ্চ ১৮ হাজার ৭২৮ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। তবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ১৪ হাজার ৯৮১ কোটি টাকায়। এরপর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বরাদ্দ নেমে আসে ১১ হাজার ৬১৭ কোটি টাকায় এবং চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা আরও কমে ১০ হাজার ৯০১ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

নেটওয়ার্ক অব ওয়াশ নেটওয়ার্কসের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান এবং সিনিয়র ফেলো মোহাম্মদ আবদুল ওয়াজেদ এই ব্রিফটি প্রস্তুত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ওয়াটারএইড ও পিপিআরসির যৌথ বাজেট বিশ্লেষণ তুলে ধরে বলা হয়, দেশের ৯৮ শতাংশ মানুষ উন্নত পানির উৎস ব্যবহার করলেও নিরাপদ ও দূষণমুক্ত সুপেয় পানি পাচ্ছে মাত্র ৫৫ শতাংশ মানুষ। ওয়াটারএইড বাংলাদেশের পলিসি অ্যাডভোকেসি প্রধান অ্যাডভোকেট ফাইয়াজউদ্দিন আহমদ জানান, শহর ও গ্রামের মধ্যে নিরাপদ পানির প্রাপ্তিতে বড় বৈষম্য রয়েছে। শহরে এই সুবিধা ৭১ শতাংশ হলেও গ্রামে তা মাত্র ৪৮ শতাংশ।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, মোট ওয়াশ উন্নয়ন বাজেটের একটি বড় অংশ শহরাঞ্চল ও ওয়াসাগুলোর জন্য বরাদ্দ করা হয়। এর মধ্যে শুধু ঢাকা ওয়াসা দেশের মোট ওয়াশ বরাদ্দের প্রায় ২৯ শতাংশ (৩,১৪০ কোটি টাকার বেশি) পেয়েছে। এছাড়াও, সিটি করপোরেশনগুলোর ভেতরের বাজেট বণ্টনও অত্যন্ত বৈষম্যমূলক, যেখানে সিটি করপোরেশন তহবিলের ৬২ শতাংশের বেশি টাকা পেয়েছে মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান—ঢাকা উত্তর (৩৫ শতাংশ) এবং ঢাকা দক্ষিণ।