ঢাকা ০২:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

নেত্রকোণায় বিয়েবাড়িতে শোক: পুকুরে ডুবে দুই বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু

নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলায় একটি বিয়েবাড়ির আনন্দ মুহূর্তেই শোকে পরিণত হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা যখন বিয়ের অনুষ্ঠানে ব্যস্ত ছিলেন, ঠিক সেই ফাঁকে পুকুরে ডুবে দুই শিশুকন্যার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে উপজেলার বড়কাশিয়া-বিরামপুর ইউনিয়নের পাবই গ্রামে।

নিহতরা হলো পাবই গ্রামের হ্যান্ডট্রলি চালক নিজাম উদ্দিনের দুই মেয়ে নিহা আক্তার (৭) ও নোহা আক্তার (৩)। নিজাম উদ্দিনের এই দুই মেয়ে ছাড়া আর কোনো সন্তান নেই।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার নিজাম উদ্দিনের ভাতিজির বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। অনুষ্ঠানে শিশুদের মা আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে গল্পে ব্যস্ত ছিলেন। অন্যদিকে, বাবা নিজাম উদ্দিনও বিয়ের বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এই সুযোগে দুপুরে বাড়ির সামনের পুকুরে গোসল করতে যায় দুই বোন। একপর্যায়ে তারা পানিতে তলিয়ে যায়।

কিছু সময় পর পুকুরে একটি শিশুকে ভাসতে দেখে স্থানীয়রা চিৎকার শুরু করলে পরিবারের সদস্যরা ছুটে আসেন। পরে দুই শিশুকে উদ্ধার করে দ্রুত মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। তাদের মৃত্যুর খবরে পরিবার ও এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রতিবেশী মিজানুর রহমান জানান, নিজাম উদ্দিনের বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। শিশুদের মা পাশের বাড়িতে গল্প করছিলেন এবং বাবা বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এই ফাঁকে পুকুরে গোসল করতে গিয়েই দুই মেয়ে পানিতে তলিয়ে যায়। নিজাম উদ্দিনের এই দুটিই সন্তান ছিল। এমন ঘটনায় বিয়েবাড়ি বিষাদে রূপান্তরিত হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানো হয়নি, যা নিয়মবহির্ভূত। পরে পরিবারের সদস্যরা লাশ বাড়িতে নিয়ে গিয়ে দাফনের প্রস্তুতি নেন। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়। মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে দুই শিশুর মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এমন ঘটনায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে পুলিশকে অবহিত করার নিয়ম থাকলেও তারা সেটি করেননি।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোমেনুল ইসলাম বলেন, অপমৃত্যু বা অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে পুলিশকে অবহিত করার জন্য একাধিকবার মিটিং করে চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাউজানে যুবদল নেতা মাকসুদ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি বাঘাইছড়িতে গ্রেপ্তার

নেত্রকোণায় বিয়েবাড়িতে শোক: পুকুরে ডুবে দুই বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু

আপডেট সময় : ০৮:৩৬:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলায় একটি বিয়েবাড়ির আনন্দ মুহূর্তেই শোকে পরিণত হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা যখন বিয়ের অনুষ্ঠানে ব্যস্ত ছিলেন, ঠিক সেই ফাঁকে পুকুরে ডুবে দুই শিশুকন্যার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে উপজেলার বড়কাশিয়া-বিরামপুর ইউনিয়নের পাবই গ্রামে।

নিহতরা হলো পাবই গ্রামের হ্যান্ডট্রলি চালক নিজাম উদ্দিনের দুই মেয়ে নিহা আক্তার (৭) ও নোহা আক্তার (৩)। নিজাম উদ্দিনের এই দুই মেয়ে ছাড়া আর কোনো সন্তান নেই।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার নিজাম উদ্দিনের ভাতিজির বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। অনুষ্ঠানে শিশুদের মা আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে গল্পে ব্যস্ত ছিলেন। অন্যদিকে, বাবা নিজাম উদ্দিনও বিয়ের বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এই সুযোগে দুপুরে বাড়ির সামনের পুকুরে গোসল করতে যায় দুই বোন। একপর্যায়ে তারা পানিতে তলিয়ে যায়।

কিছু সময় পর পুকুরে একটি শিশুকে ভাসতে দেখে স্থানীয়রা চিৎকার শুরু করলে পরিবারের সদস্যরা ছুটে আসেন। পরে দুই শিশুকে উদ্ধার করে দ্রুত মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। তাদের মৃত্যুর খবরে পরিবার ও এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রতিবেশী মিজানুর রহমান জানান, নিজাম উদ্দিনের বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। শিশুদের মা পাশের বাড়িতে গল্প করছিলেন এবং বাবা বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এই ফাঁকে পুকুরে গোসল করতে গিয়েই দুই মেয়ে পানিতে তলিয়ে যায়। নিজাম উদ্দিনের এই দুটিই সন্তান ছিল। এমন ঘটনায় বিয়েবাড়ি বিষাদে রূপান্তরিত হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানো হয়নি, যা নিয়মবহির্ভূত। পরে পরিবারের সদস্যরা লাশ বাড়িতে নিয়ে গিয়ে দাফনের প্রস্তুতি নেন। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়। মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে দুই শিশুর মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এমন ঘটনায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে পুলিশকে অবহিত করার নিয়ম থাকলেও তারা সেটি করেননি।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোমেনুল ইসলাম বলেন, অপমৃত্যু বা অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে পুলিশকে অবহিত করার জন্য একাধিকবার মিটিং করে চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।