ঢাকা ০৯:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে বাংলাদেশকে আরও ৩৫ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার মধ্যে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি অব্যাহত রাখতে বিশ্বব্যাংক আরও ৩৫ কোটি মার্কিন ডলারের অতিরিক্ত অর্থায়ন অনুমোদন করেছে।

সংস্থাটি তাদের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, গত ১৫ মে ‘এনার্জি সেক্টর সিকিউরিটি এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট’-এর আওতায় এই অর্থায়ন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলাকে এলএনজি আমদানির মূল্য পরিশোধে সহায়তা করা হবে।

বাংলাদেশ বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানার কার্যক্রম সচল রাখা এবং সামগ্রিক জ্বালানি চাহিদা পূরণের জন্য আমদানিকৃত এলএনজির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে মূল্য অস্থিরতা ও সরবরাহ ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং সরকারি অর্থব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে বলে বিশ্বব্যাংক উল্লেখ করেছে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত জ্বালানি ও সার সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যার প্রভাব সবচেয়ে বেশি নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর ওপর পড়বে।

বিশ্বব্যাংকের মতে, নতুন এই অর্থায়ন সাশ্রয়ী পদ্ধতিতে এলএনজি আমদানি নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে পেট্রোবাংলার আমদানি বিল পরিশোধের সক্ষমতাও বাড়াবে। এতে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে এলএনজি সংগ্রহ করতে পারবে, যা স্পট মার্কেট থেকে উচ্চমূল্যে গ্যাস কেনার নির্ভরতা কমাবে। এর ফলে তুলনামূলক সাশ্রয়ী ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্থিতিশীল ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বেসরকারি খাতের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংস্থাটি মনে করে।

এই অর্থায়ন প্যাকেজের আওতায় ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ)-সমর্থিত একটি পেমেন্ট গ্যারান্টি সুবিধা দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে স্ট্যান্ডবাই লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) এবং স্বল্পমেয়াদি ক্রেডিট লাইনের সহায়তায় এলএনজি আমদানির অর্থ পরিশোধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। বিশ্বব্যাংক বলেছে, এই আর্থিক ব্যবস্থাগুলো বাংলাদেশকে বাজারের যেকোনো অস্থিরতা মোকাবিলায় নমনীয়তা দেবে এবং দীর্ঘমেয়াদি ও পরিকল্পিত এলএনজি ক্রয় ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদাবাজি বন্ধে মানুষের এক-তৃতীয়াংশ শান্তি ফিরবে: জামায়াত আমির

জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে বাংলাদেশকে আরও ৩৫ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

আপডেট সময় : ০৮:০২:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার মধ্যে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি অব্যাহত রাখতে বিশ্বব্যাংক আরও ৩৫ কোটি মার্কিন ডলারের অতিরিক্ত অর্থায়ন অনুমোদন করেছে।

সংস্থাটি তাদের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, গত ১৫ মে ‘এনার্জি সেক্টর সিকিউরিটি এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট’-এর আওতায় এই অর্থায়ন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলাকে এলএনজি আমদানির মূল্য পরিশোধে সহায়তা করা হবে।

বাংলাদেশ বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানার কার্যক্রম সচল রাখা এবং সামগ্রিক জ্বালানি চাহিদা পূরণের জন্য আমদানিকৃত এলএনজির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে মূল্য অস্থিরতা ও সরবরাহ ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং সরকারি অর্থব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে বলে বিশ্বব্যাংক উল্লেখ করেছে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত জ্বালানি ও সার সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যার প্রভাব সবচেয়ে বেশি নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর ওপর পড়বে।

বিশ্বব্যাংকের মতে, নতুন এই অর্থায়ন সাশ্রয়ী পদ্ধতিতে এলএনজি আমদানি নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে পেট্রোবাংলার আমদানি বিল পরিশোধের সক্ষমতাও বাড়াবে। এতে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে এলএনজি সংগ্রহ করতে পারবে, যা স্পট মার্কেট থেকে উচ্চমূল্যে গ্যাস কেনার নির্ভরতা কমাবে। এর ফলে তুলনামূলক সাশ্রয়ী ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্থিতিশীল ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বেসরকারি খাতের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংস্থাটি মনে করে।

এই অর্থায়ন প্যাকেজের আওতায় ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ)-সমর্থিত একটি পেমেন্ট গ্যারান্টি সুবিধা দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে স্ট্যান্ডবাই লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) এবং স্বল্পমেয়াদি ক্রেডিট লাইনের সহায়তায় এলএনজি আমদানির অর্থ পরিশোধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। বিশ্বব্যাংক বলেছে, এই আর্থিক ব্যবস্থাগুলো বাংলাদেশকে বাজারের যেকোনো অস্থিরতা মোকাবিলায় নমনীয়তা দেবে এবং দীর্ঘমেয়াদি ও পরিকল্পিত এলএনজি ক্রয় ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে।