চলতি বছরের ইউরোভিশন গান প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছে বুলগেরিয়া। তবে এবারের আসরটি ছিল চরম রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে। ইসরায়েলের অংশগ্রহণের প্রতিবাদে বেশ কয়েকটি দেশ এই প্রতিযোগিতা বর্জন করায় পুরো আয়োজন জুড়েই ছিল তুমুল বিতর্ক।
বুলগেরিয়ার শিল্পী দারা তার ‘বাঙ্গারাঙ্গা’ শিরোনামের গান এবং মনোমুগ্ধকর কোরিওগ্রাফি দিয়ে দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছেন। গানটি ভালো করবে এমন প্রত্যাশা থাকলেও জুরি ও দর্শক উভয় পক্ষের ভোটে এটি অভাবনীয় জনপ্রিয়তা লাভ করে। একটি রুদ্ধশ্বাস ফাইনালের পর বুলগেরিয়া দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইসরায়েলকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ২৭ বছর বয়সী এই শিল্পী ১৭১ পয়েন্টের বিশাল ব্যবধানে ইসরায়েলের নোয়াম বেত্তানকে হারিয়ে এই ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নেন। এটি ইউরোভিশনের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড।
এই জয়ের মাধ্যমে পপ গানের এই প্রতিযোগিতায় বুলগেরিয়া প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করলো। একই সঙ্গে ২০১৭ সালের পর এই প্রথম জুরি এবং সাধারণ দর্শক উভয়েই একই বিজয়ীকে বেছে নিলেন।
তবে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত গ্র্যান্ড ফাইনালের সমস্ত চাকচিক্য ও জৌলুসকে ছাপিয়ে গিয়েছিল রাজনৈতিক বিতর্ক। সাধারণত ইউরোপের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা জুরি ও দর্শকের ভোট পাওয়ার জন্য এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। কিন্তু এবারের আসরে ইসরায়েলের অংশগ্রহণের প্রতিবাদে স্পেন, আয়ারল্যান্ড, আইসল্যান্ড, স্লোভেনিয়া ও নেদারল্যান্ডস প্রতিযোগিতা বর্জন করে। ৭০ বছরের ইতিহাসে এই ইভেন্টটি এবারই সবচেয়ে বড় সংকটের মুখোমুখি হলো।
শুধু বিভিন্ন দেশই নয়, বিপুল সংখ্যক ভক্তও এই আয়োজনটি বর্জন করেছেন। শনিবার অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে কিছু মানুষকে জোকারের পোশাক পরে একটি প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়, যাতে লেখা ছিল ‘ইউনাইটেড বাই জেনোসাইড’ (গণহত্যায় ঐক্যবদ্ধ)। মূলত প্রতিযোগিতার অফিশিয়াল স্লোগান ‘ইউনাইটেড বাই মিউজিক’ (সংগীতে ঐক্যবদ্ধ)-কে ব্যঙ্গ করেই তারা এটি লিখেছিলেন।
এর আগে গত মঙ্গলবারের সেমিফাইনালে ইসরায়েলের নোয়াম বেত্তানের পারফরম্যান্সের সময় দুয়োধ্বনি শোনা গেলেও, শনিবারের টিভি সম্প্রচারে তার পারফরম্যান্সের সময় কোনও দুয়োধ্বনি শোনা যায়নি।
রিপোর্টারের নাম 























