ঢাকা ০৭:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

জমজম কূপের বিস্ময়কর ইতিহাস: মরু প্রান্তরে আল্লাহর এক অলৌকিক কুদরত

পবিত্র মক্কার তপ্ত মরুভূমিতে অবস্থিত জমজম কূপ মহান আল্লাহর এক অনন্য ও জীবন্ত নিদর্শন। হাজার হাজার বছর ধরে এই অলৌকিক ঝরনাধারা কোটি কোটি মানুষের পিপাসা মিটিয়ে আসছে। খ্রিষ্টপূর্ব প্রায় দুই হাজার বছর আগে এই কূপের সৃষ্টি হয়েছিল, যা আজও তার পবিত্রতা ও আরোগ্যের গুণাবলি নিয়ে প্রবহমান। ধর্মীয় ও ঐতিহাসিকভাবে জমজম কূপ মুমিন হৃদয়ে বিশেষ স্থান দখল করে আছে।

জমজমের সূচনার ইতিহাস অত্যন্ত আবেগঘন। মহান আল্লাহর আদেশে হজরত ইব্রাহিম (আ.) যখন তার স্ত্রী হাজেরা (আ.) ও শিশুপুত্র ইসমাইল (আ.)-কে জনমানবহীন মরুভূমিতে রেখে যান, তখন তাদের সাথে থাকা সামান্য খাদ্য ও পানি দ্রুত ফুরিয়ে যায়। তৃষ্ণায় কাতর শিশু সন্তানের জীবন বাঁচাতে মা হাজেরা সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে সাতবার ব্যাকুল হয়ে দৌড়াদৌড়ি করেন। তার এই আত্মত্যাগ ও আল্লাহর ওপর অগাধ বিশ্বাসের পুরস্কার হিসেবেই মরুভূমির বুক চিরে জমজম কূপের সৃষ্টি হয়।

ফেরেশতা জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে অলৌকিকভাবে নির্গত এই পানির ধারাকে ধরে রাখতে বিবি হাজেরা যখন চারদিকে বাঁধ দিচ্ছিলেন এবং বলছিলেন ‘জমজম’ বা ‘থামো’, তখন থেকেই এটি এই নামে পরিচিতি পায়। আধুনিক বিজ্ঞানের যুগেও এই কূপের পানির উৎস ও গুণাগুণ এক অমীমাংসিত রহস্য। হজের প্রতিটি আনুষ্ঠানিকতার সঙ্গে মিশে আছে এই পবিত্র কূপের স্মৃতি, যা কিয়ামত পর্যন্ত বিশ্ববাসীর জন্য আল্লাহর রহমতের প্রতীক হয়ে থাকবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালপুরে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু, শোকস্তব্ধ এলাকাবাসী

জমজম কূপের বিস্ময়কর ইতিহাস: মরু প্রান্তরে আল্লাহর এক অলৌকিক কুদরত

আপডেট সময় : ১১:৪৫:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

পবিত্র মক্কার তপ্ত মরুভূমিতে অবস্থিত জমজম কূপ মহান আল্লাহর এক অনন্য ও জীবন্ত নিদর্শন। হাজার হাজার বছর ধরে এই অলৌকিক ঝরনাধারা কোটি কোটি মানুষের পিপাসা মিটিয়ে আসছে। খ্রিষ্টপূর্ব প্রায় দুই হাজার বছর আগে এই কূপের সৃষ্টি হয়েছিল, যা আজও তার পবিত্রতা ও আরোগ্যের গুণাবলি নিয়ে প্রবহমান। ধর্মীয় ও ঐতিহাসিকভাবে জমজম কূপ মুমিন হৃদয়ে বিশেষ স্থান দখল করে আছে।

জমজমের সূচনার ইতিহাস অত্যন্ত আবেগঘন। মহান আল্লাহর আদেশে হজরত ইব্রাহিম (আ.) যখন তার স্ত্রী হাজেরা (আ.) ও শিশুপুত্র ইসমাইল (আ.)-কে জনমানবহীন মরুভূমিতে রেখে যান, তখন তাদের সাথে থাকা সামান্য খাদ্য ও পানি দ্রুত ফুরিয়ে যায়। তৃষ্ণায় কাতর শিশু সন্তানের জীবন বাঁচাতে মা হাজেরা সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে সাতবার ব্যাকুল হয়ে দৌড়াদৌড়ি করেন। তার এই আত্মত্যাগ ও আল্লাহর ওপর অগাধ বিশ্বাসের পুরস্কার হিসেবেই মরুভূমির বুক চিরে জমজম কূপের সৃষ্টি হয়।

ফেরেশতা জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে অলৌকিকভাবে নির্গত এই পানির ধারাকে ধরে রাখতে বিবি হাজেরা যখন চারদিকে বাঁধ দিচ্ছিলেন এবং বলছিলেন ‘জমজম’ বা ‘থামো’, তখন থেকেই এটি এই নামে পরিচিতি পায়। আধুনিক বিজ্ঞানের যুগেও এই কূপের পানির উৎস ও গুণাগুণ এক অমীমাংসিত রহস্য। হজের প্রতিটি আনুষ্ঠানিকতার সঙ্গে মিশে আছে এই পবিত্র কূপের স্মৃতি, যা কিয়ামত পর্যন্ত বিশ্ববাসীর জন্য আল্লাহর রহমতের প্রতীক হয়ে থাকবে।