ঢাকা ০৬:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

কান্নাভেজা শৈশব পেরিয়ে বধূবেশে স্বপ্না: পুনর্বাসন কেন্দ্রের আশ্রয়ে নতুন জীবনের সূচনা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

চার বছর বয়সে সিলেটের রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে অভিভাবকহীন অবস্থায় কান্নায় ভেঙে পড়া ছোট্ট মেয়েটি তখন শুধু অস্পষ্ট স্বরে নিজের নাম বলতে পেরেছিল ‘স্বপ্না’। সেই নামই তার পরিচয় হয়ে ওঠে, স্বপ্না আক্তার। ২০১২ সালে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন থেকে উদ্ধার হওয়া এই শিশুটির বাবা-মায়ের পরিচয় জানা যায়নি, পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায় তারা আর বেঁচে নেই। অনিশ্চিত ভবিষ্যতের সেই শিশুটি আশ্রয় পায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে।

পুনর্বাসন কেন্দ্রটি হয়ে ওঠে তার নতুন ঠিকানা, নতুন পরিবার। আশ্রয়, খাদ্য ও নিরাপত্তার পাশাপাশি তাকে স্কুলে ভর্তি করানো হয়। বই-খাতা, বন্ধু আর নতুন স্বপ্নে ভরে ওঠে তার জীবন। যে মেয়ে একদিন নিজের নামও স্পষ্ট করে বলতে পারতো না, সেই স্বপ্নাই ২০২৫ সালে সাফল্যের সাথে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়।

দীর্ঘ ১৪ বছর পর, বুধবার দুপুরে সেই পুনর্বাসন কেন্দ্রেই বিয়ের পিঁড়িতে বসেন স্বপ্না। সিলেট নগরীর শিবগঞ্জ লামাপাড়ার কেন্দ্রটি যেন একদিনের জন্য ভালোবাসার উৎসবে মেতে ওঠে। যে প্রতিষ্ঠান একসময় তাকে আশ্রয় দিয়েছিল, আজ তারাই তার অভিভাবকের ভূমিকা পালন করে।

বিয়ের পুরো আয়োজন ছিল আবেগঘন ও ব্যতিক্রমী। এখানে কোনো কৃত্রিমতা ছিল না, ছিল না ‘এতিম’ বা ‘অসহায়’ শব্দটির কোনো ছাপ। বরং মনে হচ্ছিল, আদরের মেয়ের বিয়ে হচ্ছে এক বিশাল পরিবারের তত্ত্বাবধানে। সাজসজ্জা, অতিথি আপ্যায়ন, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা—সবকিছুই ছিল পরিপূর্ণ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকেই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি, কারণ পরিবারহীন এক মেয়েকে ঘিরে সমাজের এত মানুষের ভালোবাসা সত্যিই বিরল।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এস এম মোক্তার হোসেন জানান, স্বপ্নার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ায় এবং তার সম্মতিতেই এই বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে। তারা চেয়েছেন মেয়েটির ভবিষ্যৎ যেন নিরাপদ ও সুন্দর হয়। পাত্র সিলেটেরই বাসিন্দা এবং ইলেকট্রিকের ঠিকাদারি কাজ করেন। এই বিয়েকে ঘিরে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা প্রায় ২ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেন, যা স্বপ্নার নামে এফডিআর করা হবে। এছাড়া, স্থানীয় এক ব্যক্তি প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র উপহার দেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় সংকট মোকাবিলায় সাংবাদিকদের ভূমিকার গুরুত্ব অপরিসীম: সেলিম উদ্দিন

কান্নাভেজা শৈশব পেরিয়ে বধূবেশে স্বপ্না: পুনর্বাসন কেন্দ্রের আশ্রয়ে নতুন জীবনের সূচনা

আপডেট সময় : ১১:২৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

চার বছর বয়সে সিলেটের রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে অভিভাবকহীন অবস্থায় কান্নায় ভেঙে পড়া ছোট্ট মেয়েটি তখন শুধু অস্পষ্ট স্বরে নিজের নাম বলতে পেরেছিল ‘স্বপ্না’। সেই নামই তার পরিচয় হয়ে ওঠে, স্বপ্না আক্তার। ২০১২ সালে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন থেকে উদ্ধার হওয়া এই শিশুটির বাবা-মায়ের পরিচয় জানা যায়নি, পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায় তারা আর বেঁচে নেই। অনিশ্চিত ভবিষ্যতের সেই শিশুটি আশ্রয় পায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে।

পুনর্বাসন কেন্দ্রটি হয়ে ওঠে তার নতুন ঠিকানা, নতুন পরিবার। আশ্রয়, খাদ্য ও নিরাপত্তার পাশাপাশি তাকে স্কুলে ভর্তি করানো হয়। বই-খাতা, বন্ধু আর নতুন স্বপ্নে ভরে ওঠে তার জীবন। যে মেয়ে একদিন নিজের নামও স্পষ্ট করে বলতে পারতো না, সেই স্বপ্নাই ২০২৫ সালে সাফল্যের সাথে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়।

দীর্ঘ ১৪ বছর পর, বুধবার দুপুরে সেই পুনর্বাসন কেন্দ্রেই বিয়ের পিঁড়িতে বসেন স্বপ্না। সিলেট নগরীর শিবগঞ্জ লামাপাড়ার কেন্দ্রটি যেন একদিনের জন্য ভালোবাসার উৎসবে মেতে ওঠে। যে প্রতিষ্ঠান একসময় তাকে আশ্রয় দিয়েছিল, আজ তারাই তার অভিভাবকের ভূমিকা পালন করে।

বিয়ের পুরো আয়োজন ছিল আবেগঘন ও ব্যতিক্রমী। এখানে কোনো কৃত্রিমতা ছিল না, ছিল না ‘এতিম’ বা ‘অসহায়’ শব্দটির কোনো ছাপ। বরং মনে হচ্ছিল, আদরের মেয়ের বিয়ে হচ্ছে এক বিশাল পরিবারের তত্ত্বাবধানে। সাজসজ্জা, অতিথি আপ্যায়ন, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা—সবকিছুই ছিল পরিপূর্ণ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকেই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি, কারণ পরিবারহীন এক মেয়েকে ঘিরে সমাজের এত মানুষের ভালোবাসা সত্যিই বিরল।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এস এম মোক্তার হোসেন জানান, স্বপ্নার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ায় এবং তার সম্মতিতেই এই বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে। তারা চেয়েছেন মেয়েটির ভবিষ্যৎ যেন নিরাপদ ও সুন্দর হয়। পাত্র সিলেটেরই বাসিন্দা এবং ইলেকট্রিকের ঠিকাদারি কাজ করেন। এই বিয়েকে ঘিরে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা প্রায় ২ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেন, যা স্বপ্নার নামে এফডিআর করা হবে। এছাড়া, স্থানীয় এক ব্যক্তি প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র উপহার দেন।