ঢাকা ০৬:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় সাতক্ষীরার দুই প্রবাসী নিহত, পরিবারে শোকের মাতম

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন সাতক্ষীরার দুই যুবক শফিকুল ইসলাম ও নাহিদুল ইসলাম নাহিদ। ১৩ লাখ টাকা ঋণ করে বিদেশে পাড়ি জমানো এই দুই যুবক লেবাননে পৌঁছানোর দুই মাস পরই এমন মর্মান্তিক ঘটনার শিকার হলেন। তাদের মৃত্যুতে পরিবারগুলোতে এখন শোকের মাতম চলছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম এই দুই ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা স্বজনরা তাদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সম্প্রতি লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের যেব্দিন এলাকায় ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় ওই দুই বাংলাদেশি কর্মী নিহত হন। বৈরুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। নিহতরা হলেন- সাতক্ষীরা সদরের ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের আফসার আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম (৪৮) এবং আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের মো. আবদুল কাদেরের ছেলে মো. নাহিদুল ইসলাম নাহিদ (২২)।

শফিকুল ইসলামের মা আজেয়া খাতুন জানান, শফিকুল পরিবারের বড় ও একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলে ছিলেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে তিনি লেবাননে গিয়েছিলেন, সঙ্গে ছিলেন নাহিদও। যেব্দিন এলাকায় নাহিদ দুম্বার রাখাল হিসেবে এবং শফিকুল বেকারিতে কাজ করতেন। হামলার দিন তারা ভ্যানে করে নিরাপদ স্থানে যাচ্ছিলেন, তখনই ড্রোন হামলার শিকার হন। সন্ধ্যায় তাদের মৃত্যুর খবর জানানো হয়।

শফিকুল ইসলামের বাবা আফসার আলী বলেন, বিদেশ যেতে তার ছেলে আট লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিল। লেবাননে যাওয়ার পর এক মাস আগে ৪০ হাজার টাকা পাঠিয়েছিল। দুই মেয়ে রেখে যাওয়া এই উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে এখন তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। মানুষের এত টাকা ঋণ কীভাবে পরিশোধ করবেন, তা নিয়েও তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

নাহিদুল ইসলামের মা নূরনাহার জানান, নাহিদ ও শফিকুল একই সময়ে লেবাননে যান। নাহিদ ছিলেন দুই ভাইয়ের মধ্যে বড়। আশাশুনির দরগাহপুর কলেজে পড়ার সময় শফিকুল ইসলামের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং দুজনই ঋণের ওপর টাকা নিয়ে লেবাননে যান। তারা একই এলাকায় কাজ করতেন এবং দুর্ভাগ্যবশত একসঙ্গে মারাও গেলেন। তাদের মরদেহ বর্তমানে নাবিহো বেরোবি হাসপাতালে রয়েছে বলে পরিবারকে জানানো হয়েছে। নাহিদের ফুফু রোজিনা খাতুন জানান, বিদেশে যাওয়ার সময় নাহিদ পাঁচ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় সংকট মোকাবিলায় সাংবাদিকদের ভূমিকার গুরুত্ব অপরিসীম: সেলিম উদ্দিন

লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় সাতক্ষীরার দুই প্রবাসী নিহত, পরিবারে শোকের মাতম

আপডেট সময় : ১০:৩৩:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন সাতক্ষীরার দুই যুবক শফিকুল ইসলাম ও নাহিদুল ইসলাম নাহিদ। ১৩ লাখ টাকা ঋণ করে বিদেশে পাড়ি জমানো এই দুই যুবক লেবাননে পৌঁছানোর দুই মাস পরই এমন মর্মান্তিক ঘটনার শিকার হলেন। তাদের মৃত্যুতে পরিবারগুলোতে এখন শোকের মাতম চলছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম এই দুই ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা স্বজনরা তাদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সম্প্রতি লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের যেব্দিন এলাকায় ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় ওই দুই বাংলাদেশি কর্মী নিহত হন। বৈরুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। নিহতরা হলেন- সাতক্ষীরা সদরের ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের আফসার আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম (৪৮) এবং আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের মো. আবদুল কাদেরের ছেলে মো. নাহিদুল ইসলাম নাহিদ (২২)।

শফিকুল ইসলামের মা আজেয়া খাতুন জানান, শফিকুল পরিবারের বড় ও একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলে ছিলেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে তিনি লেবাননে গিয়েছিলেন, সঙ্গে ছিলেন নাহিদও। যেব্দিন এলাকায় নাহিদ দুম্বার রাখাল হিসেবে এবং শফিকুল বেকারিতে কাজ করতেন। হামলার দিন তারা ভ্যানে করে নিরাপদ স্থানে যাচ্ছিলেন, তখনই ড্রোন হামলার শিকার হন। সন্ধ্যায় তাদের মৃত্যুর খবর জানানো হয়।

শফিকুল ইসলামের বাবা আফসার আলী বলেন, বিদেশ যেতে তার ছেলে আট লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিল। লেবাননে যাওয়ার পর এক মাস আগে ৪০ হাজার টাকা পাঠিয়েছিল। দুই মেয়ে রেখে যাওয়া এই উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে এখন তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। মানুষের এত টাকা ঋণ কীভাবে পরিশোধ করবেন, তা নিয়েও তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

নাহিদুল ইসলামের মা নূরনাহার জানান, নাহিদ ও শফিকুল একই সময়ে লেবাননে যান। নাহিদ ছিলেন দুই ভাইয়ের মধ্যে বড়। আশাশুনির দরগাহপুর কলেজে পড়ার সময় শফিকুল ইসলামের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং দুজনই ঋণের ওপর টাকা নিয়ে লেবাননে যান। তারা একই এলাকায় কাজ করতেন এবং দুর্ভাগ্যবশত একসঙ্গে মারাও গেলেন। তাদের মরদেহ বর্তমানে নাবিহো বেরোবি হাসপাতালে রয়েছে বলে পরিবারকে জানানো হয়েছে। নাহিদের ফুফু রোজিনা খাতুন জানান, বিদেশে যাওয়ার সময় নাহিদ পাঁচ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন।