ঢাকা ০১:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

ব্যাংকিং খাতের অর্থপাচার: পাচারকৃত অর্থ ফেরত এনে আমানতকারীদের পরিশোধের দাবি

দেশের ব্যাংকিং খাতে সংঘটিত দুর্নীতি, অর্থপাচার ও অনিয়মের বিচার দাবি করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে আইনজীবীদের সংগঠন ‘ভয়েস অব লয়ার্স বাংলাদেশ’। সংগঠনটির নেতারা অভিযোগ করেছেন, ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকে পরিকল্পিতভাবে সিন্ডিকেট গড়ে তুলে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটপাট ও বিদেশে পাচার করা হয়েছে, যার দায়ভার এখন সাধারণ আমানতকারীদের বহন করতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে আয়োজিত কর্মসূচিতে সংগঠনের নেতারা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। পরে গভর্নরের কার্যালয়ে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। সংগঠনের কোঅর্ডিনেটর ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অনেক ব্যাংকের গ্রাহক প্রয়োজনীয় টাকা উত্তোলন করতে পারছেন না। কেউ ২ হাজার টাকা, কেউ ৫ হাজার টাকা তুলতে পারছেন, আবার অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কোনও অর্থই দেওয়া হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, একজন ক্যানসার রোগী চিকিৎসার জন্য ভারতে যেতে চাইলেও নিজের ব্যাংক হিসাব থেকে দেড় কোটি টাকা তুলতে পারেননি; ব্যাংক তাকে মাত্র ৫ হাজার টাকা নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে। এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও মানবিক সংকটের বিষয়।

সংগঠনটির নেতারা অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে বিভিন্ন ব্যাংকে, বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংকে, প্রভাব খাটিয়ে বসানো হয়। পরে সেই গোষ্ঠী ব্যাংকের পরিচালনা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে সংঘবদ্ধভাবে অর্থ লুটপাট ও বিদেশে পাচারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। ভয়েস অব লয়ার্স বাংলাদেশের চিফ কোঅর্ডিনেটর অ্যাডভোকেট আশরাফুজ্জামান দাবি করেন, প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা নয়টি দেশে পাচার করা হয়েছে। পাচার হওয়া সেই অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে আমানতকারীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান তিনি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে অবৈধভাবে হাজার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা বাতিল করার দাবি জানানো হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতে মিরাজকে রেখেই বাংলাদেশের অপরিবর্তিত দল ঘোষণা

ব্যাংকিং খাতের অর্থপাচার: পাচারকৃত অর্থ ফেরত এনে আমানতকারীদের পরিশোধের দাবি

আপডেট সময় : ০৬:০৮:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

দেশের ব্যাংকিং খাতে সংঘটিত দুর্নীতি, অর্থপাচার ও অনিয়মের বিচার দাবি করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে আইনজীবীদের সংগঠন ‘ভয়েস অব লয়ার্স বাংলাদেশ’। সংগঠনটির নেতারা অভিযোগ করেছেন, ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকে পরিকল্পিতভাবে সিন্ডিকেট গড়ে তুলে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটপাট ও বিদেশে পাচার করা হয়েছে, যার দায়ভার এখন সাধারণ আমানতকারীদের বহন করতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে আয়োজিত কর্মসূচিতে সংগঠনের নেতারা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। পরে গভর্নরের কার্যালয়ে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। সংগঠনের কোঅর্ডিনেটর ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অনেক ব্যাংকের গ্রাহক প্রয়োজনীয় টাকা উত্তোলন করতে পারছেন না। কেউ ২ হাজার টাকা, কেউ ৫ হাজার টাকা তুলতে পারছেন, আবার অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কোনও অর্থই দেওয়া হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, একজন ক্যানসার রোগী চিকিৎসার জন্য ভারতে যেতে চাইলেও নিজের ব্যাংক হিসাব থেকে দেড় কোটি টাকা তুলতে পারেননি; ব্যাংক তাকে মাত্র ৫ হাজার টাকা নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে। এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও মানবিক সংকটের বিষয়।

সংগঠনটির নেতারা অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে বিভিন্ন ব্যাংকে, বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংকে, প্রভাব খাটিয়ে বসানো হয়। পরে সেই গোষ্ঠী ব্যাংকের পরিচালনা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে সংঘবদ্ধভাবে অর্থ লুটপাট ও বিদেশে পাচারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। ভয়েস অব লয়ার্স বাংলাদেশের চিফ কোঅর্ডিনেটর অ্যাডভোকেট আশরাফুজ্জামান দাবি করেন, প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা নয়টি দেশে পাচার করা হয়েছে। পাচার হওয়া সেই অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে আমানতকারীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান তিনি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে অবৈধভাবে হাজার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা বাতিল করার দাবি জানানো হয়।