শ্রমিক সংগঠনের নামে চাঁদাবাজি, পরিচয়পত্র না থাকার অজুহাতে অর্থ আদায় এবং এক ট্রাকচালককে মারধরের প্রতিবাদে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করেছেন ট্রাকচালক শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা কাঠালতলী রেলগেট এলাকায় এই অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়। দীর্ঘ ছয় ঘণ্টার অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যা সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে ফেলে।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ, বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নামে মহাসড়কে ট্রাক থামিয়ে নিয়মিত চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। তাদের দাবি, ট্রাকপ্রতি ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা চাওয়া হয় এবং পরিচয়পত্র না থাকলে চালকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। এই অনিয়মের প্রতিবাদ করলে চালকদের হুমকি ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
বিক্ষুব্ধ ট্রাকচালক সাধন কুমার রায় জানান, গত মঙ্গলবার হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান এলাকায় চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় তাহিরুল ইসলাম তারেক নামে এক ট্রাকচালককে মারধর করা হয়। এই ঘটনার বিচার এবং মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতেই তারা এই অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন।
দীর্ঘ সময় সড়ক অবরোধের কারণে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ে। পাটগ্রাম থেকে লালমনিরহাটগামী বাসের যাত্রী খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘চাঁদাবাজি বন্ধ ও নির্যাতনের বিচার দাবি যৌক্তিক হলেও দীর্ঘ অবরোধে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।’
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হাতীবান্ধা হাইওয়ে থানার ওসি আবদুর রশিদ সরকার জানান, বিকেল ৪টা পর্যন্ত মহাসড়কে অবরোধ চলছিল। অবরোধকারীদের দাবির বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে ট্রাকচালক শ্রমিকরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন, মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ, চালক নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।
রিপোর্টারের নাম 






















