ঢাকা ০১:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

ফতুল্লার কারখানায় কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু: বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের হত্যা দাবি

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ফারিহা নিট টেক্স কারখানার ভেতর থেকে ইদ্রিস আলী (৪৩) নামে এক কর্মকর্তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কারখানার শ্রমিকরা ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে এবং এটিকে রহস্যজনক হত্যাকাণ্ড দাবি করে বিক্ষোভ করেছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।

নিহত ইদ্রিস আলী ওই কারখানায় এজিএম (স্টোর) পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার গোয়ালদীর বাসিন্দা ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে কারখানার স্টোর রুমের দরজা বন্ধ দেখতে পান শ্রমিক ও কর্মকর্তারা। পরে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করলে ইদ্রিস আলীর ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় কারখানার সামনে তার সহকর্মী ও শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন এবং এটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেন।

কারখানাটির সিকিউরিটি ম্যানেজার মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, সোমবার সন্ধ্যায় ৭টায় ছুটি হওয়ার পর ইদ্রিস আলীর গাড়িতে করে বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু তার সহকর্মীরা তাকে ফোন দিয়েও পাননি। পরে তাকে ছাড়াই গাড়ি চলে যায়। ইদ্রিসের লাশটি যে স্টোররুমে মিলেছে সেটি নিয়ন্ত্রণেরও দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

নিহতের স্ত্রী হাফিজা আক্তার বলেন, তার স্বামী নিয়মিত নামাজ পড়তেন এবং ভালো মনের মানুষ ছিলেন। তার আত্মহত্যা করার কোনো কারণ নেই। এমন মৃত্যু নিয়ে আমরা সন্দেহ করছি এবং এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে মনে করছি।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মাহবুব আলম জানান, গার্মেন্টস থেকে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতে মিরাজকে রেখেই বাংলাদেশের অপরিবর্তিত দল ঘোষণা

ফতুল্লার কারখানায় কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু: বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের হত্যা দাবি

আপডেট সময় : ০৩:৫৯:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ফারিহা নিট টেক্স কারখানার ভেতর থেকে ইদ্রিস আলী (৪৩) নামে এক কর্মকর্তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কারখানার শ্রমিকরা ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে এবং এটিকে রহস্যজনক হত্যাকাণ্ড দাবি করে বিক্ষোভ করেছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।

নিহত ইদ্রিস আলী ওই কারখানায় এজিএম (স্টোর) পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার গোয়ালদীর বাসিন্দা ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে কারখানার স্টোর রুমের দরজা বন্ধ দেখতে পান শ্রমিক ও কর্মকর্তারা। পরে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করলে ইদ্রিস আলীর ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় কারখানার সামনে তার সহকর্মী ও শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন এবং এটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেন।

কারখানাটির সিকিউরিটি ম্যানেজার মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, সোমবার সন্ধ্যায় ৭টায় ছুটি হওয়ার পর ইদ্রিস আলীর গাড়িতে করে বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু তার সহকর্মীরা তাকে ফোন দিয়েও পাননি। পরে তাকে ছাড়াই গাড়ি চলে যায়। ইদ্রিসের লাশটি যে স্টোররুমে মিলেছে সেটি নিয়ন্ত্রণেরও দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

নিহতের স্ত্রী হাফিজা আক্তার বলেন, তার স্বামী নিয়মিত নামাজ পড়তেন এবং ভালো মনের মানুষ ছিলেন। তার আত্মহত্যা করার কোনো কারণ নেই। এমন মৃত্যু নিয়ে আমরা সন্দেহ করছি এবং এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে মনে করছি।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মাহবুব আলম জানান, গার্মেন্টস থেকে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হবে।