ঢাকা ০৩:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

ইডেন কলেজে ছাত্ররাজনীতি নিয়ে বিতর্ক: বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ, পাল্টা ‘গুপ্ত রাজনীতির’ অভিযোগ

রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজে গভীর রাতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাস ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। একদল শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিতে আন্দোলন করছেন। তাদের অভিযোগ, অতীতে ছাত্ররাজনীতির কারণে শিক্ষার্থীদের দুর্বিষহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে; মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি যৌন হয়রানির ঘটনাও ঘটেছে।

তবে অন্য একটি পক্ষ বলছে, ছাত্ররাজনীতি করা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মৌলিক অধিকার। জুলাই অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদী সরকারকে তাড়ানোর অন্যতম কারণ ছিল মত প্রকাশের অধিকার হরণ করা। তারা ক্যাম্পাসে রাজনীতি করলেও অন্য কেউ সেই সুযোগ পায়নি। এখন সেই পুরোনো কায়দায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের আড়ালে একটি পক্ষ ক্যাম্পাসে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ করার চেষ্টা করছে এবং ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিকে সেই উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে।

আন্দোলনকারী এক শিক্ষার্থী জানান, ইডেন কলেজে স্বাধীন ও ভীতিহীন পরিবেশে পড়াশোনার অধিকার সবার আছে। অতীতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে ক্যাম্পাসে ভয় ও অনিরাপত্তার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে আবাসিক সিট বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, জোরপূর্বক মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নেওয়ার চাপ, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, এমনকি গুম-খুন ও ক্যারিয়ার নষ্টের হুমকির মতো ঘটনাও ঘটেছে। দুঃখজনকভাবে বলতে হয়, কমিটি পাওয়ার আগেই পুরোনো সংস্কৃতি আবার ফিরে আসছে। কমিটি পেলে হয়তো এর থেকেও ভয়ঙ্কর রূপ নেবে। তাই আমরা শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ চাই।

অন্যদিকে, ইডেন কলেজ ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক সুমাইয়া আক্তার বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে ‘ছাত্রী সংস্থা’ গুপ্ত রাজনীতির খেলা শুরু করেছে। আমরা জুলাই আন্দোলনে অংশ নিয়েছি মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য। এখন ফল ভোগ করতে চাইছে ওরা। ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ কাউকে রাজনীতি করতে দিতে চাইতো না, ওরা নিজেরাই সবকিছু করতো। এখন দেখছি এরাও তাদের মতো আচরণ করছে। তিনি আরও বলেন, ইডেন কলেজের ৬টি আবাসিক হলে ১০ হাজার আবাসিক শিক্ষার্থী আছে। অথচ গুটি কয়েকজন শিক্ষার্থী নিয়ে তারা মব সৃষ্টি করছে। ছাত্রদল করার অভিযোগে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মব করে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের লাগাতার ধর্মঘট: প্রশাসনিক ভবনে তালা, ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ

ইডেন কলেজে ছাত্ররাজনীতি নিয়ে বিতর্ক: বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ, পাল্টা ‘গুপ্ত রাজনীতির’ অভিযোগ

আপডেট সময় : ০২:৩৭:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজে গভীর রাতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাস ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। একদল শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিতে আন্দোলন করছেন। তাদের অভিযোগ, অতীতে ছাত্ররাজনীতির কারণে শিক্ষার্থীদের দুর্বিষহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে; মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি যৌন হয়রানির ঘটনাও ঘটেছে।

তবে অন্য একটি পক্ষ বলছে, ছাত্ররাজনীতি করা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মৌলিক অধিকার। জুলাই অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদী সরকারকে তাড়ানোর অন্যতম কারণ ছিল মত প্রকাশের অধিকার হরণ করা। তারা ক্যাম্পাসে রাজনীতি করলেও অন্য কেউ সেই সুযোগ পায়নি। এখন সেই পুরোনো কায়দায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের আড়ালে একটি পক্ষ ক্যাম্পাসে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ করার চেষ্টা করছে এবং ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিকে সেই উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে।

আন্দোলনকারী এক শিক্ষার্থী জানান, ইডেন কলেজে স্বাধীন ও ভীতিহীন পরিবেশে পড়াশোনার অধিকার সবার আছে। অতীতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে ক্যাম্পাসে ভয় ও অনিরাপত্তার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে আবাসিক সিট বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, জোরপূর্বক মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নেওয়ার চাপ, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, এমনকি গুম-খুন ও ক্যারিয়ার নষ্টের হুমকির মতো ঘটনাও ঘটেছে। দুঃখজনকভাবে বলতে হয়, কমিটি পাওয়ার আগেই পুরোনো সংস্কৃতি আবার ফিরে আসছে। কমিটি পেলে হয়তো এর থেকেও ভয়ঙ্কর রূপ নেবে। তাই আমরা শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ চাই।

অন্যদিকে, ইডেন কলেজ ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক সুমাইয়া আক্তার বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে ‘ছাত্রী সংস্থা’ গুপ্ত রাজনীতির খেলা শুরু করেছে। আমরা জুলাই আন্দোলনে অংশ নিয়েছি মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য। এখন ফল ভোগ করতে চাইছে ওরা। ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ কাউকে রাজনীতি করতে দিতে চাইতো না, ওরা নিজেরাই সবকিছু করতো। এখন দেখছি এরাও তাদের মতো আচরণ করছে। তিনি আরও বলেন, ইডেন কলেজের ৬টি আবাসিক হলে ১০ হাজার আবাসিক শিক্ষার্থী আছে। অথচ গুটি কয়েকজন শিক্ষার্থী নিয়ে তারা মব সৃষ্টি করছে। ছাত্রদল করার অভিযোগে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মব করে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।