যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত ১০ শতাংশ বৈশ্বিক পাল্টা শুল্ককে (Global Reciprocal Tariff) অবৈধ ঘোষণা করলেও, বাস্তবে এখনই সকল আমদানিকারকের জন্য এই শুল্ক বাতিল হচ্ছে না। আদালতের রায় আপাতত কেবল মামলার তিন বাদীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়ায় বিশ্বের অন্যান্য রফতানিকারক দেশ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।
গত ৭ মে নিউ ইয়র্কভিত্তিক ইউনাইটেড স্টেটস কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডের তিন বিচারকের বেঞ্চ ২-১ ব্যবধানে এই রায় প্রদান করেন। আদালত উল্লেখ করেন যে, প্রেসিডেন্টের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা সীমিত এবং কংগ্রেস কর্তৃক প্রদত্ত আইনি ক্ষমতা ট্রাম্প প্রশাসন অতিক্রম করেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে এই শুল্ককে ‘অবৈধ’ এবং ‘আইনত অননুমোদিত’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
তবে, আদালতের নির্দেশ কেবল মামলার তিন বাদী – ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্য, খেলনা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বেসিক ফান এবং মসলা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বারল্যাপ অ্যান্ড ব্যারেলের ক্ষেত্রে কার্যকর হয়েছে। আদালত তাদের উপর আরোপিত ১০ শতাংশ শুল্ক স্থগিত এবং ইতোমধ্যে আদায়কৃত অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
এর ফলে, বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ আমদানিকারকের জন্য ১০ শতাংশ বৈশ্বিক পাল্টা শুল্ক বহাল রয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ রফতানিনির্ভর দেশগুলোর ব্যবসায়ীরা এখন উচ্চ আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং ট্রাম্প প্রশাসনের আইনি পদক্ষেপের দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন।
বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি নিয়ে নতুন এক অনিশ্চয়তার জন্ম দিয়েছে। আদালত শুল্ককে অবৈধ বললেও তাৎক্ষণিকভাবে সকলের জন্য এটি বাতিল করেননি। ফলে, ব্যবসায়ীরা ভবিষ্যৎ আমদানি ব্যয়, মূল্য নির্ধারণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে তা নিয়ে দ্বিধায় রয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএ’র সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গত ৭ মে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের রায়ে সকলের জন্য ১০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক বাতিল হয়নি। আদালত কেবলমাত্র নির্দিষ্ট একটি মামলার তিন বাদীর ক্ষেত্রে এই শুল্ক স্থগিত এবং অর্থ ফেরতের নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে, অন্যান্য সকল আমদানিকারকের জন্য ১০ শতাংশ শুল্ক এখনও বহাল রয়েছে। তবে, উচ্চ আদালতে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত এলে বা ভবিষ্যতে আরও মামলার মাধ্যমে রায়ের পরিধি বাড়লে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানিকারকদের জন্য বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রিপোর্টারের নাম 

























