ঢাকা ১২:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

ফরিদপুরে জমি নিয়ে বিরোধ: বিএনপির কার্যালয় ও দোকানে হামলার অভিযোগ

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে বিএনপির একটি অস্থায়ী কার্যালয় ও বেশ কিছু দোকানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের কমলেশ্বরদী চরপাড়া বাজার এলাকায় এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ উঠেছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা এই হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। এই ঘটনায় নারী-পুরুষসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হামলার পর রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত উভয় পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে, যা পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করে।

ঘটনার মূলে রয়েছে দাদপুর ইউনিয়নের কমলেশ্বরদী চরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল হোসেনের ২১.৫০ শতাংশ জমি নিয়ে চলমান বিরোধ। অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন মুশা ও তার সহযোগীরা ২০২০ সালে ওই জমির একটি অংশ জোরপূর্বক দখল করে সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করেন। এই নিয়ে উচ্চ আদালতের রায় থাকা সত্ত্বেও বিল্লাল হোসেন জমির দখল পাননি বলে দাবি করেছেন। বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গত শুক্রবার একটি সালিস বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও চেয়ারম্যান পক্ষ তাতে অনুপস্থিত ছিল। এর ফলে স্থানীয়রা বিতর্কিত ওই স্থাপনায় তালা ঝুলিয়ে দিলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। এরই জের ধরে শনিবার বিকেলে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত শতাধিক ব্যক্তি চরপাড়া বাজারে এসে হামলা চালায়। হামলায় বিএনপির কার্যালয় ছাড়াও ছিরু মাতুব্বরের সারের দোকান, জাহিদুল ইসলামের বাড়ি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় নেতা এনামুল চৌধুরীর বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়।

তবে হামলার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন মুশা। তার দাবি, প্রতিপক্ষের লোকজনই তার দোকানে তালা লাগিয়ে উসকানি দিয়েছে এবং নিজেরাই ভাঙচুর চালিয়ে এখন দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে। পরিস্থিতির খবর পেয়ে বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা-মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আজম খানের নেতৃত্বে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পরিস্থিতি এখন শান্ত থাকলেও পুনরায় বিশৃঙ্খলা এড়াতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

পাবলিক পরীক্ষায় দীর্ঘদিনের ‘নীরব বহিষ্কার’ প্রথা বাতিল

ফরিদপুরে জমি নিয়ে বিরোধ: বিএনপির কার্যালয় ও দোকানে হামলার অভিযোগ

আপডেট সময় : ১১:১১:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে বিএনপির একটি অস্থায়ী কার্যালয় ও বেশ কিছু দোকানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের কমলেশ্বরদী চরপাড়া বাজার এলাকায় এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ উঠেছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা এই হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। এই ঘটনায় নারী-পুরুষসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হামলার পর রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত উভয় পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে, যা পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করে।

ঘটনার মূলে রয়েছে দাদপুর ইউনিয়নের কমলেশ্বরদী চরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল হোসেনের ২১.৫০ শতাংশ জমি নিয়ে চলমান বিরোধ। অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন মুশা ও তার সহযোগীরা ২০২০ সালে ওই জমির একটি অংশ জোরপূর্বক দখল করে সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করেন। এই নিয়ে উচ্চ আদালতের রায় থাকা সত্ত্বেও বিল্লাল হোসেন জমির দখল পাননি বলে দাবি করেছেন। বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গত শুক্রবার একটি সালিস বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও চেয়ারম্যান পক্ষ তাতে অনুপস্থিত ছিল। এর ফলে স্থানীয়রা বিতর্কিত ওই স্থাপনায় তালা ঝুলিয়ে দিলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। এরই জের ধরে শনিবার বিকেলে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত শতাধিক ব্যক্তি চরপাড়া বাজারে এসে হামলা চালায়। হামলায় বিএনপির কার্যালয় ছাড়াও ছিরু মাতুব্বরের সারের দোকান, জাহিদুল ইসলামের বাড়ি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় নেতা এনামুল চৌধুরীর বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়।

তবে হামলার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন মুশা। তার দাবি, প্রতিপক্ষের লোকজনই তার দোকানে তালা লাগিয়ে উসকানি দিয়েছে এবং নিজেরাই ভাঙচুর চালিয়ে এখন দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে। পরিস্থিতির খবর পেয়ে বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা-মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আজম খানের নেতৃত্বে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পরিস্থিতি এখন শান্ত থাকলেও পুনরায় বিশৃঙ্খলা এড়াতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।