ঢাকা ০১:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

পিতার ২০ বছর পর পুত্রকেও ছুরিকাঘাতে হত্যা: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের নৃশংসতা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪৮:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে রাফসান হোসেন হৃদয় (২৪) নামে এক সিএনজি অটোরিকশাচালক খুন হয়েছেন। বুধবার রাতে উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের ধোড়করা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত হৃদয় শাকতলা গ্রামের মৃত হেদায়েত উল্লাহ হেদুর ছোট ছেলে। এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বুধবার রাত ৮টার দিকে ধোড়করা বাজারের পূর্বপাশে একটি দোকান থেকে তেল নেওয়ার সময় শাকতলা গ্রামের আসিফ ও নয়নের ছেলে বাদশার মোটরসাইকেলের সাথে একই ইউনিয়নের ঘোষতল এলাকার প্রান্ত নামে একজনের মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি হয়। পরে প্রান্ত তার গ্রামের কয়েকজন বন্ধুকে ফোন করে ডেকে আনলে তিনটি মোটরসাইকেলযোগে মো. রাজিব, রিফাত হোসেন ও প্রান্তসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজন বাজারে এসে অবস্থান নেয়। এ সময় শাকতলা গ্রামের কয়েকজনকে ওয়াসিমের গ্যারেজের সামনে পেয়ে মারধর করা হয়।

হামলাকারীরা গ্যারেজের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সিএনজি অটোরিকশাচালক রাফসান হোসেন হৃদয়কে লক্ষ্য করে ছুরিকাঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় হৃদয়কে ধোড়করা বাজারের একটি ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চৌদ্দগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয়দের মধ্যে গুঞ্জন চলছে যে, মোটরসাইকেলের ধাক্কা নয়, বরং মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই হৃদয়কে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত হৃদয়ের ভাই ফারুক হোসেন জানান, ‘আমার ভাই সিএনজি অটোরিকশাচালক। আজ তার ইনকাম কম হয়েছে বলে সন্ধ্যায় আমার কাছে থেকে চা খাওয়ার জন্য টাকা নিয়ে যায়। লোকজনের মাধ্যমে জানতে পারি তাকে মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাং সদস্যরা ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে।’ চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আকিব মাহমুদ মাহি জানান, ‘হৃদয়কে রাত সাড়ে ৯টায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়। নিহতের বুকের ডানপাশে গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।’

নিহতের স্বজনদের ভাষ্যমতে, এটি এক নির্মম পরিহাস। ২০০৬ সালে দুর্বৃত্তরা ছুরিকাঘাত ও ড্রিল মেশিনের আঘাতে হেদায়েত উল্লাহ হেদুকে হত্যা করেছিল। প্রায় ২০ বছর পর তার ছেলে রাফসান হোসেন হৃদয়কেও একই কায়দায় মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাংয়ের হাতে প্রাণ হারাতে হলো। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে বড় ধস: চার মাসে আয় কমেছে ১১ শতাংশ

পিতার ২০ বছর পর পুত্রকেও ছুরিকাঘাতে হত্যা: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের নৃশংসতা

আপডেট সময় : ১১:৪৮:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে রাফসান হোসেন হৃদয় (২৪) নামে এক সিএনজি অটোরিকশাচালক খুন হয়েছেন। বুধবার রাতে উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের ধোড়করা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত হৃদয় শাকতলা গ্রামের মৃত হেদায়েত উল্লাহ হেদুর ছোট ছেলে। এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বুধবার রাত ৮টার দিকে ধোড়করা বাজারের পূর্বপাশে একটি দোকান থেকে তেল নেওয়ার সময় শাকতলা গ্রামের আসিফ ও নয়নের ছেলে বাদশার মোটরসাইকেলের সাথে একই ইউনিয়নের ঘোষতল এলাকার প্রান্ত নামে একজনের মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি হয়। পরে প্রান্ত তার গ্রামের কয়েকজন বন্ধুকে ফোন করে ডেকে আনলে তিনটি মোটরসাইকেলযোগে মো. রাজিব, রিফাত হোসেন ও প্রান্তসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজন বাজারে এসে অবস্থান নেয়। এ সময় শাকতলা গ্রামের কয়েকজনকে ওয়াসিমের গ্যারেজের সামনে পেয়ে মারধর করা হয়।

হামলাকারীরা গ্যারেজের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সিএনজি অটোরিকশাচালক রাফসান হোসেন হৃদয়কে লক্ষ্য করে ছুরিকাঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় হৃদয়কে ধোড়করা বাজারের একটি ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চৌদ্দগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয়দের মধ্যে গুঞ্জন চলছে যে, মোটরসাইকেলের ধাক্কা নয়, বরং মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই হৃদয়কে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত হৃদয়ের ভাই ফারুক হোসেন জানান, ‘আমার ভাই সিএনজি অটোরিকশাচালক। আজ তার ইনকাম কম হয়েছে বলে সন্ধ্যায় আমার কাছে থেকে চা খাওয়ার জন্য টাকা নিয়ে যায়। লোকজনের মাধ্যমে জানতে পারি তাকে মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাং সদস্যরা ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে।’ চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আকিব মাহমুদ মাহি জানান, ‘হৃদয়কে রাত সাড়ে ৯টায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়। নিহতের বুকের ডানপাশে গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।’

নিহতের স্বজনদের ভাষ্যমতে, এটি এক নির্মম পরিহাস। ২০০৬ সালে দুর্বৃত্তরা ছুরিকাঘাত ও ড্রিল মেশিনের আঘাতে হেদায়েত উল্লাহ হেদুকে হত্যা করেছিল। প্রায় ২০ বছর পর তার ছেলে রাফসান হোসেন হৃদয়কেও একই কায়দায় মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাংয়ের হাতে প্রাণ হারাতে হলো। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।