ঢাকা ০৩:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

পঞ্চগড়ে কৃষিজমি ধ্বংস করে অপরিকল্পিত পাথর উত্তোলন, উদ্বেগ পরিবেশবাদীদের

উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে পাথরের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে পঞ্চগড়ে কৃষিজমি ধ্বংস করে অপরিকল্পিতভাবে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন কৃষিজমির পরিমাণ কমছে, তেমনই কৃষি উৎপাদনও হ্রাস পাচ্ছে। বিশেষ করে তেঁতুলিয়া উপজেলায় এই প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

জানা গেছে, উন্নয়ন কাজে ব্যবহারের জন্য ভূগর্ভস্থ পাথর উত্তোলন করা হলেও, অনেক ক্ষেত্রে রাতের আঁধারে বোমা মেশিন ব্যবহার করে পাথর তোলা হচ্ছে। এর পাশাপাশি, শিল্প-কারখানা স্থাপনের নামে মহাসড়কের দুই ধারের জমি ক্রয় করে ফেলে রাখা এবং চা বাগানের জন্য জমি কিনে নিচু জমি অব্যবহৃত ফেলে রাখার কারণে পঞ্চগড়ে আবাদি জমির পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। পরিবেশবাদীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এখনই সঠিক উদ্যোগ না নিলে আগামীতে এই উপজেলার কৃষিজমি অর্ধেকে নেমে আসতে পারে।

পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার মোট আয়তন ১৮৯.১২ বর্গকিলোমিটার, যার মধ্যে আবাদি জমি ১৪,৮৩৯ হেক্টর। এই জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত নদীগুলো থেকে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ নুড়ি পাথর ভেসে আসে, যা সারফেস ডিপোজিট হিসেবে জমা হয়। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় শ্রমিকরা নদী থেকে পাথর সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করত। তবে, পাথরের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এখন সমতল ভূমি খুঁড়েও পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। পাথর উত্তোলনের কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায়, এক শ্রেণির পাথর ব্যবসায়ী জমির মালিকদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে আবাদি জমির প্রায় ৩০-৪০ ফুট পর্যন্ত গর্ত করে পাথর উত্তোলন করছে। ফলে জমির মাঝখানে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে এবং কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার: বাড়ছে জালিয়াতি ও সাইবার অপরাধের ঝুঁকি

পঞ্চগড়ে কৃষিজমি ধ্বংস করে অপরিকল্পিত পাথর উত্তোলন, উদ্বেগ পরিবেশবাদীদের

আপডেট সময় : ০১:৫২:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে পাথরের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে পঞ্চগড়ে কৃষিজমি ধ্বংস করে অপরিকল্পিতভাবে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন কৃষিজমির পরিমাণ কমছে, তেমনই কৃষি উৎপাদনও হ্রাস পাচ্ছে। বিশেষ করে তেঁতুলিয়া উপজেলায় এই প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

জানা গেছে, উন্নয়ন কাজে ব্যবহারের জন্য ভূগর্ভস্থ পাথর উত্তোলন করা হলেও, অনেক ক্ষেত্রে রাতের আঁধারে বোমা মেশিন ব্যবহার করে পাথর তোলা হচ্ছে। এর পাশাপাশি, শিল্প-কারখানা স্থাপনের নামে মহাসড়কের দুই ধারের জমি ক্রয় করে ফেলে রাখা এবং চা বাগানের জন্য জমি কিনে নিচু জমি অব্যবহৃত ফেলে রাখার কারণে পঞ্চগড়ে আবাদি জমির পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। পরিবেশবাদীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এখনই সঠিক উদ্যোগ না নিলে আগামীতে এই উপজেলার কৃষিজমি অর্ধেকে নেমে আসতে পারে।

পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার মোট আয়তন ১৮৯.১২ বর্গকিলোমিটার, যার মধ্যে আবাদি জমি ১৪,৮৩৯ হেক্টর। এই জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত নদীগুলো থেকে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ নুড়ি পাথর ভেসে আসে, যা সারফেস ডিপোজিট হিসেবে জমা হয়। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় শ্রমিকরা নদী থেকে পাথর সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করত। তবে, পাথরের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এখন সমতল ভূমি খুঁড়েও পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। পাথর উত্তোলনের কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায়, এক শ্রেণির পাথর ব্যবসায়ী জমির মালিকদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে আবাদি জমির প্রায় ৩০-৪০ ফুট পর্যন্ত গর্ত করে পাথর উত্তোলন করছে। ফলে জমির মাঝখানে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে এবং কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে।