ঢাকা ০৩:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান

দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ সাস্টেইনেবল অ্যান্ড রিনিউঅ্যাবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ)। সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এই আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বিএসআরইএ-এর সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমদানিনির্ভর জ্বালানিব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের কারণে দেশ গভীর জ্বালানি সংকটের সম্মুখীন। বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত এলএনজি, কয়লা ও তেলের উচ্চমূল্যের কারণে সরকারকে প্রতিদিন প্রায় ২০০ কোটি টাকার বেশি ভর্তুকি দিতে হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

তিনি আরও বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব সমাধান হলেও এই খাত প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা পাচ্ছে না। বর্তমানে নবায়নযোগ্য জ্বালানির যন্ত্রপাতি আমদানিতে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ও কর আরোপ রয়েছে, যা বিনিয়োগের বড় বাধা। অন্যদিকে, প্রচলিত জ্বালানি খাত বিভিন্ন পর্যায়ে ভর্তুকি ও নীতিগত সুবিধা পাচ্ছে, যা একটি নীতিগত বৈষম্য সৃষ্টি করেছে।

আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি জানান, সঠিক নীতিগত সহায়তা পেলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি দ্রুত জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে। পাকিস্তান, ভারত, ভিয়েতনাম ও চীনের মতো দেশগুলো কর অব্যাহতি, কম শুল্ক এবং সহজ অর্থায়নের মাধ্যমে এই খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। বাংলাদেশে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ও এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম আমদানিতেও উচ্চ শুল্ক বিদ্যমান, যা খাতটির বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনাসহ বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৫-১২০ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার: বাড়ছে জালিয়াতি ও সাইবার অপরাধের ঝুঁকি

সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান

আপডেট সময় : ০১:২২:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ সাস্টেইনেবল অ্যান্ড রিনিউঅ্যাবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ)। সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এই আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বিএসআরইএ-এর সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমদানিনির্ভর জ্বালানিব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের কারণে দেশ গভীর জ্বালানি সংকটের সম্মুখীন। বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত এলএনজি, কয়লা ও তেলের উচ্চমূল্যের কারণে সরকারকে প্রতিদিন প্রায় ২০০ কোটি টাকার বেশি ভর্তুকি দিতে হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

তিনি আরও বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব সমাধান হলেও এই খাত প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা পাচ্ছে না। বর্তমানে নবায়নযোগ্য জ্বালানির যন্ত্রপাতি আমদানিতে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ও কর আরোপ রয়েছে, যা বিনিয়োগের বড় বাধা। অন্যদিকে, প্রচলিত জ্বালানি খাত বিভিন্ন পর্যায়ে ভর্তুকি ও নীতিগত সুবিধা পাচ্ছে, যা একটি নীতিগত বৈষম্য সৃষ্টি করেছে।

আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি জানান, সঠিক নীতিগত সহায়তা পেলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি দ্রুত জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে। পাকিস্তান, ভারত, ভিয়েতনাম ও চীনের মতো দেশগুলো কর অব্যাহতি, কম শুল্ক এবং সহজ অর্থায়নের মাধ্যমে এই খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। বাংলাদেশে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ও এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম আমদানিতেও উচ্চ শুল্ক বিদ্যমান, যা খাতটির বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনাসহ বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৫-১২০ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।