ঢাকা ০৮:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

প্রবাসের স্বপ্ন শেষ হলো কফিনবন্দি হয়ে: ১৮ দিন পর দেশে ফিরল শামসুল করিমের মরদেহ

ভাগ্য বদলের আশায় সুদূর সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন ফেনীর পরশুরামের শামসুল করিম। কিন্তু দীর্ঘ ১০ বছরের প্রবাস জীবনের সমাপ্তি ঘটল নিথর দেহ হয়ে। মৃত্যুর ১৮ দিন পর অবশেষে দেশে ফিরেছে তার মরদেহ। আজ শনিবার মরদেহটি নিজ গ্রামে পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। প্রিয়জনকে হারিয়ে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে এলাকার আকাশ-বাতাস।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত রাতে সৌদি আরব থেকে একটি বিশেষ ফ্লাইটে শামসুল করিমের মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখানে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের সদস্যরা কফিন গ্রহণ করেন। সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের নিবিড় সহযোগিতায় দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহটি দ্রুততম সময়ে দেশে আনা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন নিহতের স্বজনরা।

শামসুল করিম পরশুরাম উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের উত্তর শ্রীপুর গ্রামের মৃত মনু মিয়ার দ্বিতীয় ছেলে। ২০১৪ সালে পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে তিনি সৌদি আরবে পাড়ি জমান। সেখানে তায়েফ শহরের একটি কৃষি খামারে কঠোর পরিশ্রম করতেন তিনি। গত ২২ মার্চ কর্মস্থলে কাজ করার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে সহকর্মীরা তাকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান, সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

ব্যক্তিগত জীবনে শামসুল করিম দুই সন্তানের জনক ছিলেন। ২০১২ সালে বিয়ের পর সুখের সংসারের আশায় প্রবাসে গেলেও এখন তার দুই শিশু সন্তান আরিফ ও আরাফাতকে নিয়ে অথৈ সাগরে পড়েছেন স্ত্রী রিনা আক্তার। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা পুরো পরিবার। আজ শনিবার গ্রামের কবরস্থানে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়েছে। তার এই অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শর্ত না মানলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা বাতিলের হুঁশিয়ারি ইরানের

প্রবাসের স্বপ্ন শেষ হলো কফিনবন্দি হয়ে: ১৮ দিন পর দেশে ফিরল শামসুল করিমের মরদেহ

আপডেট সময় : ০৬:১৪:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

ভাগ্য বদলের আশায় সুদূর সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন ফেনীর পরশুরামের শামসুল করিম। কিন্তু দীর্ঘ ১০ বছরের প্রবাস জীবনের সমাপ্তি ঘটল নিথর দেহ হয়ে। মৃত্যুর ১৮ দিন পর অবশেষে দেশে ফিরেছে তার মরদেহ। আজ শনিবার মরদেহটি নিজ গ্রামে পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। প্রিয়জনকে হারিয়ে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে এলাকার আকাশ-বাতাস।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত রাতে সৌদি আরব থেকে একটি বিশেষ ফ্লাইটে শামসুল করিমের মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখানে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের সদস্যরা কফিন গ্রহণ করেন। সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের নিবিড় সহযোগিতায় দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহটি দ্রুততম সময়ে দেশে আনা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন নিহতের স্বজনরা।

শামসুল করিম পরশুরাম উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের উত্তর শ্রীপুর গ্রামের মৃত মনু মিয়ার দ্বিতীয় ছেলে। ২০১৪ সালে পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে তিনি সৌদি আরবে পাড়ি জমান। সেখানে তায়েফ শহরের একটি কৃষি খামারে কঠোর পরিশ্রম করতেন তিনি। গত ২২ মার্চ কর্মস্থলে কাজ করার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে সহকর্মীরা তাকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান, সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

ব্যক্তিগত জীবনে শামসুল করিম দুই সন্তানের জনক ছিলেন। ২০১২ সালে বিয়ের পর সুখের সংসারের আশায় প্রবাসে গেলেও এখন তার দুই শিশু সন্তান আরিফ ও আরাফাতকে নিয়ে অথৈ সাগরে পড়েছেন স্ত্রী রিনা আক্তার। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা পুরো পরিবার। আজ শনিবার গ্রামের কবরস্থানে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়েছে। তার এই অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।