ঢাকা ০৮:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

বন্যার স্রোতে জীবনাবসান: আমুনির শেষ যাত্রায় এক করুণ উপাখ্যান

চারিদিকে থইথই করছে বন্যার পানি, তিল ধারণের জায়গা নেই কোথাও। এমন এক নিদারুণ সময়েই না ফেরার দেশে পাড়ি জমালো আমুনি। তার মৃত্যু যেন গ্রামের মানুষের কাছে এক বাড়তি বিড়ম্বনা হয়ে এল। বন্যার কবলে পড়া মানুষ যখন মাথা গোঁজার ঠাঁই আর খাবারের জন্য হাহাকার করছে, তখন আমুনির মরদেহের সৎকার নিয়ে শুরু হয় নানা টানাপোড়েন। মোতালেবের বউয়ের ঝামটা আর জুনাব আলীর বউয়ের ধমকের মাঝেই ফুটে ওঠে এক চরম মানবিক সংকটের চিত্র।

বন্যার নোংরা পানির ভিড়ে আমুনিকে গোসল করানোর জন্য এক গামলা পরিষ্কার পানি জোগাড় করাও যেন এক অসম্ভব কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। শেষ পর্যন্ত বন্যার পানিতেই কাঠের পাটাতনের মতো নিথর দেহটাকে ধুয়ে নিতে হয়। কাফনের কাপড় জোগাড় করার সামর্থ্য ছিল না আমুনির ভাইয়ের ছেলে শফিকের। পরিশেষে জুনাব আলীর বিধবা বউয়ের হাঁড়ি থেকে বের হয়ে আসে একটি পুরনো সাদা শাড়ি, যা হয়ে ওঠে আমুনির শেষ বিদায়ের বসন। সারা জীবন যে আমুনি আর জুনাব আলীর বউয়ের মধ্যে রেষারেষি ছিল, মৃত্যুর ক্ষণে সেই শত্রুতা ছাপিয়ে এক পশলা সহানুভূতিই বড় হয়ে ধরা দেয়।

গ্রামের চিরচেনা গোরখোদক আক্কাসের ছেলে খবর নিয়ে আসে, উত্তর চরের কবরস্থানে সামান্য একটু শুকনো মাটি পাওয়া গেছে। সেখানেই হামিদ আলীর কবরের পাশে ঠাঁই হয় আমুনির। সারা জীবন মানুষের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকা আমুনি অবশেষে বন্যার এই প্রলয়ংকরী রূপের মধ্যেই চিরনিদ্রায় শায়িত হয়। এই আখ্যানটি কেবল একজনের মৃত্যু নয়, বরং প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে মানুষের অসহায়ত্ব এবং জীবনের রুঢ় বাস্তবতাকে তুলে ধরে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শর্ত না মানলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা বাতিলের হুঁশিয়ারি ইরানের

বন্যার স্রোতে জীবনাবসান: আমুনির শেষ যাত্রায় এক করুণ উপাখ্যান

আপডেট সময় : ০১:৩২:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

চারিদিকে থইথই করছে বন্যার পানি, তিল ধারণের জায়গা নেই কোথাও। এমন এক নিদারুণ সময়েই না ফেরার দেশে পাড়ি জমালো আমুনি। তার মৃত্যু যেন গ্রামের মানুষের কাছে এক বাড়তি বিড়ম্বনা হয়ে এল। বন্যার কবলে পড়া মানুষ যখন মাথা গোঁজার ঠাঁই আর খাবারের জন্য হাহাকার করছে, তখন আমুনির মরদেহের সৎকার নিয়ে শুরু হয় নানা টানাপোড়েন। মোতালেবের বউয়ের ঝামটা আর জুনাব আলীর বউয়ের ধমকের মাঝেই ফুটে ওঠে এক চরম মানবিক সংকটের চিত্র।

বন্যার নোংরা পানির ভিড়ে আমুনিকে গোসল করানোর জন্য এক গামলা পরিষ্কার পানি জোগাড় করাও যেন এক অসম্ভব কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। শেষ পর্যন্ত বন্যার পানিতেই কাঠের পাটাতনের মতো নিথর দেহটাকে ধুয়ে নিতে হয়। কাফনের কাপড় জোগাড় করার সামর্থ্য ছিল না আমুনির ভাইয়ের ছেলে শফিকের। পরিশেষে জুনাব আলীর বিধবা বউয়ের হাঁড়ি থেকে বের হয়ে আসে একটি পুরনো সাদা শাড়ি, যা হয়ে ওঠে আমুনির শেষ বিদায়ের বসন। সারা জীবন যে আমুনি আর জুনাব আলীর বউয়ের মধ্যে রেষারেষি ছিল, মৃত্যুর ক্ষণে সেই শত্রুতা ছাপিয়ে এক পশলা সহানুভূতিই বড় হয়ে ধরা দেয়।

গ্রামের চিরচেনা গোরখোদক আক্কাসের ছেলে খবর নিয়ে আসে, উত্তর চরের কবরস্থানে সামান্য একটু শুকনো মাটি পাওয়া গেছে। সেখানেই হামিদ আলীর কবরের পাশে ঠাঁই হয় আমুনির। সারা জীবন মানুষের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকা আমুনি অবশেষে বন্যার এই প্রলয়ংকরী রূপের মধ্যেই চিরনিদ্রায় শায়িত হয়। এই আখ্যানটি কেবল একজনের মৃত্যু নয়, বরং প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে মানুষের অসহায়ত্ব এবং জীবনের রুঢ় বাস্তবতাকে তুলে ধরে।