ঢাকা ০৮:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

অবৈধ সমুদ্রপথে ইউরোপে বিরামহীন ‘মৃত্যুযাত্রা’: ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার ৮০ শতাংশ বাংলাদেশি

অবৈধভাবে সমুদ্রপথে ইউরোপ যাত্রার রঙিন স্বপ্ন অনেক বাংলাদেশির জন্য ‘মৃত্যুযাত্রা’য় পরিণত হচ্ছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে অত্যন্ত উদ্বেগজনক তথ্য—এই পথে পা বাড়ানো বাংলাদেশিদের প্রায় ৬৩ শতাংশই পথিমধ্যে মানবপাচারকারী চক্রের হাতে বন্দী হয় এবং প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ ভয়াবহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়। গত এক যুগে অন্তত ৭০ হাজার বাংলাদেশি সমুদ্রপথে ইউরোপে প্রবেশ করেছে, যাদের মধ্যে সর্বশেষ লিবিয়া থেকে গ্রিসে যাওয়ার পথে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। অভিবাসন বিশ্লেষক শরিফুল হাসান মনে করেন, দেশে যুদ্ধ বা দুর্ভিক্ষ না থাকা সত্ত্বেও কেন তরুণ সমাজ এভাবে অনিশ্চিত গন্তব্যে জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছে, সেই মূল কারণ খুঁজে বের করা এখন সময়ের দাবি।

সিআইডির তথ্যমতে, লিবিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য কেন্দ্রিক মানবপাচারের সাথে জড়িত ১৫ থেকে ২০টি শক্তিশালী এজেন্সিকে তারা চিহ্নিত করেছে। তবে মূল হোতারা অধরা থেকে যাওয়ায় এই অপরাধমূলক কার্যক্রম বন্ধ করা যাচ্ছে না। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চার হাজার ৪২৭টি মানবপাচার মামলার মধ্যে মাত্র ৯০৯টির নিষ্পত্তি হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্থানীয় দালালরা জামিন পেয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় তাদের বিচার নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। ব্র্যাকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় অংশ নেওয়াদের বড় একটি অংশ ঢাকা, মাদারীপুর ও সিলেট অঞ্চলের তরুণ। পাচারকারীরা ভালো চাকরির প্রলোভন দেখালেও বাস্তবে ৮৯ শতাংশই কোনো কাজ পান না এবং প্রতারিত হয়ে নিঃস্ব অবস্থায় দেশে ফিরে আসেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

শর্ত না মানলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা বাতিলের হুঁশিয়ারি ইরানের

অবৈধ সমুদ্রপথে ইউরোপে বিরামহীন ‘মৃত্যুযাত্রা’: ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার ৮০ শতাংশ বাংলাদেশি

আপডেট সময় : ০৯:৫১:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

অবৈধভাবে সমুদ্রপথে ইউরোপ যাত্রার রঙিন স্বপ্ন অনেক বাংলাদেশির জন্য ‘মৃত্যুযাত্রা’য় পরিণত হচ্ছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে অত্যন্ত উদ্বেগজনক তথ্য—এই পথে পা বাড়ানো বাংলাদেশিদের প্রায় ৬৩ শতাংশই পথিমধ্যে মানবপাচারকারী চক্রের হাতে বন্দী হয় এবং প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ ভয়াবহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়। গত এক যুগে অন্তত ৭০ হাজার বাংলাদেশি সমুদ্রপথে ইউরোপে প্রবেশ করেছে, যাদের মধ্যে সর্বশেষ লিবিয়া থেকে গ্রিসে যাওয়ার পথে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। অভিবাসন বিশ্লেষক শরিফুল হাসান মনে করেন, দেশে যুদ্ধ বা দুর্ভিক্ষ না থাকা সত্ত্বেও কেন তরুণ সমাজ এভাবে অনিশ্চিত গন্তব্যে জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছে, সেই মূল কারণ খুঁজে বের করা এখন সময়ের দাবি।

সিআইডির তথ্যমতে, লিবিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য কেন্দ্রিক মানবপাচারের সাথে জড়িত ১৫ থেকে ২০টি শক্তিশালী এজেন্সিকে তারা চিহ্নিত করেছে। তবে মূল হোতারা অধরা থেকে যাওয়ায় এই অপরাধমূলক কার্যক্রম বন্ধ করা যাচ্ছে না। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চার হাজার ৪২৭টি মানবপাচার মামলার মধ্যে মাত্র ৯০৯টির নিষ্পত্তি হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্থানীয় দালালরা জামিন পেয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় তাদের বিচার নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। ব্র্যাকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় অংশ নেওয়াদের বড় একটি অংশ ঢাকা, মাদারীপুর ও সিলেট অঞ্চলের তরুণ। পাচারকারীরা ভালো চাকরির প্রলোভন দেখালেও বাস্তবে ৮৯ শতাংশই কোনো কাজ পান না এবং প্রতারিত হয়ে নিঃস্ব অবস্থায় দেশে ফিরে আসেন।