ঢাকা ০৮:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

রেকর্ড মুনাফা অর্জন: ২০২৫ সালে সিটি ব্যাংকের ১,৩২৪ কোটি টাকার নিট মুনাফা

চ্যালেঞ্জিং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সত্ত্বেও, সিটি ব্যাংক পিএলসি ২০২৫ সালে তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১,৩২৪ কোটি টাকার সমন্বিত নিট মুনাফা অর্জনের এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে। এই মুনাফা পূর্ববর্তী বছরের ১,০১৪ কোটি টাকার তুলনায় ৩১% বেশি। এককভাবে ব্যাংকের নিট মুনাফা হয়েছে ১,৩০৬ কোটি টাকা, এবং এর চারটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান সম্মিলিতভাবে আরও ১৮ কোটি টাকা যোগ করেছে। এই অভূতপূর্ব সাফল্য এসেছে শক্তিশালী আয় বৃদ্ধি, সুশৃঙ্খল ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং বিচক্ষণ ঝুঁকি গ্রহণের সম্মিলিত ফলস্বরূপ।

ব্যাংকের ঋণ থেকে সুদ আয় গত বছর ২৪% বৃদ্ধি পেয়ে ৫,৪৫২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছর ছিল ৪,৪০৩ কোটি টাকা। একই সঙ্গে, ব্যাংকটি তাদের সম্পদের গুণগত মানও উন্নত করেছে; শ্রেণীকৃত ঋণ (এনপিএল) অনুপাত গত বছরের ৩.৭% থেকে কমে ২০২৫ সালের শেষে ২.৫%-এ নেমে এসেছে। মুদ্রাস্ফীতির চাপ সত্ত্বেও, ব্যাংক আমানতের খরচ ৫.৫% পর্যায়ে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। সরকারি সিকিউরিটিজে কৌশলগত বিনিয়োগের মাধ্যমে, ৪,৮৮৮ কোটি টাকার মোট পরিচালন আয়ের ২৬% এই খাতে অবদান রেখেছে, যা তহবিল ব্যয় সমন্বয়ের পর নিট বিনিয়োগ আয় ১,২৭৪ কোটি টাকায় উন্নীত করেছে।

২০২৫ সালে, সিটি ব্যাংক দেশীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ৮.০১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ট্রেড ব্যবসা পরিচালনা করেছে, যা ট্রেড সার্ভিস থেকে কমিশন ও ফি আয় ৫২৬ কোটি টাকা এনে দিয়েছে। রিটেইল ব্যাংকিং ও কার্ড ব্যবসা থেকে আরও ৪৭১ কোটি টাকা আয় হয়েছে, ফলে মোট ফি ও কমিশন আয় দাঁড়িয়েছে ৯৯৭ কোটি টাকা, যা ব্যাংকের মোট পরিচালন আয়ের ২১%। ব্যয় দক্ষতার ক্ষেত্রেও ব্যাংকটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। মুদ্রাস্ফীতি এবং নতুন বেতন কাঠামোর প্রভাব সত্ত্বেও, আয়-ব্যয় অনুপাত ৪৪% এ ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে। মোট ৪,৮৮৮ কোটি টাকার আয়ের বিপরীতে, মোট ব্যয় ছিল ২,১৬০ কোটি টাকা। লোনের বিপরীতে প্রভিশন ব্যয় ৮১৫ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে, যা আগের বছরের ৬২৮ কোটি টাকার তুলনায় বেশি। এই পদক্ষেপের ফলে ২০২৫ সালের শেষে প্রভিশন কভারেজ অনুপাত ১২৮%-এ উন্নীত হয়েছে। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মাসরুর আরেফিন এই সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করলেও, সাধারণ বছরের তুলনায় এটি একটি অসাধারণ বছর বলে উল্লেখ করেছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শর্ত না মানলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা বাতিলের হুঁশিয়ারি ইরানের

রেকর্ড মুনাফা অর্জন: ২০২৫ সালে সিটি ব্যাংকের ১,৩২৪ কোটি টাকার নিট মুনাফা

আপডেট সময় : ০৫:৪৯:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

চ্যালেঞ্জিং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সত্ত্বেও, সিটি ব্যাংক পিএলসি ২০২৫ সালে তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১,৩২৪ কোটি টাকার সমন্বিত নিট মুনাফা অর্জনের এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে। এই মুনাফা পূর্ববর্তী বছরের ১,০১৪ কোটি টাকার তুলনায় ৩১% বেশি। এককভাবে ব্যাংকের নিট মুনাফা হয়েছে ১,৩০৬ কোটি টাকা, এবং এর চারটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান সম্মিলিতভাবে আরও ১৮ কোটি টাকা যোগ করেছে। এই অভূতপূর্ব সাফল্য এসেছে শক্তিশালী আয় বৃদ্ধি, সুশৃঙ্খল ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং বিচক্ষণ ঝুঁকি গ্রহণের সম্মিলিত ফলস্বরূপ।

ব্যাংকের ঋণ থেকে সুদ আয় গত বছর ২৪% বৃদ্ধি পেয়ে ৫,৪৫২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছর ছিল ৪,৪০৩ কোটি টাকা। একই সঙ্গে, ব্যাংকটি তাদের সম্পদের গুণগত মানও উন্নত করেছে; শ্রেণীকৃত ঋণ (এনপিএল) অনুপাত গত বছরের ৩.৭% থেকে কমে ২০২৫ সালের শেষে ২.৫%-এ নেমে এসেছে। মুদ্রাস্ফীতির চাপ সত্ত্বেও, ব্যাংক আমানতের খরচ ৫.৫% পর্যায়ে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। সরকারি সিকিউরিটিজে কৌশলগত বিনিয়োগের মাধ্যমে, ৪,৮৮৮ কোটি টাকার মোট পরিচালন আয়ের ২৬% এই খাতে অবদান রেখেছে, যা তহবিল ব্যয় সমন্বয়ের পর নিট বিনিয়োগ আয় ১,২৭৪ কোটি টাকায় উন্নীত করেছে।

২০২৫ সালে, সিটি ব্যাংক দেশীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ৮.০১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ট্রেড ব্যবসা পরিচালনা করেছে, যা ট্রেড সার্ভিস থেকে কমিশন ও ফি আয় ৫২৬ কোটি টাকা এনে দিয়েছে। রিটেইল ব্যাংকিং ও কার্ড ব্যবসা থেকে আরও ৪৭১ কোটি টাকা আয় হয়েছে, ফলে মোট ফি ও কমিশন আয় দাঁড়িয়েছে ৯৯৭ কোটি টাকা, যা ব্যাংকের মোট পরিচালন আয়ের ২১%। ব্যয় দক্ষতার ক্ষেত্রেও ব্যাংকটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। মুদ্রাস্ফীতি এবং নতুন বেতন কাঠামোর প্রভাব সত্ত্বেও, আয়-ব্যয় অনুপাত ৪৪% এ ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে। মোট ৪,৮৮৮ কোটি টাকার আয়ের বিপরীতে, মোট ব্যয় ছিল ২,১৬০ কোটি টাকা। লোনের বিপরীতে প্রভিশন ব্যয় ৮১৫ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে, যা আগের বছরের ৬২৮ কোটি টাকার তুলনায় বেশি। এই পদক্ষেপের ফলে ২০২৫ সালের শেষে প্রভিশন কভারেজ অনুপাত ১২৮%-এ উন্নীত হয়েছে। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মাসরুর আরেফিন এই সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করলেও, সাধারণ বছরের তুলনায় এটি একটি অসাধারণ বছর বলে উল্লেখ করেছেন।