ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সামিনা লুৎফা, যিনি নাট্যাঙ্গনে ‘নিত্রা’ নামে সুপরিচিত, তাঁর অভিনীত কালজয়ী নাটক ‘খনা’-র শততম প্রদর্শনী উপলক্ষে জাগো নিউজের সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মিলিত হন। প্রায় ১৫০০ বছর আগের গল্প হওয়া সত্ত্বেও ‘খনা’ আজও কেন প্রাসঙ্গিক—এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, কথা বলার অপরাধে খনার জিহ্বা কেটে দেওয়ার সেই প্রাচীন ঘটনা আজও নারী সমাজকে স্তব্ধ করে দেওয়ার সমকালীন প্রবণতার প্রতীক। সামিনা লুৎফার মতে, আজও যখন নারীরা সামাজিক বা রাজনৈতিক বিষয়ে কথা বলেন, তখন বিভিন্নভাবে তাঁদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করা হয়। এই নাটকটি সমকালীন নারীদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে এবং লড়াই চালিয়ে যাওয়ার শক্তি যোগায়।

ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে অভিনয়ের প্রভাব সম্পর্কে সামিনা লুৎফা বলেন, ২০০১ সাল থেকে এই নাটকের সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি নিজেও প্রতিবাদী হতে শিখেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, আগের প্রজন্মের নারীরা কথা বলেছিলেন বলেই আজকের নারীরা অনেক অধিকার ভোগ করছেন। তবে নারীর পূর্ণ মুক্তির জন্য তিনি কয়েকটি মৌলিক বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁর মতে, নারীর সম্পত্তিতে সমান অধিকার নিশ্চিত করা, নিজের আয়ের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকা এবং বিবাহ বিচ্ছেদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। জেন্ডার বৈষম্য দূর করতে পরিবার থেকেই সচেতনতা শুরু করার পাশাপাশি যৌতুক প্রথা ও বাল্যবিয়ে বন্ধে কঠোর সামাজিক আন্দোলনের আহ্বান জানান তিনি।
দেশের মঞ্চনাটকের বর্তমান অবস্থা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে এই শিল্পী জানান, আমাদের থিয়েটার এখনো পুরোপুরি পেশাদার হয়ে উঠতে পারেনি। এর প্রধান কারণ হিসেবে তিনি অভিনেতা ও কলাকুশলীদের পারিশ্রমিক না পাওয়া এবং মানসম্মত অবকাঠামোর অভাবকে দায়ী করেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সরকারি বরাদ্দ থাকলেও শিল্পকলা একাডেমিগুলোর অবস্থা অনেক ক্ষেত্রে জরাজীর্ণ এবং নতুন মঞ্চগুলোতে দর্শকের সমাগম কম। এই সংকট উত্তরণে তিনি একটি অভিনব প্রস্তাব দিয়েছেন—বিকেলের পর স্কুলগুলোর খালি পড়ে থাকা কক্ষগুলো স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠনের মহড়ার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া। এতে করে একদম তৃণমূল পর্যায় থেকে শিশুদের সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত করা এবং একটি সমন্বিত সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
রিপোর্টারের নাম 

























