ঢাকা ১০:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

অর্থনীতিতে দ্বিমুখী চাপ: মূল্যস্ফীতি ও রিজার্ভ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্কতা

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার প্রকাশিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং টাকার বিনিময় হারের অবমূল্যায়নের ফলে দেশে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় ধরনের টান পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বৈশ্বিক তেলের দাম ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেলে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে দেশের জ্বালানি খাতে। যদি বিনিময় হার ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত অবমূল্যায়িত হয়, তবে আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাবে। এর ফলে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ মূল্যস্ফীতি বর্তমানের চেয়ে ২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে এবং রিজার্ভ থেকে প্রায় ৬.৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারের নীতিগত প্রস্তুতি অত্যন্ত জরুরি। সরকার যদি নিজস্ব রাজস্ব থেকে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্যের চাপ বহন করে এবং স্থানীয় বাজারে দাম স্থিতিশীল রাখতে পারে, তবেই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। অন্যথায় সাধারণ ভোক্তাদের ওপর এই অর্থনৈতিক চাপের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লেবাননে হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় ১১ ইসরাইলি সেনা আহত, আশঙ্কাজনক ৩

অর্থনীতিতে দ্বিমুখী চাপ: মূল্যস্ফীতি ও রিজার্ভ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্কতা

আপডেট সময় : ০৮:২৭:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার প্রকাশিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং টাকার বিনিময় হারের অবমূল্যায়নের ফলে দেশে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় ধরনের টান পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বৈশ্বিক তেলের দাম ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেলে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে দেশের জ্বালানি খাতে। যদি বিনিময় হার ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত অবমূল্যায়িত হয়, তবে আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাবে। এর ফলে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ মূল্যস্ফীতি বর্তমানের চেয়ে ২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে এবং রিজার্ভ থেকে প্রায় ৬.৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারের নীতিগত প্রস্তুতি অত্যন্ত জরুরি। সরকার যদি নিজস্ব রাজস্ব থেকে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্যের চাপ বহন করে এবং স্থানীয় বাজারে দাম স্থিতিশীল রাখতে পারে, তবেই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। অন্যথায় সাধারণ ভোক্তাদের ওপর এই অর্থনৈতিক চাপের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।