ঢাকা ১০:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত ট্রাম্প, রক্ষা পেল ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে “পুরো সভ্যতা ধ্বংস” করার হুমকির মাত্র দুই ঘণ্টা আগে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছেন। পাকিস্তানের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত আসে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, পাকিস্তানের প্রস্তাবে ইরানও সম্মতি দিয়েছে এবং দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা যুদ্ধবিরতি অনুমোদন করেছেন।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কাছে আহ্বান জানান, সব পক্ষ যেন দুই সপ্তাহের জন্য সংঘর্ষ বন্ধ রাখে। তিনি বলেন, পর্দার আড়ালে চলা কূটনৈতিক প্রচেষ্টা একটি সম্ভাব্য সমাধানের দিকে এগোচ্ছে। ট্রাম্প জানান, এই যুদ্ধবিরতির শর্ত হলো—ইরানকে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে হবে। ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, নির্দিষ্ট শর্তে ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখা হবে এবং এটি হবে “দুই পক্ষের যুদ্ধবিরতি”।

তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তাদের সামরিক লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তির ব্যাপারে অনেকটাই এগিয়েছে। ইরানের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাবকে তিনি আলোচনার জন্য কার্যকর ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। পাকিস্তানের প্রস্তাব অনুযায়ী, এই দুই সপ্তাহে হরমুজ প্রণালী খোলা থাকবে এবং একটি বৃহত্তর শান্তি চুক্তির জন্য আলোচনা চলবে।

তবে কূটনৈতিক অগ্রগতির মধ্যেও পরিস্থিতি স্থিতিশীল নয়। তেহরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের সেতু, বিমানবন্দর ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা জোরদার করেছে। একই সময়ে, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড সৌদি আরবের জুবাইল পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে হামলার দায় স্বীকার করেছে। এতে ওই অঞ্চলে আগুন ও ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়, যা সংঘাতের বিস্তারকে আরও স্পষ্ট করে। খার্গ দ্বীপ, আরাক ও মাহশাহরের মতো গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে, যা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সংঘাত ভৌগোলিকভাবেও বিস্তৃত হয়েছে। ইসরাইল ইরান-সমর্থিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা বাড়িয়েছে, অন্যদিকে ইরান মধ্য ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে গণভোটের রায় ও অধ্যাদেশ পুনর্বহালের দাবি

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত ট্রাম্প, রক্ষা পেল ইরান

আপডেট সময় : ০১:৩১:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে “পুরো সভ্যতা ধ্বংস” করার হুমকির মাত্র দুই ঘণ্টা আগে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছেন। পাকিস্তানের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত আসে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, পাকিস্তানের প্রস্তাবে ইরানও সম্মতি দিয়েছে এবং দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা যুদ্ধবিরতি অনুমোদন করেছেন।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কাছে আহ্বান জানান, সব পক্ষ যেন দুই সপ্তাহের জন্য সংঘর্ষ বন্ধ রাখে। তিনি বলেন, পর্দার আড়ালে চলা কূটনৈতিক প্রচেষ্টা একটি সম্ভাব্য সমাধানের দিকে এগোচ্ছে। ট্রাম্প জানান, এই যুদ্ধবিরতির শর্ত হলো—ইরানকে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে হবে। ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, নির্দিষ্ট শর্তে ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখা হবে এবং এটি হবে “দুই পক্ষের যুদ্ধবিরতি”।

তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তাদের সামরিক লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তির ব্যাপারে অনেকটাই এগিয়েছে। ইরানের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাবকে তিনি আলোচনার জন্য কার্যকর ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। পাকিস্তানের প্রস্তাব অনুযায়ী, এই দুই সপ্তাহে হরমুজ প্রণালী খোলা থাকবে এবং একটি বৃহত্তর শান্তি চুক্তির জন্য আলোচনা চলবে।

তবে কূটনৈতিক অগ্রগতির মধ্যেও পরিস্থিতি স্থিতিশীল নয়। তেহরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের সেতু, বিমানবন্দর ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা জোরদার করেছে। একই সময়ে, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড সৌদি আরবের জুবাইল পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে হামলার দায় স্বীকার করেছে। এতে ওই অঞ্চলে আগুন ও ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়, যা সংঘাতের বিস্তারকে আরও স্পষ্ট করে। খার্গ দ্বীপ, আরাক ও মাহশাহরের মতো গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে, যা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সংঘাত ভৌগোলিকভাবেও বিস্তৃত হয়েছে। ইসরাইল ইরান-সমর্থিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা বাড়িয়েছে, অন্যদিকে ইরান মধ্য ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।