যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া ব্যক্তিদের এখন থেকে রাষ্ট্রীয় খরচে পাওয়া থাকা-খাওয়ার জন্য প্রায় ১০ হাজার পাউন্ড, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা, পরিশোধ করতে হবে। এই অর্থ পরিশোধ না করলে তারা যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতির জন্য আবেদন করতে পারবেন না।
মঙ্গলবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব উপস্থাপিত হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন এই আয়ভিত্তিক পরিশোধব্যবস্থা অভিবাসন ও আশ্রয় আইনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা এটিকে শিক্ষা ঋণ ব্যবস্থার সাথে তুলনা করছেন।
তবে বিভিন্ন মানবাধিকার ও শরণার্থী সহায়তা সংস্থা এই নীতির তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, যুদ্ধ, নির্যাতন ও দুর্ভিক্ষ থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের ওপর এটি কার্যত অতিরিক্ত কর আরোপের শামিল। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই প্রকল্প থেকে সরকারের আয় খুবই সীমিত হবে, কারণ আশ্রয় পাওয়ার পাঁচ বছর পরও ১৫ শতাংশেরও কম শরণার্থী বছরে ২০ হাজার পাউন্ডের (প্রায় ৩২ লাখ টাকা) বেশি আয় করেন।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এই পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন ও সহায়তার পেছনে প্রতি বছর সরকারের ৪ বিলিয়ন পাউন্ড খরচ হয়। এই খরচ কমিয়ে আনার জন্য লেবার পার্টির ওপর তীব্র চাপ রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আশ্রয় সহায়তা পাওয়া একটি অধিকার, তবে এটি একটি দায়িত্বও বটে। মানুষ যখন অবদান রাখতে এবং ব্রিটিশ জনগণের উদারতা ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হবে, তখন আমরা আশা করি তারা তা করবে।”
হোম অফিস জানিয়েছে, আশ্রয়প্রার্থীদের মোট প্রায় ১০ হাজার পাউন্ড ফেরত দিতে হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চাইলে এই চার্জ বা মাশুল সমন্বয় করতে পারবেন। যদি কোনো সফল আশ্রয়প্রার্থীর কাছে পর্যাপ্ত তহবিল বা অর্থ থাকে, তবে তাকে একটি নির্দিষ্ট হারের মাশুল দিতে বলা হবে। হোম অফিস আরও জানায়, স্থায়ী বসবাসের যোগ্য হওয়ার আগে অভিবাসীদের অবশ্যই পুরো অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
রিফিউজি কাউন্সিলের এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর ইমরান হুসেন এই নীতির সমালোচনা করে বলেন, “নিপীড়ন, নির্যাতন ও যুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ করা অন্যায় ও অবাস্তব। এটি তাদের পরিবার পুনর্গঠন ও নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর লড়াইকে আরও কঠিন করে তুলবে।”
রিপোর্টারের নাম 

























