চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পুরো সময়ের জন্য ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেওয়ার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত ছিল, তা অর্থবছরের তিন মাস বাকি থাকতেই অতিক্রম করেছে সরকার। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, মার্চ পর্যন্ত সরকার ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে নিট ১ লাখ ৬ হাজার ৫০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, যেখানে পুরো বছরের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ হাজার কোটি টাকা বেশি ঋণ ইতোমধ্যে নেওয়া হয়ে গেছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই ঋণ গ্রহণ ‘আগ্রাসী’ রূপ ধারণ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গত জুন শেষে সরকারের নিট ঋণের স্থিতি ছিল ৫ লাখ ৫০ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা, যা মার্চ শেষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৫৬ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকায়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারের এই অতিরিক্ত ঋণ নির্ভরতা বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহে তীব্র চাপ তৈরি করছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মাহমুদ ওসমান ইমাম জানিয়েছেন, বর্তমানে বিনিয়োগের চাহিদা কম থাকায় ব্যাংকগুলো নিশ্চিত আয়ের জন্য সরকারকে ঋণ দিতে বেশি উৎসাহী হচ্ছে। এর ফলে শিল্প, বাণিজ্য ও উৎপাদনমুখী খাতে নতুন বিনিয়োগের জন্য মূলধন পাওয়া দুষ্কর হয়ে উঠছে। এতে কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি আরও উসকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রাজস্ব ঘাটতি, উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় এবং ব্যাংক একীভূতকরণে সরকারি মূলধন সহায়তার চাপের কারণেই মূলত সরকার ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর অতি-নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন এই পরিস্থিতিকে ‘দুর্দশার সংকেত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, একদিকে ভর্তুকি ও প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে রাজস্ব আহরণ কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেই। আয়ের পথ না বাড়িয়ে এভাবে ঋণের মাধ্যমে খরচ মেটানো হলে বেসরকারি খাত কার্যকরী মূলধন সংকটে পড়বে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে ঋণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪২ হাজার ৮০৮ কোটি টাকা। বিমা কোম্পানি ও ব্যক্তি বিনিয়োগকারীরাও এখন নিশ্চিত মুনাফার আশায় সরকারকে ঋণ দিতে ঝুঁকছেন। সরকারের এই ঋণ নীতি দীর্ঘমেয়াদে বেসরকারি খাতের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 




















