ঢাকা ১১:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

৯ হাজার কোটির রাজস্ব ক্ষতি: দুদকের সাবেক কমিশনারসহ বিটিআরসির ৬ কর্মকর্তাকে তলব

আন্তর্জাতিক ইনকামিং কলের টার্মিনেশন রেট ও রেভিনিউ শেয়ার বেআইনিভাবে কমিয়ে রাষ্ট্রের ৯ হাজার ১০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতিসাধনের মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক কমিশনার মো. জহুরুল হক এবং বিটিআরসির সাবেক দুই চেয়ারম্যানসহ ৬ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে। দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে পাঠানো পৃথক তলবি নোটিশে তাঁদের আগামীকাল ৯ এপ্রিল হাজির হতে বলা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে এই তলব নিশ্চিত করা হয়। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর দুদকের পরিচালক মো. জালাল উদ্দীন আহমেদ বাদী হয়ে এই উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতির মামলাটি দায়ের করেছিলেন।

যাদেরকে তলব করা হয়েছে তারা হলেন—বিটিআরসির সাবেক চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস, সাবেক চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আহসান হাবিব খান (অব.), সাবেক কমিশনার ও পরবর্তীতে দুদকের কমিশনার হওয়া মো. জহুরুল হক, সাবেক কমিশনার মো. রেজাউল কাদের এবং মো. আমিনুল হাসান। মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৮ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে বিটিআরসি কর্তৃপক্ষ সরকারের অনুমোদন ছাড়াই আন্তর্জাতিক কল রেট ০.০৩ ডলার থেকে কমিয়ে ০.০১৫ ডলার করে এবং সরকারের রেভিনিউ শেয়ার ৫১.৭৫ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশে নামিয়ে আনে। এই বেআইনি সিদ্ধান্তের ফলে সরকারের রেভিনিউ শেয়ার বাবদ ৩৮৩ কোটি, কম রেটে কল আনায় ২ হাজার ৯৪১ কোটি এবং বৈদেশিক মুদ্রা না আসায় ৫ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকাসহ মোট ৯ হাজার ১০ কোটি টাকার বিশাল ক্ষতি হয়েছে।

আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশেষ করে মো. জহুরুল হকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের পৃথক অনুসন্ধানও চলমান রয়েছে। তিনি ২০২১ সালে দুদকের কমিশনার হিসেবে যোগদান করেছিলেন এবং ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর পদত্যাগ করেন। এই তদন্তের মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিশাল অংকের আর্থিক ক্ষতির নেপথ্যে থাকা কুশীলবদের ভূমিকা ও মানি লন্ডারিংয়ের গভীরতা উন্মোচিত হবে বলে আশা করছে সংস্থাটি।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

পারমাণবিক ইস্যু অজুহাত, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইরান

৯ হাজার কোটির রাজস্ব ক্ষতি: দুদকের সাবেক কমিশনারসহ বিটিআরসির ৬ কর্মকর্তাকে তলব

আপডেট সময় : ১১:২২:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

আন্তর্জাতিক ইনকামিং কলের টার্মিনেশন রেট ও রেভিনিউ শেয়ার বেআইনিভাবে কমিয়ে রাষ্ট্রের ৯ হাজার ১০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতিসাধনের মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক কমিশনার মো. জহুরুল হক এবং বিটিআরসির সাবেক দুই চেয়ারম্যানসহ ৬ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে। দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে পাঠানো পৃথক তলবি নোটিশে তাঁদের আগামীকাল ৯ এপ্রিল হাজির হতে বলা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে এই তলব নিশ্চিত করা হয়। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর দুদকের পরিচালক মো. জালাল উদ্দীন আহমেদ বাদী হয়ে এই উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতির মামলাটি দায়ের করেছিলেন।

যাদেরকে তলব করা হয়েছে তারা হলেন—বিটিআরসির সাবেক চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস, সাবেক চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আহসান হাবিব খান (অব.), সাবেক কমিশনার ও পরবর্তীতে দুদকের কমিশনার হওয়া মো. জহুরুল হক, সাবেক কমিশনার মো. রেজাউল কাদের এবং মো. আমিনুল হাসান। মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৮ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে বিটিআরসি কর্তৃপক্ষ সরকারের অনুমোদন ছাড়াই আন্তর্জাতিক কল রেট ০.০৩ ডলার থেকে কমিয়ে ০.০১৫ ডলার করে এবং সরকারের রেভিনিউ শেয়ার ৫১.৭৫ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশে নামিয়ে আনে। এই বেআইনি সিদ্ধান্তের ফলে সরকারের রেভিনিউ শেয়ার বাবদ ৩৮৩ কোটি, কম রেটে কল আনায় ২ হাজার ৯৪১ কোটি এবং বৈদেশিক মুদ্রা না আসায় ৫ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকাসহ মোট ৯ হাজার ১০ কোটি টাকার বিশাল ক্ষতি হয়েছে।

আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশেষ করে মো. জহুরুল হকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের পৃথক অনুসন্ধানও চলমান রয়েছে। তিনি ২০২১ সালে দুদকের কমিশনার হিসেবে যোগদান করেছিলেন এবং ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর পদত্যাগ করেন। এই তদন্তের মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিশাল অংকের আর্থিক ক্ষতির নেপথ্যে থাকা কুশীলবদের ভূমিকা ও মানি লন্ডারিংয়ের গভীরতা উন্মোচিত হবে বলে আশা করছে সংস্থাটি।