বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত হেনে July Revolution-এ সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে ২৩তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ আলী। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ এই জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
পেশায় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী জানান, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে চট্টগ্রামের মুরাদপুর চত্বরে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ও জনতার উপস্থিতি দেখে তিনিও স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলনে যোগ দেন। এসময় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা গুলি বর্ষণ শুরু করে। এতে ওয়াসিম আকরাম নামে এক আন্দোলনকারী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন, যিনি ছিলেন চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ। গুলিবিদ্ধ হওয়ার সময় মোহাম্মদ আলী ওয়াসিম আকরামের পাশেই ছিলেন। তিনি আরও জানান, ফারুক ও শান্ত নামে আরও দুই জন গুলিবিদ্ধ হন। ফারুককে নিয়ে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ফারুকের পিঠের বাম পাশে গুলি লেগেছিল।
সাক্ষী মোহাম্মদ আলী তার জবানবন্দিতে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী, সাবেক মেয়র এবং বর্তমান মেয়রসহ কয়েকজন সংসদ সদস্যের নাম উল্লেখ করে বলেন, তাদের উস্কানি ও নির্দেশে বাবর আলী, নুরুল আজীম রনি, মো. আজিজ, বাইট্টা জাফর প্রমুখ ছাত্র-জনতার উপর গুলি চালায়। তিনি আরও বলেন, তৎকালীন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছিলেন যে আন্দোলনকারীদের দমনের জন্য ছাত্রলীগই যথেষ্ট। এসময় বাহাউদ্দীন নাছিম ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন এবং হাত তুলে তার বক্তব্য সমর্থন করেন।
মোহাম্মদ আলী জানান, তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য দেখেছেন যেখানে তিনি কারফিউ জারির কথা এবং আন্দোলনকারীরা ঘর থেকে বের হলেই গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এছাড়াও, আরাফাত আন্দোলনকারীদের মাদকাসক্ত বলে উল্লেখ করেছিলেন এবং নিখিল ঢাকার মিরপুরে গুলি চালিয়েছিলেন। সাদ্দাম ইনান ঘরে ঘরে প্রবেশ করে আন্দোলনকারীদের হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন। এই সব উস্কানির ফলেই চট্টগ্রামে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে সাক্ষী উল্লেখ করেন।
এই মামলায় অপর আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, এবং ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।
রিপোর্টারের নাম 























