ঢাকা ০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

প্রকৃতির অনিন্দ্য সুন্দর সৃষ্টি কলম্বিয়ার ‘রঙধনু নদী’

নদী বলতেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে স্বচ্ছ পানির ধারা। কিন্তু যদি শোনেন কোনো নদীতে বইছে সাত রঙের পানি, তবে অবাক হওয়াটাই স্বাভাবিক। কলম্বিয়ার মেটা প্রদেশের ডি লা ম্যাকারেনায় অবস্থিত ‘ক্যানু ক্রিস্টেলস’ এমনই এক বিস্ময়কর নদী। এর মোহনীয় সৌন্দর্যের কারণে একে ‘রঙধনু নদী’ বা ‘স্বর্গ থেকে প্রবাহিত নদী’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।

এই নদীটি মূলত গায়াবেরো নদীর একটি শাখা। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, এই অঞ্চলটি প্রায় ১০০ কোটি বছরেরও বেশি পুরোনো, যা একে পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন স্থানে পরিণত করেছে। নদীটির বিচিত্র রঙের পেছনে রয়েছে এক বিশেষ বৈজ্ঞানিক কারণ। এর তলদেশে ‘ম্যাকারেনিয়া ক্লাভিগেরা’ নামক এক প্রকার জলজ উদ্ভিদ জন্মে। সূর্যের আলোর তীব্রতা ও কোণ অনুযায়ী এই উদ্ভিদগুলো লাল, নীল, হলুদ বা সবুজ রঙ ধারণ করে, যা পানির উপরিভাগ থেকে সাত রঙের আভা তৈরি করে।

দুর্গম এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় এই নদীতে পৌঁছানো বেশ কষ্টসাধ্য। পর্যটকদের দীর্ঘ পথ হেঁটে এখানে আসতে হয়। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই নদীতে কোনো মাছ বা জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব নেই। ফলে পর্যটকরা কোনো ধরনের ভয় ছাড়াই এই স্বচ্ছ ও রঙিন পানিতে সাঁতার কাটার সুযোগ পান। প্রতি বছর অসংখ্য ভ্রমণপিপাসু এই ‘তরল রঙধনু’ দেখতে কলম্বিয়ার এই গহীন অরণ্যে ভিড় জমান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনে শক্তিশালী টাইফুন ‘বাভি’র আঘাত: ২ হাজার ৮০০ ফ্লাইট বাতিল, স্থবির জনজীবন

প্রকৃতির অনিন্দ্য সুন্দর সৃষ্টি কলম্বিয়ার ‘রঙধনু নদী’

আপডেট সময় : ০১:১৫:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

নদী বলতেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে স্বচ্ছ পানির ধারা। কিন্তু যদি শোনেন কোনো নদীতে বইছে সাত রঙের পানি, তবে অবাক হওয়াটাই স্বাভাবিক। কলম্বিয়ার মেটা প্রদেশের ডি লা ম্যাকারেনায় অবস্থিত ‘ক্যানু ক্রিস্টেলস’ এমনই এক বিস্ময়কর নদী। এর মোহনীয় সৌন্দর্যের কারণে একে ‘রঙধনু নদী’ বা ‘স্বর্গ থেকে প্রবাহিত নদী’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।

এই নদীটি মূলত গায়াবেরো নদীর একটি শাখা। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, এই অঞ্চলটি প্রায় ১০০ কোটি বছরেরও বেশি পুরোনো, যা একে পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন স্থানে পরিণত করেছে। নদীটির বিচিত্র রঙের পেছনে রয়েছে এক বিশেষ বৈজ্ঞানিক কারণ। এর তলদেশে ‘ম্যাকারেনিয়া ক্লাভিগেরা’ নামক এক প্রকার জলজ উদ্ভিদ জন্মে। সূর্যের আলোর তীব্রতা ও কোণ অনুযায়ী এই উদ্ভিদগুলো লাল, নীল, হলুদ বা সবুজ রঙ ধারণ করে, যা পানির উপরিভাগ থেকে সাত রঙের আভা তৈরি করে।

দুর্গম এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় এই নদীতে পৌঁছানো বেশ কষ্টসাধ্য। পর্যটকদের দীর্ঘ পথ হেঁটে এখানে আসতে হয়। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই নদীতে কোনো মাছ বা জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব নেই। ফলে পর্যটকরা কোনো ধরনের ভয় ছাড়াই এই স্বচ্ছ ও রঙিন পানিতে সাঁতার কাটার সুযোগ পান। প্রতি বছর অসংখ্য ভ্রমণপিপাসু এই ‘তরল রঙধনু’ দেখতে কলম্বিয়ার এই গহীন অরণ্যে ভিড় জমান।