গ্রামের ছোট একটি বাজার, যার নাম ‘বাংলা বাজার’, সেখানে নতুন বছরের শুরুতে ঐতিহ্যবাহী হালখাতার আয়োজন করা হয়েছে। বাজারের নামকরণের পেছনেও রয়েছে এক ভিন্ন গল্প। প্রবাসে যাওয়া গ্রামের মানুষদের কাজের দেশের নামে যেমন বাজারের নামকরণ হয়, তেমনি এই গ্রামের কেউ বিদেশে না থাকায়, স্কুল মাঠের পাশে নতুন দোকান গড়ে উঠলে মুরব্বিরা আক্ষেপ করে এর নাম দিয়েছিলেন ‘বাংলাদেশ বাজার’। তবে সময়ের সাথে সাথে ‘বাংলাদেশ বাজার’ নামটি পরিবর্তিত হয়ে ‘বাংলা বাজার’ নামে পরিচিতি লাভ করে।
এই বাজারের সবচেয়ে জনপ্রিয় দোকানটি ইউনূস মিয়ার। নতুন বছরের প্রথম দিনে, গতকাল রাত জেগে দোকান সাজানোর পর আজ সকালে তিনি দোকান খুলে বসেছেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই গরম জিলাপি ও বাতাসা এসে পৌঁছাবে। ইউনূস মিয়া নতুন বছরের জন্য লাল কাপড়ে মোড়ানো নতুন খাতাগুলো সামনে নিয়ে বসেছেন, পাশে রাখা আছে পুরনো হিসাবের খাতাগুলো। বেলা বাড়ার সাথে সাথে তার খদ্দেররা আসতে শুরু করবে, যারা পুরনো হিসাব চুকিয়ে নতুন খাতায় হিসাব খুলবে। গত বছর বকেয়া কিছুটা বেশি জমেছে, তবে তিনি আশাবাদী যে তার নিয়মিত খদ্দেররা অন্তত কিছু টাকা হলেও শোধ করবে।
হালখাতার দিনে এই বাজারে এক বিশেষ রেওয়াজ প্রচলিত। দোকান খোলার আগে ইউনূস মিয়া খাতার ওপর হালকা করে আতর ছিটিয়ে দেন, যা নতুন শুরুর প্রতীক। এরপর প্রথম পাতায় ‘বিসমিল্লাহ’ লিখে তিনি দোকানের সামনে পরিষ্কার করা জায়গায় খদ্দেরদের জন্য মিষ্টিমুখের ব্যবস্থা করেন। আজ অন্তত কিছু বকেয়া শোধ হবে, এমনটাই বিশ্বাস ইউনূসের। দোকানের একমাত্র কর্মচারী শফিকুল বাতাসা ও জিলাপি নিয়ে আসে।
ইউনূসের দোকানে প্রথম খদ্দের হিসেবে আসেন উত্তরপাড়ার সরকার বাড়ির শতবর্ষী জমিরুদ্দিন সরকার। ইউনূস মিয়া তাকে দোকানের সামনের বেঞ্চিতে বসতে সাহায্য করেন। জমিরুদ্দিন সরকারের ছেলেরা ঢাকায় বড় চাকরি করলেও, তার নামের পাশে বেশ ভালো পরিমাণ বকেয়া জমেছে, যা ইউনূসের হিসাবের খাতায় দেখা যাচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 





















