ঢাকা ১০:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

সিকেডি হাসপাতালে চাঁদাবাজি: সাবেক যুবদল নেতা মঈনসহ ৩ জন ৩ দিনের রিমান্ডে

রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত কিডনি চিকিৎসক কামরুল ইসলামের ‘সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি’ (সিকেডি) হাসপাতালে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মূল হোতা সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিনসহ তিনজনকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জমসেদ আলমের আদালত এই রিমান্ডের আদেশ দেন। রিমান্ডে যাওয়া অপর দুই আসামি হলেন এমবি স্বপন কাজী ও মো. শাওন হোসেন।

এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক মো. ছাব্বির আহমেদ আসামিদের আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক দিদার রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড আবেদন বাতিলপূর্বক জামিনের আবেদন জানান। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত ১১ এপ্রিল সিকেডি হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার ইনচার্জ মো. আবু হানিফ বাদী হয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিনকে প্রধান আসামি এবং তার সাত-আটজন সহযোগীকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে। এর আগে, আসামি মঈনের চার সহযোগী মো. ফালান মিয়া, মো. রুবেল, ফারুক হোসেন সুমন ও মো. লিটন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আদালত তাদের চার দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছিলেন।

মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন যে, মঈন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। দাবি করা চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে আসামিরা তাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ এপ্রিল সকালে শেরেবাংলা নগর থানার শ্যামলী ৩ নম্বর রোডে বাদীর বাসার সামনে এসে দরজা খুলতে বলে। বাদীর স্ত্রী দরজা খুলে দিলে মঈন তার স্ত্রীকে হুমকি দিয়ে বলে যে, চাঁদাবাবদ এখনই তাদের পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে, অন্যথায় আমিসহ তার স্ত্রীর বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির হুমকি দেয়। বাদীর স্ত্রী চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে। এজাহারে আরও বলা হয়, এসময় বাদী বাসার অন্য একটি রুমে অবস্থান করছিলেন এবং পরিস্থিতির অবনতি আঁচ করতে পেরে হাসপাতালে অবস্থানরত তার ছোট ভাই মো. মনির তালুকদারকে (৩৫) বাসায় আসতে ফোন করেন। পরে তার ভাই বাসায় পৌঁছালে মঈনসহ অজ্ঞাত সাত-আট জন ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে আরও লোকজন জড়ো করতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লেবাননে হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় ১১ ইসরাইলি সেনা আহত, আশঙ্কাজনক ৩

সিকেডি হাসপাতালে চাঁদাবাজি: সাবেক যুবদল নেতা মঈনসহ ৩ জন ৩ দিনের রিমান্ডে

আপডেট সময় : ০৭:০৭:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত কিডনি চিকিৎসক কামরুল ইসলামের ‘সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি’ (সিকেডি) হাসপাতালে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মূল হোতা সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিনসহ তিনজনকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জমসেদ আলমের আদালত এই রিমান্ডের আদেশ দেন। রিমান্ডে যাওয়া অপর দুই আসামি হলেন এমবি স্বপন কাজী ও মো. শাওন হোসেন।

এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক মো. ছাব্বির আহমেদ আসামিদের আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক দিদার রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড আবেদন বাতিলপূর্বক জামিনের আবেদন জানান। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত ১১ এপ্রিল সিকেডি হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার ইনচার্জ মো. আবু হানিফ বাদী হয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিনকে প্রধান আসামি এবং তার সাত-আটজন সহযোগীকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে। এর আগে, আসামি মঈনের চার সহযোগী মো. ফালান মিয়া, মো. রুবেল, ফারুক হোসেন সুমন ও মো. লিটন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আদালত তাদের চার দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছিলেন।

মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন যে, মঈন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। দাবি করা চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে আসামিরা তাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ এপ্রিল সকালে শেরেবাংলা নগর থানার শ্যামলী ৩ নম্বর রোডে বাদীর বাসার সামনে এসে দরজা খুলতে বলে। বাদীর স্ত্রী দরজা খুলে দিলে মঈন তার স্ত্রীকে হুমকি দিয়ে বলে যে, চাঁদাবাবদ এখনই তাদের পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে, অন্যথায় আমিসহ তার স্ত্রীর বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির হুমকি দেয়। বাদীর স্ত্রী চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে। এজাহারে আরও বলা হয়, এসময় বাদী বাসার অন্য একটি রুমে অবস্থান করছিলেন এবং পরিস্থিতির অবনতি আঁচ করতে পেরে হাসপাতালে অবস্থানরত তার ছোট ভাই মো. মনির তালুকদারকে (৩৫) বাসায় আসতে ফোন করেন। পরে তার ভাই বাসায় পৌঁছালে মঈনসহ অজ্ঞাত সাত-আট জন ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে আরও লোকজন জড়ো করতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়।