ঢাকা ১০:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

কাঁচামাল সংকটে বন্ধ দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার: উৎপাদন তলানিতে

অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বা ক্রুড অয়েলের তীব্র সংকটের কারণে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি (ইআরএল)-এর প্রধান দুটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে একটি ছোট প্লান্ট চালু রাখা হয়েছে, যা থেকে দৈনিক মাত্র ১২০ টন ডিজেল ও ১০০ টন পেট্রোল উৎপাদন হচ্ছে।

ইস্টার্ন রিফাইনারি সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে আর কোনো ক্রুড অয়েল আমদানি করা সম্ভব হয়নি। এই কাঁচামাল সংকটের ফলে গত মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে শোধনাগারের সবকটি প্লান্টই সীমিত পরিসরে (লো ক্যাপাসিটি) চালানো হচ্ছিল। মঙ্গলবার সকালে ক্রুড অয়েলের মজুদ একেবারে তলানিতে (ডেড স্টক) পৌঁছে যাওয়ায় বড় প্লান্ট দুটি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধারণত ট্যাংকের তলানির প্রায় ১.৫ মিটার পর্যন্ত মজুদকে ডেড স্টক হিসেবে গণ্য করা হয়। গত রবিবার বিকেলে মজুদের পরিমাণ এই ডেড স্টক স্পর্শ করে। এরপরও একদিন প্লান্ট চালু রাখা হয়েছিল। অবশেষে মঙ্গলবার দুপুর থেকে প্রধান দুটি প্লান্ট বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে ইআরএল-এর ক্রুড মজুত এক মিটারের কাছাকাছি রয়েছে।

বিপিসি’র অপারেশন বিভাগের জিএম মোরশেদ আজাদ জানিয়েছেন, বর্তমানে একটি প্লান্ট চালু আছে এবং এটি থেকে বিপণন প্রতিষ্ঠানগুলোকে দৈনিক ১০০ টন পেট্রোল ও ১২০ টন ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, এই প্লান্টটি বর্তমান মজুদের ওপর ভিত্তি করে আরও ১৫ দিন চালু রাখা সম্ভব। আগামী ৫ মে ক্রুড অয়েলের একটি নতুন চালান আসার কথা রয়েছে। সেই চালানটি এসে পৌঁছালে শোধনাগারের সবগুলো প্লান্ট পুরোদমে চালু করা সম্ভব হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নীলফামারীতে মন্দিরের উঠান থেকে কৃষকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার, এলাকায় চাঞ্চল্য

কাঁচামাল সংকটে বন্ধ দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার: উৎপাদন তলানিতে

আপডেট সময় : ০৭:০৮:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বা ক্রুড অয়েলের তীব্র সংকটের কারণে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি (ইআরএল)-এর প্রধান দুটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে একটি ছোট প্লান্ট চালু রাখা হয়েছে, যা থেকে দৈনিক মাত্র ১২০ টন ডিজেল ও ১০০ টন পেট্রোল উৎপাদন হচ্ছে।

ইস্টার্ন রিফাইনারি সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে আর কোনো ক্রুড অয়েল আমদানি করা সম্ভব হয়নি। এই কাঁচামাল সংকটের ফলে গত মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে শোধনাগারের সবকটি প্লান্টই সীমিত পরিসরে (লো ক্যাপাসিটি) চালানো হচ্ছিল। মঙ্গলবার সকালে ক্রুড অয়েলের মজুদ একেবারে তলানিতে (ডেড স্টক) পৌঁছে যাওয়ায় বড় প্লান্ট দুটি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধারণত ট্যাংকের তলানির প্রায় ১.৫ মিটার পর্যন্ত মজুদকে ডেড স্টক হিসেবে গণ্য করা হয়। গত রবিবার বিকেলে মজুদের পরিমাণ এই ডেড স্টক স্পর্শ করে। এরপরও একদিন প্লান্ট চালু রাখা হয়েছিল। অবশেষে মঙ্গলবার দুপুর থেকে প্রধান দুটি প্লান্ট বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে ইআরএল-এর ক্রুড মজুত এক মিটারের কাছাকাছি রয়েছে।

বিপিসি’র অপারেশন বিভাগের জিএম মোরশেদ আজাদ জানিয়েছেন, বর্তমানে একটি প্লান্ট চালু আছে এবং এটি থেকে বিপণন প্রতিষ্ঠানগুলোকে দৈনিক ১০০ টন পেট্রোল ও ১২০ টন ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, এই প্লান্টটি বর্তমান মজুদের ওপর ভিত্তি করে আরও ১৫ দিন চালু রাখা সম্ভব। আগামী ৫ মে ক্রুড অয়েলের একটি নতুন চালান আসার কথা রয়েছে। সেই চালানটি এসে পৌঁছালে শোধনাগারের সবগুলো প্লান্ট পুরোদমে চালু করা সম্ভব হবে।