ঢাকা ১০:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

সম্রাট আকবরের দরবারে রাজস্ব আদায় ও রাজ্য শাসনের আলোচনা

সম্রাট আকবর এক সন্ধ্যায় হরিণ শিকার করতে গিয়ে মিনারের উপর থেকে শিকারির লক্ষ্যস্থির করা তির এবং হরিণ শাবকের বিচরণ পর্যবেক্ষণ করছিলেন। এই সময় তানসেনের গানের ধুয়া তাকে মোহাচ্ছন্ন করে তোলে। এরপর তিনি হরিণ শাবকের বিস্তীর্ণ অরণ্যে বিচরণ অবলোকন করে ধনুক ও তীর পাশে রেখে গদিতে গা এলিয়ে দেন, সম্ভবত কল্পনায় ব্যুহ রচনা করছিলেন।

হঠাৎ সম্রাট বলে উঠলেন, ‘বাংলা থেকে খাজনা কি বারওয়াক্ত এসেছে রাজা দিওয়ান-ই-আশরাফ?’ আকবরের নবরত্নের অন্যতম অর্থমন্ত্রী টোডরমল, যিনি হয়তো আশপাশের শান্ত পরিবেশে অবচেতন হয়ে পড়েছিলেন, উত্তর দিতে কিছুটা দেরি করলেন। তিনি জানালেন, ‘খোদাবন্দ জিল-ই-ইলাহি, এখনো আসেনি। আশা করছি শিগগির কোষাগারে জমা হবে।’

সম্রাট দীর্ঘক্ষণ চুপ থেকে বললেন, ‘গত কয়েক সন থেকেই দেখছি এমন অবস্থা। বিদ্রোহ দানা বেঁধে উঠছে না তো! আপনার কী ধারণা?’ প্রশ্নটি কাকে করা হয়েছে তা বুঝতে পেরে, সৈয়দ মীর ফতহুল্লাহ শিরাজী উত্তর দিলেন, ‘শাহেনশাহ-ই-আলা, আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানের বয়ান এই, রায়তদের ফসল এখনো ঘরে ওঠেনি। তাই এত দেরি।’

সম্রাট আকবর রাজ্য নিয়ে আলোচনা চালিয়ে গেলেন। তিনি সেদিন হরিণ মিনারে শিকার করতে গিয়ে উদ্ভূত সমস্যা এবং তার ভাবনা সভাসদদের কাছে বলেছিলেন। দশম রত্ন ফতহুউল্লাহ শিরাজি নীরবে শুনে গিয়েছিলেন, যদিও তার ঠোঁট কম চলত, কিন্তু ক্ষুরধার মস্তিষ্ক ঐতিহাসিক সমাধান খুঁজে পেয়েছিল।

বেশ কয়েক পক্ষ পর একদিন সম্রাট তার দরবারে বসেছিলেন। একে একে সব সভাসদ সালাম জানিয়ে বিদায় নিলেও বসে রইলেন ফতহুউল্লাহ শিরাজী এবং দেওয়ান টোডরমল। সম্রাট মুচকি হেসে দুই রত্নকে কাছে বসালেন। টোডরমল মাথা নেড়ে শিরাজীকে ইঙ্গিত করলেন। শিরাজী বললেন, ‘জাহাঁপনা, সমস্যার মূল সুতো গিয়ে ঠেকেছে সূর্য আর চন্দ্রে। সমস্যাটি তানসেনের সুরের মতোই বোধগম্য কিন্তু আব্দুল রহিম খান-ই-খানানের দোহার মতোই দুর্বোধ্য।’

শিরাজীর কথা শুনে এবার সশব্দে হাসলেন আকবর। রসিকতা করে বললেন, ‘বীরবল থাকলে মনে শঙ্কা লাগত বৈকি, ওর চাকরি বুঝি এবার গেল!’ টোডরমল হেসে ফেললেও শিরাজী শান্ত রইলেন, কারণ তিনি জানতেন সমাধানের দুর্বোধ্যতা ভেদ করা গেলেও বাস্তবায়ন অনেক কঠিন হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নীলফামারীতে মন্দিরের উঠান থেকে কৃষকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার, এলাকায় চাঞ্চল্য

সম্রাট আকবরের দরবারে রাজস্ব আদায় ও রাজ্য শাসনের আলোচনা

আপডেট সময় : ০৭:১০:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

সম্রাট আকবর এক সন্ধ্যায় হরিণ শিকার করতে গিয়ে মিনারের উপর থেকে শিকারির লক্ষ্যস্থির করা তির এবং হরিণ শাবকের বিচরণ পর্যবেক্ষণ করছিলেন। এই সময় তানসেনের গানের ধুয়া তাকে মোহাচ্ছন্ন করে তোলে। এরপর তিনি হরিণ শাবকের বিস্তীর্ণ অরণ্যে বিচরণ অবলোকন করে ধনুক ও তীর পাশে রেখে গদিতে গা এলিয়ে দেন, সম্ভবত কল্পনায় ব্যুহ রচনা করছিলেন।

হঠাৎ সম্রাট বলে উঠলেন, ‘বাংলা থেকে খাজনা কি বারওয়াক্ত এসেছে রাজা দিওয়ান-ই-আশরাফ?’ আকবরের নবরত্নের অন্যতম অর্থমন্ত্রী টোডরমল, যিনি হয়তো আশপাশের শান্ত পরিবেশে অবচেতন হয়ে পড়েছিলেন, উত্তর দিতে কিছুটা দেরি করলেন। তিনি জানালেন, ‘খোদাবন্দ জিল-ই-ইলাহি, এখনো আসেনি। আশা করছি শিগগির কোষাগারে জমা হবে।’

সম্রাট দীর্ঘক্ষণ চুপ থেকে বললেন, ‘গত কয়েক সন থেকেই দেখছি এমন অবস্থা। বিদ্রোহ দানা বেঁধে উঠছে না তো! আপনার কী ধারণা?’ প্রশ্নটি কাকে করা হয়েছে তা বুঝতে পেরে, সৈয়দ মীর ফতহুল্লাহ শিরাজী উত্তর দিলেন, ‘শাহেনশাহ-ই-আলা, আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানের বয়ান এই, রায়তদের ফসল এখনো ঘরে ওঠেনি। তাই এত দেরি।’

সম্রাট আকবর রাজ্য নিয়ে আলোচনা চালিয়ে গেলেন। তিনি সেদিন হরিণ মিনারে শিকার করতে গিয়ে উদ্ভূত সমস্যা এবং তার ভাবনা সভাসদদের কাছে বলেছিলেন। দশম রত্ন ফতহুউল্লাহ শিরাজি নীরবে শুনে গিয়েছিলেন, যদিও তার ঠোঁট কম চলত, কিন্তু ক্ষুরধার মস্তিষ্ক ঐতিহাসিক সমাধান খুঁজে পেয়েছিল।

বেশ কয়েক পক্ষ পর একদিন সম্রাট তার দরবারে বসেছিলেন। একে একে সব সভাসদ সালাম জানিয়ে বিদায় নিলেও বসে রইলেন ফতহুউল্লাহ শিরাজী এবং দেওয়ান টোডরমল। সম্রাট মুচকি হেসে দুই রত্নকে কাছে বসালেন। টোডরমল মাথা নেড়ে শিরাজীকে ইঙ্গিত করলেন। শিরাজী বললেন, ‘জাহাঁপনা, সমস্যার মূল সুতো গিয়ে ঠেকেছে সূর্য আর চন্দ্রে। সমস্যাটি তানসেনের সুরের মতোই বোধগম্য কিন্তু আব্দুল রহিম খান-ই-খানানের দোহার মতোই দুর্বোধ্য।’

শিরাজীর কথা শুনে এবার সশব্দে হাসলেন আকবর। রসিকতা করে বললেন, ‘বীরবল থাকলে মনে শঙ্কা লাগত বৈকি, ওর চাকরি বুঝি এবার গেল!’ টোডরমল হেসে ফেললেও শিরাজী শান্ত রইলেন, কারণ তিনি জানতেন সমাধানের দুর্বোধ্যতা ভেদ করা গেলেও বাস্তবায়ন অনেক কঠিন হবে।