ঢাকা ১০:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

প্রতি জেলায় গ্রামীণ ক্রীড়া উৎসব আয়োজনের ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে রাজধানীর পল্টন ময়দান এক বর্ণাঢ্য উৎসবের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। পান্তা-ইলিশ, ঢাক-ঢোল এবং নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় ‘কিউট বৈশাখী ক্রীড়া উৎসব’। এই উৎসবের উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী জানান, বাঙালির লোকজ ঐতিহ্য ও গ্রামীণ খেলাধুলাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে সরকার একটি বৃহৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, “মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সহযোগীদের সমন্বয়ে আগামী বৈশাখ থেকে দেশের প্রতিটি জেলায় এই ধরনের গ্রামীণ ক্রীড়া উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হলো নতুন প্রজন্মের কাছে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলোকে পরিচিত করা।”

তিনি আরও বলেন, খেলাধুলাকে কেবল বিনোদন নয়, বরং সামাজিক পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে দেখা হচ্ছে। “খেলাধুলা ও উৎসবের মাধ্যমে আমাদের তরুণ প্রজন্মের মাঝে দেশপ্রেম জাগ্রত করতে হবে। সমাজের সকল বিশৃঙ্খলা দূর করে একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা মননশীলতা, আন্তরিকতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের মাধ্যমে একটি সুন্দর সমাজ গঠন করে এগিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ।”

নারী ক্রীড়াবিদদের উন্নয়ন নিয়েও প্রতিমন্ত্রী বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের সমানভাবে এগিয়ে নিতে সরকার কাজ করছে এবং শিগগিরই নারী ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে একটি বড় ঘোষণা আসতে পারে। তার ভাষায়, “নারী ক্রীড়াবিদদের নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে, যা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে বাস্তবায়ন করা হবে।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মাহবুব-উল-আলম। আয়োজনের শেষ পর্যায়ে প্রতিমন্ত্রী প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে অংশ নেওয়া দর্শক ও ক্রীড়াবিদদের ধন্যবাদ জানান। দিনব্যাপী এই উৎসবে গ্রামীণ ও লোকজ খেলাধুলার পাশাপাশি বাংলার ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দর্শকদের বাড়তি আনন্দ দিয়েছে। নতুন পরিকল্পনার এই ঘোষণা দেশের ক্রীড়াঙ্গনে গ্রামীণ খেলাধুলার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলেই আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নীলফামারীতে মন্দিরের উঠান থেকে কৃষকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার, এলাকায় চাঞ্চল্য

প্রতি জেলায় গ্রামীণ ক্রীড়া উৎসব আয়োজনের ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর

আপডেট সময় : ০৭:১০:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে রাজধানীর পল্টন ময়দান এক বর্ণাঢ্য উৎসবের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। পান্তা-ইলিশ, ঢাক-ঢোল এবং নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় ‘কিউট বৈশাখী ক্রীড়া উৎসব’। এই উৎসবের উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী জানান, বাঙালির লোকজ ঐতিহ্য ও গ্রামীণ খেলাধুলাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে সরকার একটি বৃহৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, “মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সহযোগীদের সমন্বয়ে আগামী বৈশাখ থেকে দেশের প্রতিটি জেলায় এই ধরনের গ্রামীণ ক্রীড়া উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হলো নতুন প্রজন্মের কাছে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলোকে পরিচিত করা।”

তিনি আরও বলেন, খেলাধুলাকে কেবল বিনোদন নয়, বরং সামাজিক পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে দেখা হচ্ছে। “খেলাধুলা ও উৎসবের মাধ্যমে আমাদের তরুণ প্রজন্মের মাঝে দেশপ্রেম জাগ্রত করতে হবে। সমাজের সকল বিশৃঙ্খলা দূর করে একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা মননশীলতা, আন্তরিকতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের মাধ্যমে একটি সুন্দর সমাজ গঠন করে এগিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ।”

নারী ক্রীড়াবিদদের উন্নয়ন নিয়েও প্রতিমন্ত্রী বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের সমানভাবে এগিয়ে নিতে সরকার কাজ করছে এবং শিগগিরই নারী ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে একটি বড় ঘোষণা আসতে পারে। তার ভাষায়, “নারী ক্রীড়াবিদদের নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে, যা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে বাস্তবায়ন করা হবে।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মাহবুব-উল-আলম। আয়োজনের শেষ পর্যায়ে প্রতিমন্ত্রী প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে অংশ নেওয়া দর্শক ও ক্রীড়াবিদদের ধন্যবাদ জানান। দিনব্যাপী এই উৎসবে গ্রামীণ ও লোকজ খেলাধুলার পাশাপাশি বাংলার ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দর্শকদের বাড়তি আনন্দ দিয়েছে। নতুন পরিকল্পনার এই ঘোষণা দেশের ক্রীড়াঙ্গনে গ্রামীণ খেলাধুলার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলেই আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।